বাংলা হান্ট ডেস্কঃ কলকাতার বন্দর অবকাঠামো আরও শক্তিশালী করার লক্ষ্য নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই তাজপুরে গভীর সমুদ্র বন্দর তৈরির পরিকল্পনা চলছিল। তবে রাজ্যে নতুন সরকার ক্ষমতায় আসার পর প্রকল্পটির বাস্তব পরিস্থিতি খতিয়ে দেখে ভিন্ন সিদ্ধান্তে পৌঁছেছে। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari) জানিয়ে দিয়েছেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে তাজপুরে সমুদ্র বন্দর তৈরি করা সম্ভব নয়। তবে সেই প্রকল্প পুরোপুরি বাতিল হচ্ছে না। তাজপুরের কাছেই অন্য একটি এলাকায় নতুন করে গভীর সমুদ্র বন্দর গড়ার সম্ভাবনা খতিয়ে দেখা হচ্ছে, যেখানে পর্যাপ্ত সরকারি জমিও রয়েছে।
তাজপুর সমুদ্র বন্দর প্রকল্প নিয়ে বড় বার্তা শুভেন্দুর (Suvendu Adhikari)
বৃহস্পতিবার নবান্নে সাংবাদিক বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari) জানান, সম্প্রতি কেন্দ্রীয় জাহাজ মন্ত্রী শান্তনু ঠাকুরের উপস্থিতিতে রাজ্যের শিপিং ও জলপথ দফতরের সঙ্গে উচ্চ পর্যায়ের বৈঠক হয়েছে। সেই বৈঠকে মুখ্যসচিব, পোর্ট ট্রাস্টের চেয়ারম্যান, শিল্প দফতর, পরিবহন দফতর এবং কলকাতা পুরসভার শীর্ষ আধিকারিকরাও উপস্থিত ছিলেন।
সাংবাদিক বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী (Suvendu Adhikari)বলেন, সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর তাজপুর সি-পোর্ট প্রকল্পটি নতুন করে পর্যালোচনা করা হয়েছে। এ বিষয়ে আদানি গ্রুপের ম্যানেজিং ডিরেক্টর করণ আদানির সঙ্গেও আলোচনা হয়েছে এবং সংস্থার প্রতিনিধিরা এলাকা পরিদর্শন করে গিয়েছেন।
শুভেন্দু অধিকারীর (Suvendu Adhikari) বক্তব্য, তাজপুরে একটি পূর্ণাঙ্গ সমুদ্র বন্দর গড়ে তুলতে হলে উন্নত রেল যোগাযোগ, বড় আকারের ওয়ারহাউস এবং কয়েক হাজার একর জমির প্রয়োজন। এই সব পরিকাঠামোগত চাহিদা পূরণ করা বর্তমানে সম্ভব নয় বলেই মূল্যায়নে উঠে এসেছে। সেই কারণেই নতুন সরকার সিদ্ধান্তে পৌঁছেছে যে তাজপুরে সমুদ্র বন্দর নির্মাণ বাস্তবসম্মত নয়।
তবে এর মধ্যেই বিকল্প পরিকল্পনার কথাও জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী (Suvendu Adhikari)। তিনি বলেন, তাজপুর থেকে প্রায় ১০ কিলোমিটার দূরে দাদনপাত্রবার এলাকায় গভীর সমুদ্র বন্দর গড়ার সম্ভাবনা নিয়ে ভাবনা-চিন্তা চলছে। ওই এলাকায় আগে নুনের কারখানা ছিল এবং সেখানে প্রায় ১৭০০ একর সরকারি জমি রয়েছে। সেই জমিকে কাজে লাগিয়েই ভবিষ্যতের পরিকল্পনা এগিয়ে নিয়ে যেতে চায় রাজ্য সরকার।

আরও পড়ুনঃ বড় সুখবর! এবার কলকাতায় ছুটবে ওয়াটার মেট্রো, ঘোষণা মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দুর
মুখ্যমন্ত্রী (Suvendu Adhikari) আরও দাবি করেন, আগের সরকার তাজপুরে গভীর সমুদ্র বন্দর প্রকল্পের নামে প্রায় ৩০ কোটি টাকা খরচ করেছিল। কিন্তু বাস্তবে সেখানে বন্দর নির্মাণ সম্ভব নয় বলেই এখন স্পষ্ট হয়েছে। তাই নতুন করে দাদনপাত্রবারের সরকারি জমিকে কেন্দ্র করেই সমুদ্র বন্দর প্রকল্পের রূপরেখা তৈরি করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন তিনি।













