বাংলাহান্ট ডেস্ক: ব্যাঙ্কিং ব্যবস্থায় এআইয়ের ব্যবহার নিয়ে নয়া খসড়া নির্দেশিকা জারি করল RBI (Reserve Bank of India)। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই এখন সাধারণ মানুষের জীবনের সঙ্গে প্রায় ওতোপ্রতোভাবে জড়িয়ে রয়েছে। এই প্রযুক্তি আর ভবিষ্যতের প্রযুক্তি নয়, বরং আমাদের দৈনন্দিন জীবনের এক অবিচ্ছেদ্য অংশ। অফিসের কাজ থেকে শুরু করে চিকিৎসা, শিক্ষা, কেনাকাটা, এমনকি ব্যাঙ্কিং পরিষেবাতেও এই প্রযুক্তির ব্যবহার দিন দিন বেড়েই চলেছে। এই প্রযুক্তি যেমন কাজকে সহজ ও দ্রুত করে তুলছে, তেমনই তার অপব্যবহার বা ভুল সিদ্ধান্ত নিয়েও কিন্তু বিশেষজ্ঞ মহলে বেশ উদ্বেগও বাড়ছে। তার জেরেই এআই-এর ব্যবহার নিয়ে এবার সতর্ক অবস্থান নিল ভারতীয় রিজার্ভ ব্যাঙ্ক বা RBI। ইতিমধ্যেই ব্যাঙ্কিং ব্যবস্থায় এআই ব্যবহার নিয়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশিকার খসড়া প্রকাশ করেছে কেন্দ্রীয় ব্যাঙ্ক। সেই নির্দেশিকায় স্পষ্ট জানানো হয়েছে যে, এআই যতই উন্নত হোক না কেন, তার চূড়ান্ত নিয়ন্ত্রণ কিন্তু মানুষের হাতেই থাকতে হবে। আর সেই লক্ষ্যেই ব্যাঙ্কগুলিকে ‘কিল সুইচ’ বা জরুরি অবস্থায় এআই ব্যবহার বন্ধ করার বিশেষ ব্যবস্থার কথা উল্লেখ করা হয়েছে।
ব্যাঙ্কিং পরিষেবায় লাগামছাড়া AI ব্যবহার নিয়ে বড় পরিকল্পনা RBI (Reserve Bank of India)-র:
RBI (Reserve Bank of India)-এর খসড়া নির্দেশিকা অনুযায়ী জানা যাচ্ছে যে, ব্যাঙ্কে স্বয়ংক্রিয় সিদ্ধান্ত গ্রহণের জন্য যে এআই মডেলগুলি ব্যবহার করা হয় সেগুলির উপর সর্বক্ষণই মানব তদারকি থাকা জরুরি। বিশেষ করে যে সমস্ত জেনারেটিভ এআই মডেল সরাসরি গ্রাহক বা বাইরের ব্যবহারকারীদের সঙ্গে যোগাসূত্র বহন করে, সেগুলির ক্ষেত্রে অতিরিক্ত সাইবার নিরাপত্তা ব্যবস্থা কার্যকর করতে হবে। যদি কোনও এআই মডেল ভুল তথ্য দিতে শুরু করে, ভুল সিদ্ধান্ত নেয় বা অস্বাভাবিক আচরণ করে, তাহলে যাতে দ্রুত এক মুহূর্তের মধ্যে সেটিকে নিষ্ক্রিয় করা সম্ভব হয়, সেই ব্যবস্থাই হল ‘কিল সুইচ’। RBI-এর তরফে স্পষ্ট জানানো হয়েছে যে, এমন কোনও এআই-নির্ভর ব্যবস্থা ব্যঙ্কগুলিতে রাখা যাবে না, যেটিকে প্রয়োজনে অবিলম্বে বন্ধ করার কোনও সুযোগ নেই। অর্থাৎ প্রযুক্তির উপর সম্পূর্ণ নির্ভরশীল না হয়ে মানুষকেও বাধ্যমূলকভাবে পর্যবেক্ষণ ও হস্তক্ষেপ যাতে করে সেই ব্যবস্থাই করতে চাইছে কেন্দ্রীয় ব্যাঙ্ক।
আরও পড়ুন: আচমকা বন্ধ হাওড়ার ৪২ নম্বর বাস পরিষেবা! নিত্যযাত্রীদের জন্য চরম ভোগান্তি
