একদল থেকে ভোটে জিতে অন্য দলে যোগ কতটা বৈধ? কী বলছে দলত্যাগ বিরোধী আইন জানুন

Published on:

Published on:

Anti-Defection Law Explained
Follow

বাংলা হান্ট ডেস্কঃ ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূলের পরাজয়ের পর থেকেই দলের অন্দরে অসন্তোষ বাড়তে শুরু করে। বেশ কয়েকজন সাংসদ প্রকাশ্যে দলের বিরুদ্ধে মুখ খোলেন। প্রথমে আলাদা ফ্রন্ট তৈরির আলোচনা হলেও রবিবার পরিস্থিতি অন্য দিকে মোড় নেয়। তৃণমূলের ২০ জন বিদ্রোহী সাংসদ ন্যাশনালিস্ট সিটিজেনস পার্টি অব ইন্ডিয়া (এনসিপিআই)-এর সঙ্গে যুক্ত হওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। এরপরই প্রশ্ন উঠেছে, কোনও দলের টিকিটে জিতে আসার পর কি একজন সাংসদ অন্য দলে মিশে যেতে পারেন (Anti-Defection Law)? আর গেলে তাঁর সাংসদ পদ থাকবে তো?

দলত্যাগ বিরোধী আইন (Anti-Defection Law) কী বলছে?

সংবিধানের দলত্যাগ বিরোধী আইন (Anti-Defection Law) অনুযায়ী, কোনও দলের সাংসদরা অন্য একটি দলে যোগ দিতে পারেন। তবে তার জন্য একটি বড় শর্ত রয়েছে। কোনও রাজনৈতিক দলের মোট সাংসদদের অন্তত দুই-তৃতীয়াংশ সদস্য যদি একসঙ্গে অন্য দলে যোগ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন, তাহলে সেটিকে বৈধ ‘মার্জার’ বা দলীয় সংযুক্তিকরণ হিসেবে ধরা হয়। সেক্ষেত্রে ওই সাংসদদের বিরুদ্ধে দলত্যাগের অভিযোগ আনা যায় না এবং তাঁদের সাংসদ পদও বহাল থাকে। কিন্তু যদি দুই-তৃতীয়াংশের কম সদস্য দল ছেড়ে অন্য দলে যোগ দেন, তাহলে তাঁদের বিরুদ্ধে দলত্যাগ বিরোধী আইনে ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে। এমনকি সাংসদ পদও খারিজ হয়ে যেতে পারে।

মূল দলের মতামতও গুরুত্বপূর্ণ

শুধু সাংসদদের সংখ্যা থাকলেই সব সমস্যার সমাধান হয় না। সাম্প্রতিক কয়েকটি মামলায় সুপ্রিম কোর্ট বলেছে, যে রাজনৈতিক দলের প্রতীকে সাংসদরা নির্বাচিত হয়েছেন, সেই মূল দলের অবস্থানও গুরুত্বপূর্ণ। অর্থাৎ, মূল দল যদি এই সংযুক্তিকরণকে সমর্থন না করে, তাহলে বিষয়টি আইনি জটিলতায় পড়তে পারে। শুধুমাত্র সাংসদদের সিদ্ধান্তই শেষ কথা নয়।

কী করতে পারে আসল দল?

যদি কোনও দলের সাংসদরা অন্য দলে চলে যান, তাহলে মূল দল লোকসভার স্পিকারের কাছে অভিযোগ জানাতে পারে। তারা দাবি করতে পারে যে সংশ্লিষ্ট সাংসদরা স্বেচ্ছায় দল ছেড়েছেন এবং তাঁদের বিরুদ্ধে দলত্যাগ বিরোধী আইনে (Anti-Defection Law) ব্যবস্থা নেওয়া উচিত। এই বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা স্পিকারের হাতে থাকে। তবে স্পিকারের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধেও আদালতে যাওয়ার সুযোগ রয়েছে। ১৯৯২ সালের কিহোতো হলোহন মামলায় সুপ্রিম কোর্ট স্পষ্ট জানিয়েছিল, স্পিকারের সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হলেও তা আদালতের পর্যালোচনার বাইরে নয়।

স্পিকার কতদিনের মধ্যে সিদ্ধান্ত নেবেন?

২০২০ সালে একটি গুরুত্বপূর্ণ মামলায় সুপ্রিম কোর্ট জানায়, দলত্যাগ সংক্রান্ত কোনও আবেদন জমা পড়লে সাধারণত তিন মাসের মধ্যে স্পিকারকে সিদ্ধান্ত নিতে হবে। বিশেষ পরিস্থিতিতে সময় কিছুটা বাড়ানো যেতে পারে। বড় ধরনের ভাঙনের ক্ষেত্রে শুধু সাংসদ পদ নয়, দলের নাম ও নির্বাচনী প্রতীক নিয়েও বিতর্ক তৈরি হতে পারে।

সেক্ষেত্রে মূল দল নির্বাচন কমিশনের কাছে গিয়ে নিজেদের দাবি জানাতে পারে। তবে অতীতে শিবসেনা ও এনসিপির মতো দলগুলির ক্ষেত্রে দেখা গিয়েছে, সংখ্যাগরিষ্ঠ সমর্থন থাকলে বিদ্রোহী শিবিরও দলের নাম ও প্রতীকের ওপর অধিকার দাবি করতে পারে।

আরও পড়ুনঃ ‘মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার পরও…’, শুভেন্দুকে নিয়ে অকপট সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়

তাই তৃণমূলের বিদ্রোহী সাংসদদের এই সিদ্ধান্ত শেষ পর্যন্ত কতটা আইনি স্বীকৃতি পাবে, তা এখন নির্ভর করছে সংখ্যার অঙ্ক, স্পিকারের সিদ্ধান্ত এবং প্রয়োজনে আদালতের রায়ের উপর (Anti-Defection Law)।