বাংলা হান্ট ডেস্ক : ইতিমধ্যেই একাধিক তদন্তকারী সংস্থার নজরে রয়েছেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়(Abhishek Banerjee)। রাজ্যে বিভিন্ন মামলার তদন্ত চলাকালীন এবার অন্য রাজ্যের একটি পুরনো আইনি জটিলতাও নতুন করে সামনে চলে এল। মধ্যপ্রদেশে দায়ের হওয়া মানহানি মামলায় তাঁর বিরুদ্ধে জারি হওয়া আদালতের নির্দেশ ঘিরে ফের চর্চা শুরু হয়েছে রাজনৈতিক মহলে।
মধ্যপ্রদেশে অভিষেকের (Abhishek Banerjee) বিরুদ্ধে মামলা
সাম্প্রতিক সময়ে একাধিক তদন্তে নাম জড়িয়েছে অভিষেকের। বিভিন্ন মামলায় তাঁকে নোটিস পাঠানো হয়েছে এবং তদন্তকারী সংস্থার ডাকে হাজিরাও দিতে হয়েছে। বিধানসভার সই জালিয়াতি অভিযোগ, ডিজে বিতর্ক এবং শিক্ষক নিয়োগ সংক্রান্ত অনুসন্ধানের আবহে এবার নতুন করে আলোচনায় উঠে এসেছে ভোপালের একটি মামলা।
প্রসঙ্গত, ঘটনার সূত্রপাত প্রায় ছয় বছর আগে। ২০২০ সালে একটি রাজনৈতিক সভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় নাকি বিজেপি নেতা কৈলাশ বিজয়বর্গীয়ের পুত্র আকাশ বিজয়বর্গীয়কে ‘গুন্ডা’ বলে উল্লেখ করেছিলেন। সেই মন্তব্যকে অপমানজনক বলে দাবি করে পরের বছর ভোপালের বিশেষ এমপি-এমএলএ আদালতে মানহানির মামলা দায়ের করেন আকাশ বিজয়বর্গীয়। মামলার শুনানির সময় আদালত অভিষেকের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেছিল।
পরে সেই নির্দেশের বৈধতা নিয়ে মধ্যপ্রদেশ হাইকোর্টে আবেদন করেন তৃণমূল সাংসদ। তাঁর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছিল, একজন জনপ্রতিনিধি হিসেবে তিনি তদন্ত বা বিচার প্রক্রিয়া এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করবেন না। সেই যুক্তি বিবেচনা করে হাইকোর্ট সাময়িকভাবে পরোয়ানার কার্যকারিতা স্থগিত রেখেছিল। কিন্তু বর্তমানে সেই আইনি সুরক্ষার মেয়াদ আর বলবৎ নেই বলে জানা যাচ্ছে। ফলে মামলার ভবিষ্যৎ গতিপ্রকৃতি নিয়ে নতুন করে জল্পনা শুরু হয়েছে।

আরও পড়ুন :বিদ্যুতের সঙ্কটের হবে সমাধান! প্রস্তুত বিশ্বের প্রথম ১০০ শতাংশ হাইড্রোজেন ইঞ্জিন, কীভাবে করবে কাজ?
আইন বিশেষজ্ঞদের একাংশের মতে, আদালত থেকে নতুন কোনও নির্দেশ না এলে পরিস্থিতি আরও জটিল হতে পারে। অন্যদিকে, পশ্চিমবঙ্গে চলা ডিজে মন্তব্য সংক্রান্ত মামলায় আপাতত কলকাতা হাইকোর্টের দেওয়া অন্তর্বর্তী সুরক্ষা বহাল রয়েছে। যদিও সেই সুরক্ষার সঙ্গে আদালতের আরোপিত কয়েকটি শর্তও মানতে হচ্ছে তাঁকে।একের পর এক তদন্ত, আদালতের শুনানি এবং রাজনৈতিক চাপের আবহে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের আগামী পদক্ষেপ কী হয়, সেদিকেই এখন নজর রাজনৈতিক মহল থেকে সাধারণ মানুষের।

















