বাংলাহান্ট ডেস্ক: বিধায়কদের সই জাল করার অভিযোগ ঘিরে রাজ্যের রাজনৈতিক মহলে যখন তুমুল চর্চা চলছে, তখন সেই মামলার তদন্তে নতুন মোড় আনল সিআইডি। শুক্রবার কামারহাটির বিধায়ক মদন মিত্রের (Madan Mitra) বাড়িতে গিয়ে তাঁকে নোটিস দিলেন তদন্তকারী আধিকারিকরা। নোটিস পাওয়ার কথা স্বীকার করে নিয়েছেন মদন নিজেও। তাঁর বক্তব্য, তাঁকে এখনও জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তলব করা হয়নি, তবে তদন্ত সংক্রান্ত বিষয়ে সহযোগিতা করার জন্যই এই নোটিস দেওয়া হয়েছে। তৃণমূল কংগ্রেসের একাধিক বিধায়কের স্বাক্ষর জাল করে বিধানসভায় নথি জমা দেওয়ার অভিযোগে ইতিমধ্যেই তদন্ত শুরু হয়েছে এবং সেই তদন্তের পরিধি ক্রমশ বিস্তৃত হচ্ছে বলে মনে করা হচ্ছে।
সই জালকাণ্ডে এবার মদন মিত্রের (Madan Mitra) কাছে পৌঁছল CID-র নোটিস!
এই ঘটনার ঠিক একদিন আগেই তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে দীর্ঘ সময় ধরে জিজ্ঞাসাবাদ করেছে সিআইডি। সূত্রের দাবি, প্রায় সাড়ে পাঁচ ঘণ্টা ধরে চলে সেই জেরা পর্ব। তদন্তকারীদের একাধিক প্রশ্নের সরাসরি উত্তর তিনি দেননি বলেও খবর। এমনকি জেরার সময় কিছু প্রশ্নকে কেন্দ্র করে তাঁর সঙ্গে তদন্তকারীদের বাক্যবিনিময়ও হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। যদিও এ বিষয়ে অভিষেক বা তাঁর আইনজীবীদের তরফে আনুষ্ঠানিক কোনও প্রতিক্রিয়া সামনে আসেনি। তবে তদন্তের গতি ও গুরুত্ব বিচার করে রাজনৈতিক মহলে জল্পনা আরও তীব্র হয়েছে।
আরও পড়ুন: রেঞ্জ ১৮০ কিমি, ৪৫০ কিমির গতি! শত্রুপক্ষের ঘুম উড়িয়ে ভারতীয় সেনা পেল শক্তিশালী ‘অগ্নিবেগ’
অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে জিজ্ঞাসাবাদের রেশ কাটতে না কাটতেই মদন মিত্রকে (Madan Mitra) নোটিস দেওয়ায় নতুন করে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছে এই মামলা। নোটিস পাওয়ার পর সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে মদন বলেন, “আজ সকালে আমাকে একটি নোটিস দেওয়া হয়েছে। আমি নোটিস পেয়েছি। তবে এখনও আমাকে কোথাও ডাকা হয়নি। সিআইডি শুধু জানিয়েছে যে তদন্তের প্রয়োজনে এই নোটিস দেওয়া হচ্ছে।” তদন্ত সূত্রে জানা গিয়েছে, সই জাল সংক্রান্ত মামলায় তাঁর কাছে কিছু তথ্য থাকতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে এবং সেই কারণেই তাঁকে তদন্তে সহযোগিতার জন্য অনুরোধ করা হয়েছে। যদিও এখনও পর্যন্ত তাঁর বিরুদ্ধে কোনও সরাসরি অভিযোগ আনা হয়নি।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বর্তমান পরিস্থিতিতে মদন মিত্র তৃণমূল নেতৃত্বের অন্যতম ঘনিষ্ঠ ও বিশ্বস্ত মুখ হিসেবে পরিচিত। দীর্ঘদিন ধরে তিনি মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের রাজনৈতিক সহযোদ্ধা হিসেবে পরিচিত। দলের অভ্যন্তরে নানা টানাপোড়েন ও মতবিরোধের মধ্যেও তিনি প্রকাশ্যে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রতি নিজের আনুগত্যের কথা বারবার জানিয়েছেন। সেই কারণে তদন্তের এই পর্যায়ে তাঁর কাছে সিআইডির পৌঁছে যাওয়া রাজনৈতিকভাবে তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা। যদিও তৃণমূলের তরফে এখনও এই নোটিস প্রসঙ্গে আনুষ্ঠানিক কোনও প্রতিক্রিয়া দেওয়া হয়নি।

আরও পড়ুন:লাইনে দাঁড়াতে হবে না, ঘরে বসে মোবাইলেই করুন অন্নপূর্ণা ভাণ্ডারের ফর্ম ফিল আপ
উল্লেখ্য, সাম্প্রতিক বিধানসভা নির্বাচনের ফলাফলের পর থেকেই রাজ্যের প্রধান বিরোধী ও শাসক রাজনীতিতে নানা ধরনের অস্থিরতা এবং দলীয় পুনর্গঠনের আলোচনা শুরু হয়েছে। এর মধ্যেই বিধায়কদের সই জাল করে বিধানসভায় নথি জমা দেওয়ার অভিযোগ সামনে আসে, যা নিয়ে তদন্ত শুরু করে সিআইডি। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে একাধিকবার তলব করা হলেও প্রথম তিনটি নোটিসে তিনি হাজিরা দেননি। পরে কলকাতা হাইকোর্টের নির্দেশের পর তিনি ভবানীভবনে উপস্থিত হয়ে জিজ্ঞাসাবাদের মুখোমুখি হন। সেই তদন্তের সূত্র ধরেই এবার মদন মিত্রের (Madan Mitra) কাছে পৌঁছেছে সিআইডি। ফলে আগামী দিনে এই মামলার তদন্ত কোন দিকে এগোয় এবং আরও কোনও রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বের নাম সামনে আসে কি না, সেদিকেই এখন নজর রাজনৈতিক মহল ও সাধারণ মানুষের।














