বাংলা হান্ট ডেস্ক : রাজ্য রাজনীতিতে আলোচনার কেন্দ্রে উঠে এসেছে এক নাম— সুমিত রায়। তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ঘনিষ্ঠ এই ব্যক্তিকে (Abhishek Banerjee PA) খুঁজতে পুলিশের একাধিক অভিযানের পর রাজনৈতিক মহলে নতুন করে চর্চা শুরু হয়েছে। গভীর রাতে কালীঘাটে অভিষেকের বাড়িতে তল্লাশি থেকে শুরু করে হুগলির শ্রীরামপুরে শ্বশুরবাড়িতে পুলিশি অভিযান— সবকিছুর কেন্দ্রবিন্দুতে এখন সুমিত।
কে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ঘনিষ্ঠ সুমিত রায় (Abhishek Banerjee PA) ?
অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে সুমিতের সম্পর্ক রাজনৈতিক মঞ্চে তৈরি হয়নি। তাঁদের পরিচয়ের শিকড় স্কুলজীবনে। দক্ষিণ কলকাতার নবনালন্দা স্কুলে একসঙ্গে পড়াশোনা করার সময় থেকেই বন্ধুত্ব গড়ে ওঠে। পরবর্তী সময়ে অভিষেক দিল্লিতে পড়াশোনা করতে চলে গেলেও সেই যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়নি।
তৃণমূল ক্ষমতায় আসার পর যখন অভিষেক সক্রিয়ভাবে সংগঠনের দায়িত্ব নিতে শুরু করেন, তখন তাঁর চারপাশে একাধিক ঘনিষ্ঠ সহযোগীর একটি শক্তিশালী বলয় গড়ে ওঠে। সেই বলয়ের সামনের সারিতে ছিলেন এই বিশ্বস্ত মুখ। ফলে সুমিত তখন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে না থাকলেও অভিষেকের আস্থাভাজনদের তালিকা থেকে কখনও বাদ পড়েননি। সময় বদলের সঙ্গে সঙ্গে বহু কারণে পুরনো কয়েক জন ঘনিষ্ঠ ব্যক্তি সক্রিয় ভূমিকা থেকে সরে গেলে ধীরে ধীরে গুরুত্ব বাড়তে থাকে সুমিতের। বিশেষ করে ২০১৯ সালের লোকসভা ভোট এবং ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনের পর তাঁর দায়িত্বের পরিধি উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পায়।
দলীয় অন্দরের খবর অনুযায়ী, বিভিন্ন জেলার সাংগঠনিক পরিস্থিতির মূল্যায়ন, নেতাদের কাজের রিপোর্ট সংগ্রহ, ডায়মন্ড হারবার লোকসভা কেন্দ্রের নানা বিষয় পর্যবেক্ষণ এবং রাজনৈতিক কৌশল বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতেন তিনি। অনেকের মতে, সংগঠন থেকে অভিষেকের কাছে কোনও বার্তা পৌঁছনোর ক্ষেত্রে সুমিত ছিলেন অন্যতম নির্ভরযোগ্য মাধ্যম।
অভিষেকের ঘনিষ্ঠ যুবনেতাদের মধ্যে অনেকেই তাঁকে ‘ক্যাপ্টেন’ নামে চিনতেন। তৃণমূলের প্রাক্তন মুখপাত্র ঋজু দত্ত সুমিতের প্রভাব সম্পর্কে বলতে গিয়ে বলেছিলেন, “অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে সব সময় যোগাযোগ করা যেত না। তাঁর কাছে বার্তা পৌঁছে দেওয়ার মাধ্যম ছিলেন সুমিতই।” পরে তিনি আরও বলেন, “সুমিত রায় কে, সেটা তৃণমূলের সাংসদ-বিধায়কেরা খুব ভাল করে জানেন।”
এদিকে সুমিতের সন্ধানে শুক্রবার গভীর রাতে কালীঘাটে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাড়িতে পৌঁছয় পুলিশ। তদন্তকারীদের সঙ্গে ছিল কেন্দ্রীয় বাহিনীও। দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষার পর বাড়ির ভিতরে প্রবেশ করে তল্লাশি চালানো হয়। সূত্রের দাবি, সুমিতের মোবাইল ফোনের শেষ টাওয়ার লোকেশন ওই এলাকার কাছাকাছি পাওয়া গিয়েছিল বলেই এই পদক্ষেপ। প্রায় দেড় ঘণ্টার অভিযান চললেও কোনও জিনিসপত্র বাজেয়াপ্ত করা হয়নি। ঘটনাস্থলে পরে উপস্থিত হন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও। তল্লাশির পর অভিষেক বলেন, “তালা ভেঙে ঢুকে পুরো বাড়ি ওরা সার্চ করেছে। সব রেকর্ড রয়েছে।”

আরও পড়ুন : মাসে ৫,০০০ টাকা পর্যন্ত বৃত্তি! কারা পাবেন স্বামী বিবেকানন্দ স্কলারশিপ, জানুন আবেদন থেকে যোগ্যতা সবকিছু
শুধু কালীঘাট নয়, হুগলির শ্রীরামপুরে সুমিতের শ্বশুরবাড়িতেও পৌঁছয় পুলিশ। তবে সেখান থেকেও তাঁর কোনও সন্ধান মেলেনি।
বর্তমানে সুমিত রায়ের কোথায়, তা নিয়ে ধোঁয়াশা অব্যাহত। তবে একটি বিষয় স্পষ্ট— দীর্ঘদিন ধরে তৃণমূলের সাংগঠনিক পরিসরে তিনি ছিলেন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ মুখ।














