বাংলাহান্ট ডেস্ক: ভারতের নতুন সেনাপ্রধান হিসেবে দায়িত্ব নিতে চলেছেন ধীরজ শেঠ (Dheeraj Seth)। ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের প্রবেশদ্বার হিসেবে পরিচিত কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ‘চিকেনস নেক’ বা শিলিগুড়ি করিডরকে ঘিরে ক্রমবর্ধমান ভূরাজনৈতিক চ্যালেঞ্জের আবহে দেশের নতুন সেনাপ্রধানের নাম ঘোষণা করল কেন্দ্র সরকার। শনিবার প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের তরফে জানানো হয়েছে, বর্তমান সেনাপ্রধান জেনারেল উপেন্দ্র দ্বিবেদীর উত্তরসূরি হিসেবে লেফটেন্যান্ট জেনারেল ধীরজ শেঠকে নিয়োগ করা হয়েছে। বর্তমানে তিনি ভারতীয় সেনাবাহিনীর উপ-সেনাপ্রধানের দায়িত্ব পালন করছেন। আগামী ৩০ জুন আনুষ্ঠানিকভাবে তিনি দেশের নতুন চিফ অফ আর্মি স্টাফ হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করবেন। প্রতিরক্ষা মহলের মতে, বর্তমান আন্তর্জাতিক পরিস্থিতি এবং সীমান্তে বাড়তে থাকা নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জের প্রেক্ষাপটে এই নিয়োগ অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ।
দেশের সেনাপ্রধান হিসেবে দায়িত্ব নিতে চলেছেন ধীরজ শেঠ (Dheeraj Seth)
দীর্ঘ সামরিক জীবনে লেফটেন্যান্ট জেনারেল ধীরজ শেঠ (Dheeraj Seth) দেশের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ও সংবেদনশীল এলাকায় নেতৃত্ব দেওয়ার অভিজ্ঞতা অর্জন করেছেন। তিনি মরু অঞ্চলে একটি আর্মার্ড রেজিমেন্টের নেতৃত্ব দেওয়ার পাশাপাশি পশ্চিম সীমান্তে একটি আর্মার্ড ব্রিগেড এবং জম্মু ও কাশ্মীরে সন্ত্রাসবিরোধী অভিযানে নিয়োজিত একটি কাউন্টার-ইনসার্জেন্সি ফোর্সেরও নেতৃত্ব দিয়েছেন। ভারতীয় সেনাবাহিনীর অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ স্ট্রাইক ফরমেশন ‘সুদর্শন চক্র কোর’-এর নেতৃত্বও তাঁর হাতে ছিল। সেনাবাহিনীর বিভিন্ন অপারেশনাল ও কৌশলগত দায়িত্বে সফলতার সঙ্গে কাজ করার অভিজ্ঞতা তাঁকে দেশের অন্যতম দক্ষ সামরিক আধিকারিক হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে।
আরও পড়ুন: নিট ইউজি ২০২৬-এ বড় বদল! বাড়ল পরীক্ষার সময়, রাফ ওয়ার্কের জন্য মিলবে দ্বিগুণ পাতা
প্রতিরক্ষা মন্ত্রক জানিয়েছে, ধীরজ শেঠ এমন বিরল সেনা আধিকারিকদের মধ্যে একজন, যিনি দক্ষিণ-পশ্চিম কমান্ড এবং দক্ষিণ কমান্ড, দুটি গুরুত্বপূর্ণ অপারেশনাল কমান্ডের নেতৃত্ব দিয়েছেন। ভারতীয় সেনাবাহিনীতে এই ধরনের অভিজ্ঞতা খুব কম অফিসারেরই রয়েছে। গত আড়াই বছরেরও বেশি সময় ধরে তিনি বাহিনীর কৌশলগত পরিকল্পনা, সামরিক সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং যুদ্ধক্ষেত্রে আধুনিক প্রযুক্তির প্রয়োগ নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন। উপ-সেনাপ্রধান হিসেবে তিনি বাহিনীর সামগ্রিক প্রস্তুতি, সমন্বয় এবং ভবিষ্যৎ নিরাপত্তা পরিকল্পনা তৈরির ক্ষেত্রেও উল্লেখযোগ্য অবদান রেখেছেন।
সেনাবাহিনীর আধুনিকীকরণে ধীরজ শেঠের আগ্রহ ও উদ্যোগ বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। দক্ষিণ কমান্ডের প্রধান থাকাকালীন তিনি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা নির্ভর ড্রোন প্রযুক্তি, নতুন প্রজন্মের সামরিক সরঞ্জাম এবং প্রযুক্তিনির্ভর যুদ্ধ ব্যবস্থার উপর বিশেষ জোর দেন। ভবিষ্যতের যুদ্ধক্ষেত্র যে ক্রমশ প্রযুক্তিনির্ভর হয়ে উঠছে, সেই বাস্তবতা মাথায় রেখে সেনাবাহিনীকে প্রস্তুত করার পক্ষে তিনি বারবার সওয়াল করেছেন। প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞদের মতে, আধুনিক যুদ্ধের পরিবর্তিত চরিত্র বুঝে সেই অনুযায়ী বাহিনীকে সাজানোর ক্ষেত্রে ধীরজ শেঠের দৃষ্টিভঙ্গি ভারতীয় সেনাবাহিনীকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যেতে পারে।

আরও পড়ুন: অমরনাথ যাত্রায় জঙ্গি হামলার আশঙ্কা! শাহের বৈঠকে কড়া নিরাপত্তার ব্লুপ্রিন্ট
বর্তমান আন্তর্জাতিক পরিস্থিতিতে ভারতীয় সেনাবাহিনীর প্রধান মনোযোগ যে ক্রমশ চিন সীমান্তের দিকে কেন্দ্রীভূত হচ্ছে, তা প্রতিরক্ষা মহলের কাছে স্পষ্ট। বিশেষ করে শিলিগুড়ি করিডর বা ‘চিকেনস নেক’-এর মতো কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ অঞ্চলে চিনের বাড়তে থাকা সক্রিয়তা এবং সীমান্তে প্রযুক্তিনির্ভর যুদ্ধ প্রস্তুতির প্রেক্ষাপটে নতুন সেনাপ্রধানের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে। বিশেষজ্ঞদের মতে, ধীরজ শেঠের (Dheeraj Seth) বিস্তৃত সামরিক অভিজ্ঞতা, কৌশলগত দূরদৃষ্টি এবং আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহারের প্রতি জোর ভারতীয় সেনাবাহিনীকে ভবিষ্যতের নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় আরও শক্তিশালী ও সক্ষম করে তুলবে। তাঁর নেতৃত্বে সেনাবাহিনী আগামী দিনের যুদ্ধ প্রস্তুতি ও সীমান্ত সুরক্ষার ক্ষেত্রে আরও এক ধাপ এগিয়ে যাবে বলেই আশা করা হচ্ছে।













