বাংলা হান্ট ডেস্ক: সিন্ধু জলচুক্তি নিয়ে ভারত (India)-পাকিস্তান সম্পর্কের উত্তেজনা ফের একবার নতুন করে সামনে এল। পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী খোয়াজা আসিফ সম্প্রতি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, সিন্ধু নদীর জলপ্রবাহ নিয়ে ভারতের কোনও নতুন পদক্ষেপ যদি পাকিস্তানের জাতীয় স্বার্থে আঘাত হানে, তবে ইসলামাবাদ তার কড়া জবাব দেবে। এমনকি পরিস্থিতি চরমে পৌঁছলে ভারতের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণার পথেও হাঁটতে পারে পাকিস্তান। তাঁর এই মন্তব্য দুই দেশের কূটনৈতিক মহলে ব্যাপক আলোড়ন তৈরি করেছে। তবে পাকিস্তানের এই বক্তব্যের পরেই কড়া প্রতিক্রিয়া দিয়েছে ভারত। নয়াদিল্লি স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, এই ধরনের মন্তব্য আসলে পাকিস্তানের নিজেদের ব্যর্থতা আড়াল করার একটি মরিয়া প্রচেষ্টা।
পাক প্রতিরক্ষামন্ত্রীর হুমকির যোগ্য জবাব দিল ভারত (India)
মঙ্গলবার বিদেশ মন্ত্রকের নিয়মিত সাংবাদিক বৈঠকে এই বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল পাকিস্তানের বক্তব্যকে তীব্র ভাষায় সমালোচনা করেন। তিনি বলেন, পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রীর মন্তব্য ভারত (India) অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে শুনেছে, তবে এই ধরনের উস্কানিমূলক বক্তব্যের কোনও বাস্তব ভিত্তি নেই। তাঁর দাবি, পাকিস্তান দীর্ঘদিন ধরেই নিজেদের অভ্যন্তরীণ সমস্যা, অর্থনৈতিক সংকট এবং মানবাধিকার লঙ্ঘনের মতো বিষয় থেকে আন্তর্জাতিক মহলের নজর ঘোরানোর চেষ্টা করে আসছে। সেই কারণেই বারবার ভারতবিরোধী মন্তব্য এবং সংঘাতের পরিবেশ তৈরির চেষ্টা করা হচ্ছে।
আরও পড়ুন: পিতৃহারা মেয়ের স্বপ্নপূরণের অদম্য জেদ! কঠোর পরিশ্রমে প্রথমে IPS, পরের বছরই IAS হয়ে নজির দিবার
রণধীর জয়সওয়াল আরও অভিযোগ করেন, পাকিস্তান অধিকৃত কাশ্মীরে বছরের পর বছর ধরে সাধারণ মানুষের উপর দমন-পীড়ন চালিয়ে যাচ্ছে। তিনি বলেন, সেখানে নাগরিক স্বাধীনতা ক্রমশ সংকুচিত হচ্ছে এবং মানুষের মৌলিক অধিকার লঙ্ঘনের বহু অভিযোগ আন্তর্জাতিক মহলে উঠে এসেছে। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, পাকিস্তানের বিভিন্ন অঞ্চলে সাধারণ মানুষ নিত্যপ্রয়োজনীয় সামগ্রী ও ওষুধের পর্যাপ্ত সরবরাহ পাচ্ছেন না। অনেক ক্ষেত্রে প্রশাসনের তরফে ইন্টারনেট পরিষেবাও বন্ধ করে দেওয়া হচ্ছে, যার ফলে সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবন ব্যাহত হচ্ছে। পাশাপাশি নিরীহ নাগরিকদের উপর হামলা এবং প্রাণহানির ঘটনাও উদ্বেগজনক হারে বৃদ্ধি পেয়েছে বলে দাবি ভারতের।
ভারতের বিদেশ মন্ত্রকের বক্তব্যের কেন্দ্রে ছিল মানবাধিকার প্রসঙ্গ। রণধীর জয়সওয়াল বলেন, পাকিস্তানের উচিত নিজেদের দেশের পরিস্থিতির দিকে নজর দেওয়া এবং মানবাধিকার রক্ষার বিষয়ে আরও দায়িত্বশীল ভূমিকা নেওয়া। তিনি আশা প্রকাশ করেন, পাকিস্তান ভবিষ্যতে এই ধরনের অপকর্ম ও নাগরিক অধিকার খর্ব করার ঘটনাগুলি বন্ধ করবে। তাঁর মতে, প্রতিবেশী দেশের সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়নের জন্য দায়িত্বশীল কূটনৈতিক আচরণ প্রয়োজন, যুদ্ধের হুমকি নয়। ভারত বরাবরই শান্তি, স্থিতিশীলতা এবং আলোচনার মাধ্যমে সমস্যার সমাধানের পক্ষে, তবে দেশের স্বার্থ ও নিরাপত্তার প্রশ্নে কোনও আপস করা হবে না বলেও তিনি ইঙ্গিত দেন।

আরও পড়ুন: মহিলা যাত্রীদের জন্য বড় পদক্ষেপ ভারতীয় রেলের! ১৭৫ টি স্টেশনে বিনামূল্যে মিলবে স্যানিটারি প্যাড
প্রসঙ্গত, কয়েক দিন আগে পাকিস্তানের একটি সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে খোয়াজা আসিফ বলেছিলেন, পাকিস্তানের জাতীয় নিরাপত্তার অন্যতম ভিত্তি হল জলসম্পদ। তাঁর দাবি, সিন্ধু জল বণ্টন চুক্তি কার্যত স্থগিত হয়ে যাওয়ার কারণে পাকিস্তান ইতিমধ্যেই জলসংকটের মুখে পড়েছে। এমন পরিস্থিতিতে ভারত (India) যদি আরও কোনও পদক্ষেপ নেয় এবং তা পাকিস্তানের জল সরবরাহ বা কৃষিক্ষেত্রে নতুন সমস্যা তৈরি করে, তাহলে ইসলামাবাদ কঠোর প্রতিক্রিয়া দেখাতে বাধ্য হবে। তাঁর এই মন্তব্যের জবাবে ভারতের স্পষ্ট বার্তা, যুদ্ধের হুমকি দিয়ে নয়, বরং বাস্তব সমস্যার সমাধান খুঁজে বের করাই হওয়া উচিত পাকিস্তানের প্রধান লক্ষ্য। বর্তমানে দুই দেশের মধ্যে কূটনৈতিক উত্তেজনা নতুন মাত্রা পেলেও আন্তর্জাতিক মহল পরিস্থিতির উপর কড়া নজর রাখছে।

















