‘১৫ বছর ক্ষমতায় থেকে চর্বি জমেছে’, দল ভাঙা বিধায়কদের ‘বিজেমূল’ বলে কটাক্ষ মহুয়া মৈত্রর

Published on:

Published on:

Mahua Moitra stands firm on her position regarding the Matua controversy
Follow

বাংলা হান্ট ডেস্কঃ বিধানসভায় ৫৮ জন বিধায়কের সমর্থন নিয়ে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে নতুন গোষ্ঠী ‘আসল তৃণমূল’ দাবি করার পর থেকেই রাজ্যের রাজনীতিতে তুমুল চর্চা শুরু হয়েছে। তৃণমূলের ভিতরে ভাঙনের জল্পনার মাঝেই এবার মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পাশে দাঁড়িয়ে সরব হলেন কৃষ্ণনগরের সাংসদ মহুয়া মৈত্র (Mahua Moitra)। বিদ্রোহী বিধায়কদের কড়া ভাষায় আক্রমণ করে তিনি দাবি করেছেন, বাংলার মানুষের ভোটে জিতে পরে দল ভাঙা আসলে মানুষের রায়ের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা।

মহুয়া মৈত্রের (Mahua Moitra) পাল্টা আক্রমণ

দলের একের পর এক নেতা-মন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গ ছাড়ার পর তৃণমূলের অন্দরে অস্বস্তি আরও বেড়েছে। তার মধ্যেই বিধানসভার সই-কাণ্ড ঘিরে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের শিবির নিজেদের ‘আসল তৃণমূল’ বলে দাবি করতে শুরু করেছে। তাঁদের পাশে রয়েছেন ৫৮ জন বিধায়কও।

এই পরিস্থিতিতে মহুয়া মৈত্র (Mahua Moitra) বিদ্রোহী শিবিরকে সরাসরি ‘বিজেমূল’ বলে আক্রমণ করেন। তাঁর অভিযোগ, এই বিধায়কেরা যা করেছেন তা বাংলার মানুষের রায়ের প্রতি অসম্মান। তিনি বলেন, গত নির্বাচনে বিজেপি প্রায় ২ কোটি ৯০ লক্ষ ভোট পেয়েছিল। অন্যদিকে তৃণমূল পেয়েছিল প্রায় ২ কোটি ৬০ লক্ষ ভোট। ব্যবধান খুব বেশি ছিল না। তবুও তৃণমূল যে ৮০টি আসনে জিতেছিল, তার মূল কারণ ছিল মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের জনপ্রিয়তা। প্রার্থীদের ব্যক্তিগত প্রভাব বা ক্যারিশ্মার জন্য সেই জয় আসেনি বলেই দাবি করেন তিনি।

প্রসঙ্গত, রাজ্যে রাজনৈতিক পালাবদলের পর থেকেই তৃণমূলের ভিতরে অসন্তোষের খবর সামনে আসছিল। অনেক নেতা প্রকাশ্যে না বললেও অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্ব নিয়ে আপত্তি ছিল বলে রাজনৈতিক মহলে আলোচনা চলছিল। একের পর এক নেতা দল ছাড়ায় সেই জল্পনা আরও জোরালো হয়। তবে সব বিতর্ককে ছাপিয়ে যায় বিধানসভার সই-কাণ্ড। সেই ঘটনার পর পরিষদীয় দলের নিয়ন্ত্রণ কার্যত ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন গোষ্ঠীর হাতে চলে যায়।

‘যাওয়ার থাকলে নতুন প্রতীকেই লড়তেন’

এই ঘটনার প্রেক্ষিতে মহুয়া মৈত্র (Mahua Moitra) প্রশ্ন তুলে বলেন, যাঁদের দল ছাড়ার ইচ্ছা ছিল, তাঁরা নতুন প্রতীক নিয়ে ভোটে লড়তে পারতেন। ভোটের সময় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ছবি ব্যবহার করে জিতে এসে পরে দল ভাঙার সিদ্ধান্ত কেন নেওয়া হল, তা নিয়েই প্রশ্ন তুলেছেন তিনি। তাঁর দাবি, এর পিছনে রাজনৈতিক আদর্শের চেয়ে ব্যক্তিগত স্বার্থই বেশি কাজ করেছে।

বিদ্রোহী বিধায়কদের উদ্দেশ্যে কটাক্ষ করে মহুয়া (Mahua Moitra) বলেন, দীর্ঘ ১৫ বছর ক্ষমতায় থাকার ফলে অনেক নেতারই বিরোধী রাজনীতি করার মানসিকতা আর নেই। বিরোধী দলে থাকলে প্রশাসনিক সুবিধা পাওয়া যায় না, নানা সমস্যার মুখে পড়তে হয়। সেই কারণেই অনেকে শাসক পক্ষের সমর্থন নিয়ে নিজেদের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ সুরক্ষিত করার পথ বেছে নিয়েছেন বলে দাবি তাঁর।

mahua moitra

আরও পড়ুনঃ বন্দর প্রকল্পে বড় আপডেট! তাজপুর নিয়ে শেষমেশ কী সিদ্ধান্ত? জানালেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু

তবে তৃণমূলের এই কঠিন সময়েও নিজের অবস্থান স্পষ্ট করে দিয়েছেন কৃষ্ণনগরের সাংসদ। মহুয়ার (Mahua Moitra) বক্তব্য, তিনি অতীতেও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পাশে ছিলেন, এখনও আছেন এবং আগামীতেও থাকবেন।