বাংলা হান্ট ডেস্ক : নিজের পায়ে দাঁড়ানোর ইচ্ছা থেকেই ব্যবসার জগতে পা রেখেছিলেন দুর্গাপুরের সুপ্রিয় গঙ্গোপাধ্যায়। বছরের পর বছর সঞ্চয় করে রেস্তোরাঁ খুলেন নাম দেন ‘নবান্ন'(Nabanna)। আর তাতেই শুরু হয় বিপত্তি। ছাত্রাবস্থাতেই ঠিক করে ফেলেছিলেন, চাকরির পিছনে না ছুটে একদিন নিজস্ব রেস্তোরাঁ গড়ে তুলবেন। সেই স্বপ্নের জন্য যে এত বড় মাশুল গুনতে হবে তা তিনি কল্পনা করতে পারেননি।
‘নবান্ন’ (Nabanna) নামেই বিপত্তি
২০০৯ সালে দুর্গাপুরের সিটি সেন্টার এলাকায় চালু হয় সুপ্রিয়বাবুর নতুন রেস্তোরাঁ। বাংলার কৃষিজীবন ও নতুন ফসল ঘিরে প্রচলিত উৎসবের অনুপ্রেরণায় তিনি প্রতিষ্ঠানের নাম দেন ‘নবান্ন’। তখন এই নামের সঙ্গে কোনও বিতর্ক বা প্রশাসনিক জটিলতার প্রশ্নই ওঠেনি। বরং ব্যবসা ধীরে ধীরে জনপ্রিয়তা অর্জন করছিল। কিন্তু কয়েক বছরের মধ্যেই পরিস্থিতি বদলে যায়। রাজ্যের প্রশাসনিক সদর দফতরের নাম ‘নবান্ন’ হওয়ার পর সেই নাম ব্যবহার নিয়ে আপত্তি ওঠে।
সুপ্রিয়র দাবি, সরকারি নির্দেশের কারণেই তাঁকে তার প্রতিষ্ঠানের নাম পরিবর্তন করতে হয়। বহু বছর ধরে পরিচিত একটি ব্র্যান্ডের পরিচয় মুছে ফেলতে বাধ্য হওয়ায় আর্থিক ও মানসিক—দুই ধাক্কাই সামলাতে হয়েছিল তাঁকে। শুধু সাইনবোর্ড বদল করে বিষয়টি শেষ হয়নি। রেস্তোরাঁয় ব্যবহৃত প্লেট, বাটি, পরিবেশন সামগ্রী, কর্মীদের ইউনিফর্ম এবং বিভিন্ন প্রচারসামগ্রীতে পুরনো নাম খোদাই বা মুদ্রিত ছিল। সবকিছু নতুন করে তৈরি করতে গিয়ে প্রায় ১৫ লক্ষ টাকা ব্যয় হয় বলে জানান তিনি।
প্রসঙ্গত, ‘নবান্ন’ নামটির আইনি স্বত্বও আগে থেকেই নিজের নামে নথিভুক্ত করেছিলেন সুপ্রিয়। ২০০৯ সালের ৪ মার্চ তিনি ট্রেডমার্কের স্বীকৃতি পান। তা সত্ত্বেও পরবর্তীতে প্রশাসনিক সিদ্ধান্তের জেরে সমস্যার মুখে পড়তে হয়। ২০১৬ সালের ২৮ জুলাই রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে দুর্গাপুর পুরসভাকে পাঠানো এক চিঠিতে জানানো হয়, ওই নাম আর রেস্তোরাঁর ক্ষেত্রে ব্যবহার করা যাবে না। সরকারি নির্দেশে আরও বলা হয়েছিল, ‘নবান্ন’ এবং ‘উত্তরকন্যা’ নাম দুটি কোনও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের পরিচয় হিসেবে ব্যবহার করা যাবে না। ফলে বিকল্প পথ খুঁজতে বাধ্য হন ওই ব্যবসায়ী। শেষ পর্যন্ত ‘নবান্ন’-এর পরিবর্তে রেস্তোরাঁর নতুন নাম রাখা হয় ‘পার্বণ’। ২০১৭ সাল থেকে সেই নামেই ব্যবসা চালিয়ে আসছেন তিনি।

আরও পড়ুন : আজই হবে বড় কিছু? সব ‘খেলা’ ঘুরিয়ে দিতে পারেন মমতার আস্থাভাজন ফিরহাদ
উল্লেখ্য, সেই সময় সরকারের সিদ্ধান্তকে আদালতে চ্যালেঞ্জ করেননি সুপ্রিয়। তবে ঘটনার স্মৃতি এখনও তাঁর মনে গভীর ক্ষতের মতো রয়ে গেছে। নিজের অনুভূতি প্রকাশ করতে গিয়ে তিনি বলেন, “কীভাবে ঠিক এই ব্যথা বোঝাব, বুঝতে পারছি না। অনেক কষ্ট করেই করেছিলাম। যাঁরা ব্যবসায়ী, তাঁরা বুঝবেন, ব্যবসা কী! নিজের সন্তানের মতো করে লালন পালন করতে হয়। ছোট্ট থেকে বড় করতে হয়, দাঁড় করাতে হয়! করিয়েছিলাম। কিন্তু এক ধাক্কায় ওতগুলো টাকা বেরিয়ে যাওয়া। কী করব, তখন তো আর সরকারের সঙ্গে পাঙ্গা নেওয়া যায় না।” আজও তাঁর কাছে বিষয়টি কেবল একটি নাম পরিবর্তনের ঘটনা নয়। বরং এটি এমন এক অভিজ্ঞতা, যেখানে বহু বছরের পরিশ্রমে গড়ে তোলা পরিচিতি, নতুন করে সাজাতে হয়েছিল প্রশাসনিক সিদ্ধান্তের কারণে।














