বাংলাহান্ট ডেস্ক: মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন ভারতের (India) জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ সামরিক সহায়তা প্যাকেজে অনুমোদন দিয়েছে। প্রায় ৪৮.২২ কোটি মার্কিন ডলার, অর্থাৎ ভারতীয় মুদ্রায় প্রায় ৪,৫৬৬ কোটি টাকার এই প্রস্তাবের আওতায় থাকবে অ্যাপাচে যুদ্ধ-হেলিকপ্টার এবং এম-৭৭৭ আল্ট্রালাইট হাউইৎজার কামানের যন্ত্রাংশ, রক্ষণাবেক্ষণ, প্রযুক্তিগত সহায়তা, প্রশিক্ষণ এবং লজিস্টিক পরিষেবা। প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞদের মতে, এই পদক্ষেপ শুধু ভারতীয় সেনাবাহিনীর যুদ্ধসক্ষমতা আরও মজবুত করবে না, একই সঙ্গে ভারত-আমেরিকা কৌশলগত সম্পর্ককেও আরও গভীর করবে। বিশেষ করে ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে ক্রমবর্ধমান ভূ-রাজনৈতিক প্রতিযোগিতার প্রেক্ষাপটে এই সিদ্ধান্তকে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।
ভারতের (India) জন্য ৪,৫৬৬ কোটির সামরিক সহায়তা প্যাকেজের অনুমোদন ট্রাম্প সরকারের:
মার্কিন ‘ডিফেন্স সিকিউরিটি কো-অপারেশন এজেন্সি’ (DSCA) ১৭ জুন এই সংক্রান্ত নোট প্রকাশ করে। পরে মার্কিন কংগ্রেসের বিদেশ বিষয়ক কমিটিও প্রস্তাবটির অনুমোদন দেয়। এই প্যাকেজের মূল উদ্দেশ্য হল ভারতীয় সেনার হাতে থাকা অ্যাপাচে হেলিকপ্টার এবং এম-৭৭৭ কামানগুলিকে দীর্ঘমেয়াদে কার্যকর ও যুদ্ধের জন্য প্রস্তুত রাখা। আমেরিকার ‘ফরেন মিলিটারি সেলস’ কর্মসূচির আওতায় এই ধরনের সহায়তা সাধারণত মিত্র দেশগুলির প্রতিরক্ষা পরিকাঠামোকে শক্তিশালী করার জন্য দেওয়া হয়। আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক মহলের একাংশের মতে, এই উদ্যোগের মাধ্যমে ওয়াশিংটন একদিকে যেমন ভারতের (India) সঙ্গে প্রতিরক্ষা সহযোগিতা বাড়াতে চাইছে, অন্যদিকে এশিয়ায় চিনের ক্রমবর্ধমান প্রভাবের মোকাবিলায় কৌশলগত ভারসাম্য বজায় রাখারও চেষ্টা করছে।
আরও পড়ুন: মেঘের রাজ্যে দু’দিন কাটাতে চাইলে এবার প্রিয়জনের সঙ্গে ঘুরে আসুন উত্তরবঙ্গের এই অজানা স্বর্গে
ভারতীয় সেনা ও বায়ুসেনার কাছে অ্যাপাচে হেলিকপ্টার ইতিমধ্যেই অত্যন্ত নির্ভরযোগ্য অস্ত্র হিসেবে প্রমাণিত হয়েছে। অ্যাপাচে AH-64E সংস্করণ একসঙ্গে ১২৮টি লক্ষ্যবস্তু শনাক্ত করতে পারে এবং একই সময়ে ১২টি লক্ষ্যে আঘাত হানার ক্ষমতা রাখে। হেলফায়ার ক্ষেপণাস্ত্র, রকেট এবং ৩০ এমএম অটোক্যাননের সমন্বয়ে এটি আধুনিক যুদ্ধক্ষেত্রে অত্যন্ত কার্যকর। প্রতি মিনিটে প্রায় ১,২০০ রাউন্ড গুলি ছোড়ার ক্ষমতা থাকা এই হেলিকপ্টার প্রয়োজন হলে দ্রুত উচ্চতাও অর্জন করতে পারে। ভারত ২০১৯-২০ সাল থেকে ধাপে ধাপে এই অ্যাপাচে হেলিকপ্টার ব্যবহার শুরু করে। পঠানকোটে বায়ুসেনার বিশেষ স্কোয়াড্রনের পাইলটদের প্রশিক্ষণের পর এগুলি সফলভাবে বিভিন্ন সামরিক মহড়ায় অংশ নিয়েছে। সেই অভিজ্ঞতার ভিত্তিতেই ভারত অতিরিক্ত অ্যাপাচে কেনার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল।
অন্যদিকে এম-৭৭৭ আল্ট্রালাইট হাউইৎজ়ার ভারতের পার্বত্য সীমান্তে এক নতুন শক্তি যোগ করেছে। ২০১৭ সালে প্রায় ৪,৭৪৭ কোটি টাকার চুক্তির মাধ্যমে ভারত ১৪৫টি এম-৭৭৭ কামান কেনে। টাইটেনিয়াম দিয়ে তৈরি হওয়ায় এই কামানগুলির ওজন মাত্র চার টন। ফলে হেলিকপ্টারের সাহায্যে সহজেই দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় পৌঁছে দেওয়া যায়। লাদাখ কিংবা অরুণাচল প্রদেশের মতো উচ্চতর সীমান্ত অঞ্চলে যেখানে ভারী কামান নিয়ে যাওয়া কঠিন, সেখানে এম-৭৭৭ কার্যত গেমচেঞ্জার হিসেবে প্রমাণিত হয়েছে। ২৪ থেকে ৪০ কিলোমিটার দূরত্বে নির্ভুল গোলাবর্ষণের ক্ষমতা থাকায় সীমান্ত প্রতিরক্ষায় এর গুরুত্ব অত্যন্ত বেশি।

আরও পড়ুন: রাজ্য সরকারি কর্মীদের লটারি! ২০ শতাংশ DA বাড়ানোয় বেতন কতটা বাড়বে জানুন
প্রতিরক্ষা বিশ্লেষকদের মতে, এই নতুন মার্কিন সহায়তা প্যাকেজ ভারতের (India) সামরিক প্রস্তুতিকে আরও শক্তিশালী করবে। আধুনিক অস্ত্র কেনার পাশাপাশি তাদের রক্ষণাবেক্ষণ, প্রযুক্তিগত আপডেট এবং পর্যাপ্ত প্রশিক্ষণও সমান গুরুত্বপূর্ণ। সেই দিক থেকে এই চুক্তি ভারতীয় সশস্ত্র বাহিনীর জন্য বড় সুবিধা এনে দেবে। একই সঙ্গে এটি প্রমাণ করছে যে, প্রতিরক্ষা সহযোগিতার ক্ষেত্রে ভারত ও আমেরিকার সম্পর্ক আগের তুলনায় অনেক বেশি গভীর ও কৌশলগত পর্যায়ে পৌঁছে গিয়েছে। ভবিষ্যতে আরও উন্নত প্রযুক্তি ও প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম নিয়ে দুই দেশের সহযোগিতা বাড়তে পারে বলেও মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

