কয়েক বছর আগেও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই ছিল মূলত বিজ্ঞান কল্পকাহিনিরই বিষয়। তবে ২০২২ সালে চ্যাটজিপিটির আত্মপ্রকাশের পর আমাদের আশপাশের চিত্রটা অনেকটাই পাল্টে গেল। এআই ব্যবহারে গোটা বিশ্বজুড়েই ঘটে গেল বিপ্লব। তারপর থেকেই একের পর এক সংস্থা নিজেদের পরিষেবায় এআই যুক্ত করতে শুরু করে। তবে এর সঙ্গে সঙ্গে তৈরি হয়েছে নতুন উদ্বেগও। প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞদের অনেকের মতেই, আগামী আর কয়েক বছরের মধ্যে বিভিন্ন চাকরির ক্ষেত্রে মানুষের জায়গা দখল করতে পারে এই এআই। এমনকি কিছু সমীক্ষায় বলা হচ্ছে, ২০৩২ সালের মধ্যে বিশ্বজুড়ে বিপুল সংখ্যক কর্মক্ষেত্রে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার প্রভাব পড়তে পারে। যদিও এই ধরনের পূর্বাভাস নিয়ে এখনও অনেক বিতর্কও রয়েছে, তবুও কর্মসংস্থান, তথ্যের নিরাপত্তা এবং আর্থিক পরিষেবার ক্ষেত্রে এআই ব্যবহারের ঝুঁকি নিয়েও আলোচনা ক্রমেই বাড়ছে।
তবে এআই-এর ইতিবাচক ব্যবহার নিয়েও কিন্তু সন্দেহ নেই। চিকিৎসা ক্ষেত্রে দ্রুত রোগ নির্ণয়, কৃষিতে উৎপাদন বাড়ানো, দুর্যোগ মোকাবিলা, ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণ কিংবা অগ্নিনির্বাপণ, বিভিন্ন ক্ষেত্রেই এই প্রযুক্তি কিন্তু গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে চলেছে। আগুন লাগার ঘটনায় ড্রোন, রোবট এবং এআই-নির্ভর বিশ্লেষণ ব্যবস্থা এখন বিশ্বের বহু দেশে উদ্ধারকাজকে আরও উন্নতভাবে কার্যকর করে তুলেছে। ভবিষ্যতে এই প্রযুক্তিই নিরাপত্তা ও জনসেবার ক্ষেত্রে বড় ভূমিকা নিতে পারে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। তবে একই সঙ্গে তাঁরা এর ব্যবহার নিয়ে সতর্কবার্তাও দিচ্ছেন। তাঁদের দাবি, কোনও প্রযুক্তিই মানুষের বিচারবুদ্ধির বিকল্প হতে পারে না। যেকোনও সময় ভুল তথ্য বা সফটওয়্যারের ত্রুটির কারণে বড় ধরনের কোনও আর্থিক ক্ষতি বা নিরাপত্তা সমস্যা তৈরি হতে পারে।

আরও পড়ুন: পকেটে চাপ মধ্যবিত্তের! হু হু করে বাড়ল সোনার দাম, আজকের প্রাইস কত জানুন
এই পরিস্থিতিতে RBI (Reserve Bank of India)-এর নতুন নির্দেশিকা এআই ব্যবহারের ক্ষেত্রে একটি ভারসাম্যপূর্ণ দৃষ্টিভঙ্গির ইঙ্গিত দিচ্ছে। আধুনিক প্রযুক্তিকে স্বাগত জানিয়েও নিয়ন্ত্রণ এবং জবাবদিহির গুরুত্ব তুলে ধরা হয়েছে, সেই নির্দেশিকায়। ব্যাঙ্কিংয়ের মতো সংবেদনশীল ক্ষেত্রে গ্রাহকদের স্বার্থ রক্ষা, তথ্যের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং ভুল সিদ্ধান্তের ঝুঁকি কমাতেই মানব তদারকির উপরই সর্বাধিক গুরুত্ব দিতে চাইছে কেন্দ্রীয় ব্যাঙ্ক। RBI-এর স্পষ্ট বার্তা, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা যতই শক্তিশালী হোক না কেন, শেষ সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা এবং নিয়ন্ত্রণ কিন্তু মানুষের হাতেই থাকা উচিত।













