আরও বাড়বে জ্বালানির দাম! কোথায় পৌঁছবে পেট্রোল-ডিজেলের রেট? সামনে এল রিপোর্ট

Published on:

Published on:

Petrol-Diesel prices may increase further, what does the report say?
Follow

বাংলা হান্ট ডেস্ক: সাম্প্রতিক সময়ে পেট্রোল ও ডিজেলের (Petrol-Diesel Prices) মূল্যবৃদ্ধির ফলে অর্থনীতিতে মুদ্রাস্ফীতির চাপ বৃদ্ধির সম্ভাবনা রয়েছে। যার ফলে আগামী মাসগুলিতে পরিবহণ ও উৎপাদন খরচ বৃদ্ধি পেতে পারে এবং ভোগ্যপণ্যের দামও আরও বেড়ে যেতে পারে। ইতিমধ্যেই রেটিং এজেন্সি ক্রিসিল মঙ্গলবার প্রকাশিত এক রিপোর্টে এই অনুমানটি করেছে।

কোথায় পৌঁছবে পেট্রোল-ডিজেলের রেট (Petrol-Diesel Prices)?

ওই রিপোর্টে বলা হয়েছে যে, গত ১৫ মে থেকে পেট্রোল ও ডিজেলের দাম লিটার প্রতি প্রায় ৭.৫ টাকা বেড়েছে এবং অপরিশোধিত তেলের দাম উচ্চ পর্যায়ে থাকলে অদূর ভবিষ্যতে এই বৃদ্ধি লিটার প্রতি ১০ টাকা পর্যন্ত পৌঁছতে পারে। ক্রিসিলের মতে, এর প্রভাব পুরো অর্থনীতিতে প্রতিফলিত হবে পরিবহণ খরচ বৃদ্ধির মাধ্যমে। যার ফলে খাদ্য ও অন্যান্য পণ্যের দাম বাড়বে।

Petrol-Diesel prices may increase further, what does the report say?

নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের দাম বাড়তে পারে: রিপোর্ট অনুসারে, জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধি মুদ্রাস্ফীতির ওপর সরাসরি প্রভাব ফেলবে। প্রতি লিটার জ্বালানির দাম ৭.৫ টাকা বৃদ্ধির ফলে খুচরো মুদ্রাস্ফীতি প্রায় ০.৩৬ শতাংশ বাড়তে পারে। যদি জ্বালানির দাম প্রতি লিটারে ১০ টাকা বেড়ে যায়, তাহলে খুচরো মুদ্রাস্ফীতি প্রায় ০.৪৮ শতাংশ বাড়তে পারে। রিপোর্টে আরও জানানো হয়েছে, জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধির সবচেয়ে বেশি প্রভাব পড়বে সড়ক পরিবহণের ওপর। কারণ এক্ষেত্রে খরচের প্রায় ৪২ শতাংশই জ্বালানির উপর নির্ভরশীল। এর ফলে পণ্য পরিবহণ ব্যয়বহুল হয়ে উঠবে এবং তা নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দামকে প্রভাবিত করবে। জানিয়ে রাখ যে, পরিসংখ্যান অনুযায়ী, দেশের প্রায় ৭১ শতাংশ পণ্য পরিবহণ শুধু সড়কপথেই হয়ে থাকে।

আরও পড়ুন: টিম ইন্ডিয়ায় হচ্ছে বৈভব সূর্যবংশীর ডেবিউ? চিফ সিলেক্টর অজিত আগরকারকে কী জানাল BCCI?

ফের টান পড়বে পকেটে: ক্রিসিলের মতে, ক্রমবর্ধমান পরিবহণ খরচের কারণে দুধ, ফল, ডাল, চা-কফি, মশলা, ডিম, মাংস এবং মাছের মতো খাদ্যপণ্যের দাম বাড়তে পারে। কারণ এগুলি পরিবহণ নেটওয়ার্কের উপর ব্যাপকভাবে নির্ভরশীল। রিপোর্ট অনুযায়ী, রাসায়নিক, কয়লা এবং ধাতু সেক্টর মুদ্রাস্ফীতির দ্বারা প্রভাবিত হবে। এছাড়াও, বস্ত্র, কনজিউমার ইলেকট্রনিক্স, কাঠের পণ্য, সিমেন্ট এবং সিরামিকের মতো সেক্টরেও খরচ বাড়বে। এমন পরিস্থিতিতে, কোম্পানিগুলি খরচের বোঝা গ্রাহকদের ওপর চাপিয়ে দিতে পারে অথবা পণ্যের পরিমাণ কমিয়ে দিতে পারে। ২০২৫-এর সেপ্টেম্বরে GST হার কমানো কিছুটা স্বস্তি দিলেও সেটি জ্বালানির উচ্চমূল্যের প্রভাবকে পুরোপুরি প্রশমিত করতে পারবে না। রিপোর্ট অনুসারে, চলতি অর্থবর্ষের প্রথম ২ মাসে অপরিশোধিত তেলের গড় মূল্য ছিল ব্যারেল প্রতি ১১২ ডলার। যা পুরো বছরের জন্য ব্যারেল প্রতি ৯৫ ডলারের অনুমানের চেয়ে বেশি।

আরও পড়ুন: অবসরের ৪ বছর পর প্রত্যাবর্তন! ৪৪-এ টেনিস কোর্টে ফের চমক দেখাতে প্রস্তুত সেরেনা উইলিয়ামস

দুর্বল বর্ষা সমস্যা আরও বাড়িয়ে তুলতে পারে: উল্লেখ্য যে, সামগ্রিক মুদ্রাস্ফীতি বর্তমানে ভারতীয় রিজার্ভ ব্যাঙ্কের ৪ শতাংশ লক্ষ্যমাত্রার নিচে থাকলেও, এটি আরও বাড়বে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। তবুও, এটি রিজার্ভ ব্যাঙ্কের ২ থেকে ৬ শতাংশের সীমার মধ্যে থাকতে পারে। রিজার্ভ ব্যাঙ্কের মুদ্রাস্ফীতির গতিপ্রকৃতি মূলত পরিবারের চাহিদা এবং ব্যাপক মূল্যবৃদ্ধির ঝুঁকির ওপর নজর রাখতে থাকবে। এর পাশাপাশি রিপোর্টে বলা হয়েছে যে, রিজার্ভ ব্যাঙ্ক দুর্বল মৌসুমী বায়ু এবং এল নিনোর মতো আবহাওয়া সংক্রান্ত পরিস্থিতির দিকেও নজর রাখবে। যেগুলির কারণে খাদ্য মুদ্রাস্ফীতি বৃদ্ধির সম্ভাবনা রয়েছে।