বাংলা হান্ট ডেস্ক: বাজেট ভাষণে অর্থমন্ত্রী স্বপন দাশগুপ্ত রাজ্যের প্রশাসনিক পুনর্বিন্যাসের কথা ঘোষণা করেন। রাজ্যের নতুন জেলার (West Bengal) রূপরেখা প্রকাশ করা হয়েছে। সেই অনুযায়ী কলকাতা, বসিরহাট, সুন্দরবন, জঙ্গিপুর এবং আরামবাগকে পৃথক জেলা হিসেবে গড়ে তোলার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন মহল থেকে যে দাবিগুলি উঠছিল, তারই প্রতিফলন দেখা গেল এই ঘোষণায়।
রাজ্যে নয়া পাঁচ জেলা (West Bengal):
উপকূলবর্তী কাঁথি অঞ্চলে একটি স্বতন্ত্র পুলিশ জেলা গঠনের কথাও জানানো হয়েছে বাজেট ঘোষণায়। পশ্চিমাঞ্চলের গোপীবল্লভপুরকে নতুন মহকুমার মর্যাদা দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। একই সঙ্গে স্থানীয় প্রশাসনকে আরও শক্তিশালী করতে নয়টি নতুন পুরসভা তৈরির সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। শিবনিবাস, গাজোল, টাল, বেলদা, বাগনান, জয়গী, কোলাঘাট, কামারপুকুর এবং টুঙ্গিপাড়ি এই তালিকায় জায়গা পেয়েছে। নতুন জেলার মর্যাদা পাওয়ার খবর ছড়িয়ে পড়তেই আরামবাগে উৎসবের আবহ তৈরি হয়।
আরও পড়ুন :সুন্দরবনের জন্য বাজেটে বড় উপহার, হাসপাতাল থেকে বাঁধ নির্মাণে হাজার কোটি টাকার পরিকল্পনা
উল্লেখ্য, বহু দশক ধরে এলাকার মানুষ পৃথক জেলার দাবি জানিয়ে আসছিলেন। বিশেষত ভৌগোলিক অবস্থান এবং বারংবার প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে প্রশাসনিক সুবিধা সম্প্রসারণের প্রয়োজনীয়তা অনুভূত হয়েছিল। অবশেষে সেই প্রত্যাশা বাস্তবায়িত হওয়ায় বিভিন্ন প্রান্তে আনন্দ-উচ্ছ্বাস দেখা যায়। আরামবাগ শহরে মিষ্টি বিতরণের মাধ্যমে আনন্দ ভাগ করে নেন বিজেপি কর্মী-সমর্থকরা।
অন্যদিকে, গোঘাটে রঙ খেলায় মেতে ওঠেন স্থানীয় বাসিন্দারা। নতুন জেলার স্বীকৃতিকে ঘিরে উৎসবের আবহে মুখর হয়ে ওঠে গোটা এলাকা। শুধু আরামবাগ নয়, বসিরহাটেও একই রকম উচ্ছ্বাস লক্ষ্য করা গিয়েছে। পৃথক জেলার ঘোষণা সামনে আসতেই বিভিন্ন জায়গায় মিষ্টি বিলি ও আনন্দ উদযাপনের আয়োজন করা হয়। স্থানীয়দের একাংশের বিশ্বাস, প্রশাসনিক কেন্দ্র কাছাকাছি চলে এলে সরকারি পরিষেবা পাওয়া সহজ হবে এবং উন্নয়নের নতুন সুযোগ তৈরি হবে।

আরও পড়ুন : বড় ঘোষণা সরকারের! এবার ইস্কনের সহযোগিতায় সরকারি স্কুলে পুষ্টিকর খাবার
প্রশাসনিক মহলের সূত্রে জানা গিয়েছে, আগামী কয়েক মাসের মধ্যেই প্রয়োজনীয় জমি, পরিকাঠামো ও দফতর সংক্রান্ত প্রাথমিক কাজ শুরু হবে। সবকিছু পরিকল্পনা অনুযায়ী এগোলে রাজ্যের নতুন প্রশাসনিক মানচিত্র খুব শীঘ্রই বাস্তব রূপ পাবে। নতুন জেলা ও প্রশাসনিক ইউনিটগুলি কার্যকর হলে স্থানীয় সমস্যার দ্রুত সমাধান এবং উন্নয়নমূলক কাজের বাস্তবায়নে আরও গতি আসবে বলেই আশা করা হচ্ছে।













