বাংলা হান্ট ডেস্ক : সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায় সরকারি পরিষেবা পৌঁছে দিতে এবং বিভিন্ন প্রকল্পে নাম নথিভুক্তির প্রক্রিয়া আরও সহজ করতে রাজ্যজুড়ে শুরু হচ্ছে বিশেষ জনকল্যাণ শিবির (Government Scheme)। ১৫ থেকে ১৭ জুন পর্যন্ত চলবে এই কর্মসূচি। প্রশাসনের তরফে ব্যাপক প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে, যাতে যোগ্য নাগরিকরা এক ছাদের তলায় বিভিন্ন কেন্দ্র ও রাজ্য সরকারের প্রকল্পের জন্য আবেদন করতে পারেন এবং প্রয়োজনীয় সহায়তা পান।
জনকল্যাণ শিবিরের (Government Scheme) সুবিধা
প্রশাসনিক সূত্রে খবর, এই তিন দিনের কর্মসূচিতে রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে গুরুত্বপূর্ণ শিবিরগুলিতে উপস্থিত থাকতে পারেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। ১৫ জুন তার নন্দীগ্রামে থাকার কথা রয়েছে। পরদিন অর্থাৎ ১৬ জুন উত্তরবঙ্গের কার্শিয়াঙে একটি শিবিরে যোগ দিতে পারেন তিনি। ১৭ জুন দক্ষিণ ২৪ পরগনায় আয়োজিত শিবিরেও তার উপস্থিতির সম্ভাবনা রয়েছে বলে জানা গিয়েছে।
এই বিশেষ শিবিরগুলিতে নাগরিকদের জন্য একাধিক গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্পের আবেদন ও পরিষেবার ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে অন্নপূর্ণা যোজনায় আবেদন সংক্রান্ত সহায়তা, আয়ুষ্মান ভারত প্রকল্পে নাম নথিভুক্তি, প্রধানমন্ত্রী জনধন যোজনা, পিএম জীবন জ্যোতি বিমা যোজনা এবং অটল পেনশন যোজনায় যোগদানের সুযোগ। এছাড়াও কন্যাশ্রী, বেটি বচাও বেটি পড়াও এবং সুকন্যা সমৃদ্ধি যোজনার মতো নারী ও শিশু-কেন্দ্রিক প্রকল্পগুলির সুবিধাও মিলবে।
পাশাপাশি পিএম মৎস্য সম্পদ যোজনা, পিএম গরিব কল্যাণ যোজনা, রাজ্য খাদ্য সুরক্ষা যোজনা-১ এবং পিএম উজ্জ্বলা যোজনার জন্যও আবেদন করা যাবে। শিক্ষাশ্রী, মেধাশ্রী, তপশিলি বন্ধু, শ্রমিক কল্যাণ প্রকল্প এবং পিএম বিশ্বকর্মা যোজনাসহ আরও বহু সরকারি প্রকল্পের সুবিধা পাওয়ার সুযোগ থাকবে এই শিবিরে। শিবিরগুলির সার্বিক তদারকির দায়িত্বে থাকবেন সংশ্লিষ্ট জেলার জেলাশাসকরা। প্রতিটি জেলায় পৃথক কন্ট্রোল রুম খোলা হচ্ছে, যাতে পরিষেবা প্রদানে কোনও ধরনের সমস্যা হলে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া যায়।
নাগরিকদের সুবিধার জন্য রাজ্যস্তরে একটি কেন্দ্রীয় কন্ট্রোল রুমও চালু করা হয়েছে এবং সহায়তার জন্য টোল-ফ্রি নম্বর 1800-345-0117 রাখা হয়েছে। স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে শিবির প্রাঙ্গণে বাধ্যতামূলকভাবে সিসিটিভি ক্যামেরা বসানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সেই ফুটেজ অন্তত এক মাস সংরক্ষণ করতে হবে।

আরও পড়ুন : অফিসের পর এবার সরকারি কর্মীদের বাড়িতে বাধ্যতামূলক স্মার্ট মিটার! নির্দেশিকা জারি নবান্নের
আবেদনকারীদের কাছ থেকে অনুমোদিত তালিকার বাইরে কোনও অতিরিক্ত নথি চাওয়া যাবে না। একইসঙ্গে, যোগ্য ব্যক্তিদের কোনওভাবেই পরিষেবা থেকে বঞ্চিত না করার নির্দেশও দেওয়া হয়েছে। আবেদনপত্র পূরণ, নথির প্রতিলিপি তৈরি এবং ফর্ম জমা দেওয়ার মতো সমস্ত পরিষেবা সম্পূর্ণ বিনামূল্যে দেওয়া হবে। তাছাড়া, শিবিরে জমা পড়া প্রতিটি অভিযোগ ডিজিটাল মাধ্যমে নথিভুক্ত করে আবেদনকারীকে একটি পৃথক রেফারেন্স নম্বর দেওয়া হবে। রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে এই উদ্যোগের মাধ্যমে সরকারি পরিষেবাকে আরও জনমুখী ও সহজলভ্য করে তোলাই প্রশাসনের প্রধান লক্ষ্য।













