বাংলাহান্ট ডেস্ক: টানা সাড়ে তিন মাসেরও বেশি সময় ধরে চলা রক্তক্ষয়ী সংঘাতের অবসান ঘটিয়ে অবশেষে স্বস্তির বার্তা এল পশ্চিম এশিয়া থেকে। বুধবার শান্তিচুক্তিতে স্বাক্ষর করল ইরান ও আমেরিকা (Iran-US)। এই চুক্তির ফলে বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক বাণিজ্যপথ তথা ‘তৈল ধমনী’ হিসেবে পরিচিত হরমুজ প্রণালী আবার খুলে যাওয়ার পথ প্রশস্ত হল। আন্তর্জাতিক মহলের মতে, এই পদক্ষেপ শুধু মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা কমাবে না, বিশ্ব অর্থনীতিকেও স্বাভাবিক ছন্দে ফিরতে সাহায্য করবে।
যুদ্ধের অবসান ঘটিয়ে শান্তিচুক্তিতে স্বাক্ষর ইরান-আমেরিকার (Iarn-US):
সূত্রের খবর, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং ইরানের (Iran-US) প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান ডিজিটাল মাধ্যমে সমঝোতা পত্রে স্বাক্ষর করেছেন। যদিও এর আগে সিদ্ধান্ত হয়েছিল, আগামী ১৯ জুন জেনেভায় দুই দেশের প্রতিনিধিদের উপস্থিতিতে আনুষ্ঠানিকভাবে চুক্তি স্বাক্ষরের অনুষ্ঠান হবে। কিন্তু নির্ধারিত অনুষ্ঠানের আগেই ভার্চুয়াল পদ্ধতিতে চুক্তি কার্যকর হওয়ায় জেনেভার সেই কর্মসূচি আদৌ অনুষ্ঠিত হবে কি না, তা নিয়ে ধোঁয়াশা তৈরি হয়েছে। তেহরান কিংবা ওয়াশিংটন—কোনও পক্ষই এখনও এ বিষয়ে স্পষ্ট বক্তব্য দেয়নি। তবে কূটনৈতিক মহলের একাংশের ধারণা, ডিজিটাল স্বাক্ষরের পর পূর্বনির্ধারিত অনুষ্ঠান বাতিল হওয়ার সম্ভাবনাই বেশি।
আরও পড়ুন:NEET-এর আবহে সপ্তাহব্যাপী কেন নিষিদ্ধ টেলিগ্রাম? প্রশ্ন উঠতেই কারণ জানাল কেন্দ্র
এক মার্কিন সংবাদমাধ্যমের দাবি, জি-৭ সম্মেলন শেষে ফ্রান্সের প্যারিসে প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁর সঙ্গে বৈঠকের ফাঁকেই চুক্তিপত্রে সই করেন ট্রাম্প। অন্যদিকে, ইরানের বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘেইও সমঝোতার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তাঁর বক্তব্য, মধ্যস্থতাকারী হিসেবে পাকিস্তান যে খসড়া চুক্তিপত্র দুই দেশের কাছে পাঠিয়েছিল, তাতে উভয় পক্ষ সম্মতি জানিয়েছে এবং আনুষ্ঠানিকভাবে স্বাক্ষরও করেছে।
দীর্ঘ সংঘাতের জেরে গত কয়েক মাস ধরে কার্যত অচল হয়ে পড়েছিল হরমুজ প্রণালী। বিশ্বের উল্লেখযোগ্য অংশের তেল ও গ্যাস পরিবহণ এই পথ দিয়ে হওয়ায় এর প্রভাব পড়েছিল আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে। তেলের দাম বৃদ্ধি, সরবরাহে অনিশ্চয়তা এবং বাণিজ্যিক ব্যয় বৃদ্ধির ফলে বিশ্ব অর্থনীতির গতি মন্থর হয়ে পড়ে। ভারতের মতো আমদানিনির্ভর দেশগুলিও এর সরাসরি প্রভাব অনুভব করেছে। ফলে শান্তিচুক্তির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ শর্ত হিসেবে হরমুজ খুলে দেওয়ার বিষয়টি বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছিল।
জানা গিয়েছে, ইরান-আমেরিকা সমঝোতা স্মারকে মোট ১৪টি শর্ত অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে ইরান, লেবানন-সহ মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন সংঘাতপূর্ণ অঞ্চলে যুদ্ধবিরতি বজায় রাখা এবং ভবিষ্যতে নতুন করে কোনও সামরিক সংঘর্ষ না হওয়ার নিশ্চয়তা। পাশাপাশি হরমুজ প্রণালী থেকে অবরোধ প্রত্যাহার করা হবে এবং আন্তর্জাতিক জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক করা হবে। ইরানের জাহাজগুলির উপর আরোপিত বিভিন্ন নিষেধাজ্ঞাও ধাপে ধাপে তুলে নেওয়ার কথা উল্লেখ রয়েছে।

আরও পড়ুন: সুযোগ পেয়েও নিজেকে প্রমাণ করতে ব্যর্থ, খুব শিগগিরই এই তারকাকে ছেঁটে ফেলবেন গম্ভীর!
চুক্তির আরও কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হল ইরানের (Iran-US) বাজেয়াপ্ত ২৪ মিলিয়ন ডলার ফেরত দেওয়া, দেশটির উপর আর্থিক ও বাণিজ্যিক নিষেধাজ্ঞা শিথিল করা এবং আগামী ৩০ দিনের মধ্যে ইরানের আশপাশের অঞ্চল থেকে সেনা উপস্থিতি কমানো। সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ শর্ত হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে, ইরান পরমাণু অস্ত্র তৈরির পথে এগোবে না। তবে বর্তমানে মজুত থাকা ৬০ শতাংশ সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের ভবিষ্যৎ ব্যবস্থাপনা নিয়ে আলোচনা অব্যাহত থাকবে। আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, এই চুক্তি সফলভাবে কার্যকর হলে শুধু ইরান-আমেরিকা সম্পর্কেই নয়, গোটা মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনীতিতেও এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা হতে পারে।

















