বাংলা হান্ট ডেস্কঃ পশ্চিমবঙ্গে নতুন বিজেপি সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর একের পর এক নতুন সিদ্ধান্তের ঘোষণা করা হচ্ছে। এবার রাজ্যের মহিলাদের জন্য চালু হওয়া অন্নপূর্ণা যোজনা (Annapurna Yojana) নিয়ে বড় আপডেট দিল সরকার। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী জানিয়েছেন, ২৮ লক্ষেরও বেশি মহিলার ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে এই প্রকল্পের টাকা পাঠানো হবে। তবে তার আগে আবেদনপত্র জমা দিয়ে যাচাই প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ করতে হবে।
অন্নপূর্ণা যোজনা (Annapurna Yojana) নিয়ে কী জানাল সরকার?
মঙ্গলবার নবান্নে সাংবাদিক বৈঠক করেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। সেখানে অন্নপূর্ণা যোজনার (Annapurna Yojana) সুবিধা পাওয়ার পদ্ধতি নিয়ে বিস্তারিত জানানো হয়। ভিডিওর মাধ্যমে দেখানো হয় কীভাবে ফর্ম পূরণ করতে হবে এবং কীভাবে উপভোক্তাদের অ্যাকাউন্টে টাকা পৌঁছবে।
সরকারের দাবি, প্রথমে নতুন করে ফর্ম নেওয়ার পরিকল্পনা ছিল না। কিন্তু পরে যাচাই করতে গিয়ে দেখা যায়, আগের সরকারের বিভিন্ন প্রকল্পে বহু ভুয়ো অ্যাকাউন্টে টাকা পৌঁছেছে। সেই কারণেই এবার নতুন করে আবেদনপত্র জমা এবং তথ্য যাচাই বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।
মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল জানান, ইতিমধ্যেই ফর্ম বিলি শুরু হয়ে গেছে। পাশাপাশি মঙ্গলবার থেকেই যোগ্য উপভোক্তাদের অ্যাকাউন্টে টাকা পাঠানোর প্রক্রিয়াও শুরু হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ভোটার তালিকা সংশোধনের সময় এমন অনেকের নাম সামনে এসেছে, যাঁদের নাম ভোটার তালিকায় নেই, অথচ তাঁরা বিভিন্ন সরকারি প্রকল্পের সুবিধা পাচ্ছিলেন। এই ধরনের সমস্যা এড়াতেই নতুন করে যাচাইয়ের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
সরকারের হিসাব অনুযায়ী, ২৮ লক্ষ ২৫ হাজারের বেশি মহিলা অন্নপূর্ণা যোজনার (Annapurna Yojana) আওতায় আসবেন। আগামী তিন মাস ধরে ফর্ম জমা ও যাচাইয়ের কাজ চলবে। এছাড়াও প্রতি সাত দিন অন্তর উপভোক্তাদের তালিকা সংশোধন করা হবে বলে জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী।

আরও পড়ুনঃ ‘১৫ বছর ক্ষমতায় থেকে চর্বি জমেছে’, দল ভাঙা বিধায়কদের ‘বিজেমূল’ বলে কটাক্ষ মহুয়া মৈত্রর
এদিন মন্ত্রিসভার বৈঠকে আরও কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। মন্ত্রী দিলীপ ঘোষ ও অগ্নিমিত্রা পাল জানান, ‘মা ক্যান্টিন’-এর নাম বদলে ‘মা আহার’ করা হয়েছে। বর্তমানে ৩৯০টি স্টল রয়েছে, ভবিষ্যতে আরও ১১০টি স্টল খোলা হবে। পাশাপাশি সপ্তাহে দু’দিন মাছ এবং দু’দিন ডিম দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এছাড়া প্রতি বছর ২০ জুন পশ্চিমবঙ্গ দিবস হিসেবে পালন করা হবে। সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়া তৈরির জন্য জমি দেওয়ার প্রস্তাবেও অনুমোদন দিয়েছে রাজ্য সরকার।













