বাংলা হান্ট ডেস্ক: যুগের সঙ্গে তাল মিলিয়ে গ্রিন এনার্জির সেক্টরে একের পর এক বড় নজির তৈরি হচ্ছে। যা বিশ্বজুড়ে বিদ্যুৎ সঙ্কটকে সম্পূর্ণরূপে দূর করতে পারে। মূলত, স্পেনের বার্মেওতে স্থিত কোম্পানি ওয়ার্টসিলা বিশ্বের প্রথম ১০০ শতাংশ হাইড্রোজেন ইঞ্জিনই (Hydrogen Engine) তৈরি করেছে। সবথেকে উল্লেখযোগ্য বিষয় হল, ইতিমধ্যেই ওই সংস্থাটি বিশুদ্ধ হাইড্রোজেন জ্বালানি ব্যবহার করে এই বিপুল ক্ষমতাসম্পন্ন ইঞ্জিনটির সফল পরীক্ষাও সম্পন্ন করেছে। এই ইঞ্জিনটি বিদ্যুৎ উৎপাদন করবে। যা পরীক্ষার পর সরাসরি স্পেনের ন্যাশনাল পাওয়ার গ্রিডে সরবরাহ করা হয়েছিল। ওয়ার্টসিলা ’31H2′ মডেল নামের এই ইঞ্জিনটি বিশ্বের প্রথম বৃহৎ হাইড্রোজেন ইঞ্জিন। এটি কয়লা বা প্রাকৃতিক গ্যাসের প্রয়োজন ছাড়াই বাড়ি বাড়ি বিদ্যুৎ সরবরাহ করতে পারবে।
হাইড্রোজেন ইঞ্জিন (Hydrogen Engine) কেন গুরুত্বপূর্ণ:
জানিয়ে রাখি যে, এখনও পর্যন্ত, বিশ্বজুড়ে হাইড্রোজেন ইঞ্জিনগুলি প্রাকৃতিক গ্যাসের মিশ্রণ দ্বারা চালিত হত। তবে, হাইড্রোজেন ইঞ্জিনের এই মডেলটি অন্য যেকোনও জ্বালানির প্রয়োজনীয়তা সম্পূর্ণরূপে দূর করবে। রিপোর্ট অনুসারে, কোম্পানিটি এই প্রকল্পের জন্য স্পেনকে বেছে নিয়েছে। কারণ সেখানে গ্রিন এনার্জি ইতিমধ্যেই ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হচ্ছে। এই ইঞ্জিনটি প্রমাণ করেছে যে, কোনওরকম দূষণ ছাড়াই বিদ্যুৎ উৎপাদন করা সম্ভব।
#WorldsFirst large-scale 100% #hydrogen engine tested at Wärtsilä’s Bermeo laboratory to support the Spanish grid.
Read more: https://t.co/3zwH0OPkDP#Spain #EnergyTransition #Decarbonisation pic.twitter.com/xo4nmfOKds
— Wärtsilä Corporation (@wartsilacorp) June 11, 2026
আবহাওয়ার ওপর নির্ভরতা কমবে: রিপোর্ট অনুযায়ী, ২০৩০ সালের মধ্যে বিশ্বব্যাপী সৌর ও বায়ু বিদ্যুৎ উৎপাদন ক্ষমতা ৪,৬০০ গিগাওয়াট বৃদ্ধি পাবে বলে অনুমান করা হচ্ছে। তবে, সূর্যালোক এবং বাতাস সবসময় সামঞ্জস্যপূর্ণ থাকে না। এর ফলে বিদ্যুৎ গ্রিডে ওঠানামা হতে পারে। এমতাবস্থায়, একটি ১০০ শতাংশ হাইড্রোজেন ইঞ্জিন এই সমস্যা সম্পূর্ণরূপে দূর করবে।
আরও পড়ুন: SCSS নাকি POMIS? অবসরের পর ভালো রিটার্নের ক্ষেত্রে পোস্ট অফিসের কোন স্কিমটি বেশি লাভজনক?
শুধু তাই নয়, যখনই সূর্যালোক বা বাতাস বেশি থাকবে, তখন অতিরিক্ত বিদ্যুৎ ব্যবহার করে জল বিভাজনের মাধ্যমে গ্রিন হাইড্রোজেন উৎপাদন করা হবে এবং তা সংরক্ষণ করা হবে। পাশাপাশি যখন আবহাওয়া অনুকূল থাকবে না, তখন সেই একই গ্রিন হাইড্রোজেন ’31H2′ ইঞ্জিনে পুড়িয়ে বিদ্যুৎ সরবরাহ করা যেতে পারে।
আরও পড়ুন: পাকিস্তান-বাংলাদেশ থেকে ভারতে হামলার ষড়যন্ত্র করছে হামাস? ইজরায়েলের সতর্কবার্তায় বাড়ছে উদ্বেগ
বদলে যাবে বিশ্বের ছবি: উল্লেখ্য যে, এই প্রথম ১০০ শতাংশ হাইড্রোজেন ইঞ্জিনটি সমগ্র বিশ্বের ছবি পাল্টে দেওয়ার ক্ষমতা রাখে। বড় বড় ২৪-ঘণ্টা চলতে থাকা কারখানা থেকে শুরুকরে AI ডেটা সেন্টারগুলিই প্রথম এর সুফল পাবে। ওয়ার্টসিলা-র ডিরেক্টর রাসমাস টেয়ার বলেছেন, ইঞ্জিনটির পরীক্ষা সফল হয়েছে। এখন শুধু প্রয়োজন সরকারের তরফে এর ব্যবহার নিয়ে সুস্পষ্ট নীতি প্রণয়ন এবং সম্প্রসারণের বিষয়টি বিবেচনা করা। যদি এই প্রযুক্তি ব্যাপকভাবে গ্রহণ করা হয়, তবে বিশ্ব থেকে বিদ্যুৎ ও দূষণের সমস্যা দূর হয়ে যেতে পারে বলে অনুমান করা হচ্ছে।
















