রেললাইনের ধারে দখলদারি! টিকিয়াপাড়ায় ২৫০ ঘর-দোকান গুড়িয়ে দিল বুলডোজার

Published on:

Published on:

Bulldozer action in Kathpole Slum near Tikiapara Railway Station psm
Follow

বাংলা হান্ট ডেস্কঃ রেলের জমিতে বেআইনি ভাবে দোকান উচ্ছেদ হয়েছে আগেই। এবার টিকিয়াপাড়া স্টেশনের (Tikiapara Railway Station) কাছেই রেললাইনের ধারে তৈরী হওয়া কাঠপোল বস্তিতে চালানো হল বুলডোজার (Bulldozer Action)। আজ অর্থাৎ মঙ্গলবার সকাল হতেই ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়েছিল বিশাল পুলিশ ও কেন্দ্রীয় বাহিনী। এরপর বস্তিতে থাকা প্রায় ২৫০ মত বেআইনি ঘর ভেঙে গুড়িয়ে দেওয়া হল।

টিকিয়াপাড়া স্টেশনের কাছে কাঠপোল বস্তিতে চলল বুলডোজার

যেমনটা জানা যাচ্ছে, পূর্ব রেলের তরফ থেকে আগেই বেআইনি ও দখলকরে বানানো ঘর ছেড়ে অনত্র সরে যাওয়ার জন্য নোটিশ দেওয়া হয়েছিল। সেখানে ১৯শে জুনের ডেডলাইন জানিয়ে দেওয়া হয়েছিল স্পষ্টভাবেই। এরপর গতকাল অর্থাৎ সোমবার পূর্ব রেল ও হাওড়া পুরসভার আধিকারিকেরা ঘটনাস্থলে গিয়ে দ্রুত সরে যাওয়ার জন্য নির্দেশ দিয়ে আসেন।

কিন্তু এতেও কোনো হেলদোল দেখা যায়নি! এরপর আজ সকাল হতেই চলল বুলডোজার, ভাঙা পড়ল ২৫০টি মত ঘর যেখানে থাকতেক কয়েক হাজার বাসিন্দা। বুলডোজার দিয়ে ঘর ভাঙার সময় প্রতিবাদে বিক্ষোভ শুরু করেন বস্তির বাসিন্দারা। কিন্তু উপস্থিত পুলিশ ও কেন্দ্রীয় বাহিনী লাঠিচার্জ শুরু করে অল্প করে। শেষমেশ বিক্ষোভকারীদের সরিয়ে দিয়ে ভেঙে দেওয়া হয় বেআইনিভাবে দখল করে বানানো ঘরগুলি।

Tikiapara Kathpol Slum demolished

আরও পড়ুনঃ ২৪ ঘন্টা খোলা দোকান থেকে অফিস! কর্মসংস্থান বাড়াতে বাজেটে বড় ঘোষণা রাজ্য সরকারের

মহরম পর্যন্ত সময় চেয়েছিলাম, তার আগেই…

কাঠপোল বস্তিরই বাসিন্দা মহম্মদ আখতার। তার মতে, মহরম অবধি সময় চেয়েছিলাম। শেষ হলেই চলে যেতাম কিন্তু তার আগেই ঘর ভেঙে গুড়িয়ে দিল। কোনোরকম পুনর্বাসন ছাড়াই রাতারাতি নোটিশ দিয়ে উচ্ছেদ করা হল। অন্যদিকে আরেক বাসিন্দা সিমলি বেগমের মতে, লাল নামে এক ব্যক্তি প্রতিমাসে ২৫০০ টাকা ভাড়া নিত। এমনকি আমাদের আধার কার্ড, ভোটার কার্ড অবধি নিয়ে রেখেছে। আজ যখন উচ্ছেদ না করার জন্য গেলাম পুলিশ দিয়ে বের করে দিল।

পূর্ব রেলের আধিকারিকের বক্তব্য

মঙ্গলবারের বুলডোজার অভিযান প্রসঙ্গে পূর্ব রেলের চিফ পাবলিক রিলেশন অফিসার জানান, ‘যে জমি থেকে বেআইনি দখলদার মুক্ত করা হয়েছে সেটা রেলের নয়। ওই জমির মালিকানা রাজ্য সরকারের। তবে রেলের কিছু উন্নয়নমূলক কাজের জন্য ওই জমির প্রয়োজন ছিল ও রাজ্য সরকার সেটা দিয়েছে ফলে দখলদারদের সরানো হল। সর্বত্র উচ্ছেদ করা হচ্ছে না। যেখানে উন্নয়নের জন্য জায়গা প্রয়োজন সেখানেই বেআইনিভাবে দখল নেওয়া লোকেদের তুলে দেওয়া হচ্ছে’।