বাংলা হান্ট ডেস্কঃ দলের একের পর এক নেতা অন্য শিবিরে যোগ দেওয়ায় চাপের মুখে তৃণমূল কংগ্রেস। এই পরিস্থিতিতে সংগঠনকে ধরে রাখা এবং কর্মী-সমর্থকদের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ বাড়াতে নতুন কৌশল নিচ্ছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee)। সেই লক্ষ্যেই এবার কালীঘাটে নিজের বাড়ি থেকে নিয়মিত ‘জনতার দরবার’ শুরু করতে চলেছেন তিনি।
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Mamata Banerjee) নতুন কৌশল
সাম্প্রতিক সময়ে তৃণমূলের বেশ কয়েকজন নেতা দল ছেড়ে অন্য শিবিরে যোগ দিয়েছেন। এই পরিস্থিতিতে দলের ভিতর ভাঙন ঠেকাতে একাধিক সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সূত্রের খবর, আপাতত বিভিন্ন কমিটিতে নতুন নেতাদের দায়িত্ব দেওয়ার ক্ষেত্রে তাড়াহুড়ো করবে না দল। শীর্ষ নেতৃত্ব ছাড়া অন্য পদে কাকে দায়িত্ব দেওয়া হবে, তা নিয়ে ধীরে-সুস্থে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
দলীয় নেতৃত্বের (Mamata Banerjee) মতে, গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পাওয়া অনেক নেতাই এখন রাজনৈতিকভাবে টার্গেট হয়ে যাচ্ছেন। সেই কারণেই এই সতর্ক অবস্থান নেওয়া হয়েছে। তৃণমূলের একাংশের দাবি, ভয় দেখানো এবং টাকার প্রলোভন, এই দুই উপায়ে নেতাদের দলবদল করানো হচ্ছে। তবে এই নিয়ে এখনই আদালত বা নির্বাচন কমিশনের দ্বারস্থ হওয়ার কোনও পরিকল্পনা নেই দলের।
এদিকে ভোটকুশলী সংস্থার উপর সম্পূর্ণ নির্ভর না করে আবার সংগঠনকে শক্তিশালী করার দিকেই জোর দিতে চাইছে তৃণমূল। ২০২৬ সালের নির্বাচনে খারাপ ফলের পর আইপ্যাকের ভূমিকা নিয়ে দলের ভিতরে প্রশ্ন উঠেছিল। সেই কারণেই এবার সংগঠনের পুরনো কাঠামোকে আরও সক্রিয় করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।
‘জনতার দরবার’-এ জোর
দলের কর্মী, সমর্থক এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ বাড়াতে এবার থেকে প্রতিদিন কালীঘাটের বাসভবনে ‘জনতার দরবার’-এ বসবেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee)। দুপুর ৩টে থেকে সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত তিনি মানুষের কথা শুনবেন বলে জানা গিয়েছে। শুধু কালীঘাটেই নয়, তৃণমূলের পার্টি অফিসেও ‘জনতার দরবার’ চালু হবে। সেখানে থাকবেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। দলের নিচুতলার কর্মীদের সঙ্গে যোগাযোগ আরও বাড়ানোই এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য।

এই প্রসঙ্গে তৃণমূল বিধায়ক কুণাল ঘোষ বলেন, নির্দিষ্ট কয়েক ঘণ্টা নয়, গভীর রাত পর্যন্ত দলের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে খোঁজখবর রাখছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee)। তাঁর কথায়, নেত্রী নিজেই সব পরিস্থিতির উপর নজর রাখছেন। একইসঙ্গে তিনি ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়দের শিবিরকে কটাক্ষ করে বলেন, তাঁরা এলাকায় যান না এবং কর্মীদের সঙ্গেও যোগাযোগ রাখেন না।
















