বাংলাহান্ট ডেস্ক: চণ্ডীগড়ের বাসিন্দা ডঃ হিমাংশু গান্ধীর সাফল্যের গল্প (Success Story) আজ দেশের স্টার্টআপ জগতে এক অনুপ্রেরণার নাম। সরকারি চাকরির নিরাপদ ও সম্মানজনক ক্যারিয়ার ছেড়ে নিজের স্বপ্নের পথে হাঁটার সাহস দেখিয়েছিলেন তিনি। অনেকেই যখন স্থায়ী চাকরিকে জীবনের সবচেয়ে বড় নিরাপত্তা বলে মনে করেন, তখন হিমাংশু একটি ভিন্ন পথ বেছে নেন। নিজের ভাবনার উপর অগাধ আস্থা রেখে তিনি প্রতিষ্ঠা করেন শিশু পরিচর্যা সামগ্রীর ব্র্যান্ড ‘মাদার স্পর্শ’। শুরুতে এই সিদ্ধান্ত তাঁর পরিবারে উদ্বেগ তৈরি করেছিল। তবে তিনি বিশ্বাস করতেন, সফল ব্যবসা গড়তে হলে শর্টকাট নয়, দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা এবং গ্রাহকদের আস্থা অর্জনই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। সেই বিশ্বাসই আজ তাঁকে দেশের অন্যতম সফল উদ্যোক্তাদের তালিকায় জায়গা করে দিয়েছে।
ডঃ হিমাংশু গান্ধীর অসাধারণ সাফল্যের কাহিনি (Success Story)
২০১৮-১৯ সালের দিকে ‘মাদার স্পর্শ’-এর যাত্রা শুরু হয়। নিজের পিতৃত্বের অভিজ্ঞতা এবং বাজারের প্রয়োজনীয়তা বিশ্লেষণ করেই তিনি এই উদ্যোগ নেন। হিমাংশু লক্ষ্য করেছিলেন, ভারতীয় শিশুযত্ন পণ্যের বাজারে এমন কোনও শক্তিশালী দেশীয় ব্র্যান্ড নেই, যা ভারতের আবহাওয়া, পরিবেশ এবং শিশুদের সংবেদনশীল ত্বকের প্রয়োজন অনুযায়ী পণ্য তৈরি করে। তাঁর মতে, শিশুর যত্নের ক্ষেত্রে বাবা-মায়েরা কখনও শুধু আকর্ষণীয় প্যাকেজিং বা বিজ্ঞাপনের উপর নির্ভর করেন না; তাঁরা নিরাপদ, নির্ভরযোগ্য এবং মানসম্পন্ন পণ্যই খোঁজেন। এই উপলব্ধিই তাঁকে একটি নতুন ব্যবসায়িক সুযোগের সন্ধান দেয় এবং সেখান থেকেই ‘মাদার স্পর্শ’-এর ভিত্তি গড়ে ওঠে (Success Story)।
আরও পড়ুন:বিজেপি সরকারের বড় সিদ্ধান্ত, হাওড়ার গঙ্গাপাড়ে আসছে নজিরবিহীন বদল
স্টার্টআপের শুরুটা মোটেও সহজ ছিল না। শিশু পরিচর্যার মতো সংবেদনশীল এবং প্রতিযোগিতামূলক বাজারে প্রবেশ করতে গিয়ে তাঁকে একাধিক চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হতে হয়। সীমিত মূলধন নিয়ে তিনি নিজের ব্যক্তিগত সঞ্চয়ের উপর নির্ভর করে ব্যবসা শুরু করেন। ব্যয়বহুল বিজ্ঞাপনে অর্থ খরচ করার পরিবর্তে তিনি বাস্তবসম্মত এবং গ্রাহক-কেন্দ্রিক কৌশল গ্রহণ করেন। বিভিন্ন হাসপাতালের মাধ্যমে নতুন বাবা-মায়েদের হাতে সরাসরি পণ্যের নমুনা পৌঁছে দেওয়া, চিকিৎসকদের পরামর্শকে গুরুত্ব দেওয়া এবং গ্রাহকদের প্রতিক্রিয়ার উপর ভিত্তি করে পণ্যের মান উন্নত করার পথ বেছে নেয় সংস্থাটি। এর ফলে ধীরে ধীরে লোকমুখে প্রচার বাড়তে থাকে এবং ব্র্যান্ডটির প্রতি মানুষের আস্থা তৈরি হয়। খুব অল্প সময়ের মধ্যেই ‘মাদার স্পর্শ’ ভারতের প্রিমিয়াম ও বিষমুক্ত শিশুযত্ন পণ্যের বাজারে একটি স্বতন্ত্র পরিচিতি গড়ে তোলে।
এই কৌশলের ফলও আসে দ্রুত। ২০২৪-২৫ অর্থবর্ষে সংস্থাটির রাজস্ব ১৫০ কোটির টাকার গণ্ডি অতিক্রম করে। স্টার্টআপটির দ্রুত উত্থান বিনিয়োগকারীদেরও আকৃষ্ট করে। ভারতের অন্যতম বৃহৎ এফএমসিজি সংস্থা আইটিসি এই ব্র্যান্ডের সম্ভাবনা বুঝে তাদের অংশীদারিত্ব বাড়িয়ে ৪৯.৩ শতাংশে নিয়ে যায়। ব্যবসা বিশ্লেষকদের মতে, একটি স্টার্টআপের প্রতি দেশের অন্যতম শীর্ষ কর্পোরেট সংস্থার এই আস্থা তার দীর্ঘমেয়াদি শক্তি এবং বাজারে গ্রহণযোগ্যতারই প্রমাণ। আগামী অর্থবর্ষে নতুন বাজার ও পণ্য বিভাগে প্রবেশ করে ৪০ থেকে ৫০ শতাংশ প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যও নির্ধারণ করেছে সংস্থাটি।

আরও পড়ুন:বড় সিদ্ধান্ত কেন্দ্রের! পেট্রোল-ডিজেল কেনার ক্ষেত্রে মানতে হবে নতুন নিয়ম, জারি নির্দেশিকা
তবে ডঃ হিমাংশু গান্ধীর স্বপ্ন এখন আর শুধু শিশু পরিচর্যার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নেই। তিনি ‘মাদার স্পর্শ’-কে একটি পূর্ণাঙ্গ পারিবারিক সুস্থতা ও ব্যক্তিগত পরিচর্যা ব্র্যান্ডে পরিণত করতে চান। সেই লক্ষ্যে স্বাস্থ্যবিধি, ব্যক্তিগত যত্ন এবং প্রয়োজনভিত্তিক নতুন পণ্যের উন্নয়নে কাজ চলছে। শুধুমাত্র অনলাইন বিক্রির উপর নির্ভর না করে অফলাইন বাজারেও আরও গভীরভাবে প্রবেশের পরিকল্পনা নিয়েছে সংস্থা। পাশাপাশি গ্রাহকদের সচেতনতা বৃদ্ধি এবং টেকসই প্রবৃদ্ধির উপরও জোর দেওয়া হচ্ছে। সরকারি চাকরি ছেড়ে শুরু হওয়া একটি সাহসী সিদ্ধান্ত আজ ১৫০ কোটিরও বেশি রাজস্বের সফল (Success Story) ব্যবসায় পরিণত হয়েছে, যা প্রমাণ করে যে সঠিক পরিকল্পনা, ধৈর্য এবং আত্মবিশ্বাস থাকলে স্বপ্নকে বাস্তবে রূপ দেওয়া সম্ভব।














