প্রথমবার প্রিলিমসে মাত্র ১ নম্বরের জন্য ব্যর্থ! পরের বছরই UPSC IES-এ ২১ র‍্যাঙ্ক অর্জন মৃদুপাণির

Updated on:

Updated on:

Success Story of Mridupani Nambi will amaze you.
Follow

বাংলাহান্ট ডেস্ক: ভারতের অন্যতম সবচেয়ে কঠিন পরীক্ষা UPSC-তে সফল (Success Story) হওয়া হাজার হাজার ছেলেমেয়ের স্বপ্ন। কিন্তু বহু ছেলেমেয়েকেই বছরের পর বছর ধরে তার জন্য চেষ্টা চালিয়ে যেতে হয়। অনেকে আবার সেই ব্যর্থতাকেই নিজেদের আসল শক্তি বানিয়ে নেয়। আজ সেরকমই একজনের কথা বলব। মাত্র এক নম্বরের জন্য UPSC-র ইঞ্জিনিয়ারিং সার্ভিসেস (IES) পরীক্ষার প্রিলিমিনারিতে ব্যর্থ হওয়ার কষ্ট অনেককেই ভেঙে দিতে পারে। কিন্তু হায়দ্রাবাদের মৃদুপাণি নাম্বি সেই ব্যর্থতাকে তাঁর ভবিষ্যৎ সাফল্যের কাহিনি কী হবে তা স্থির করতে দেননি। ফল প্রকাশের দিন চোখে জল এলেও তিনি নিজেকে সামলে নিয়ে নিজেকে একটি প্রতিজ্ঞা করেছিলেন, যে করেই হোক, পরেরবার এই পরীক্ষায় সফল হতেই হবে। আর সেই অদম্য ইচ্ছাশক্তি, কঠোর পরিশ্রম এবং আত্মবিশ্বাসের জোরেই মাত্র এক বছরের ব্যবধানে তিনি UPSC-র ইঞ্জিনিয়ারিং সার্ভিসেস পরীক্ষায় সফল হয়ে নিজেকে দেওয়া প্রতিজ্ঞা পূরণ করেন। সর্বভারতীয় র‍্যাঙ্ক ২১ নিয়ে একজন IES অফিসার হিসেবে নিজের স্বপ্নপূরণ করেন তিনি। আজ তাঁর এই সাফল্যের গল্প অসংখ্য পরীক্ষার্থীর কাছে অনুপ্রেরণার উৎস হয়ে উঠেছে, যারা ব্যর্থতার পরও নতুন করে শুরু করার সাহস খুঁজে বেড়ান।

মৃদুপাণি নাম্বির অসাধারণ সাফল্যের কাহিনি (Success Story):

মৃদুপাণি শৈশব থেকেই হায়দরাবাদের বাসিন্দা। তাঁর দেওয়া একটি সাক্ষাৎকার থেকে জানা যায় যে, ছোটবেলা থেকে বরাবরই মেধাবী ছিলেন মৃদুপাণি। তিনি এও জানান যে প্রথম থেকেই  প্রযুক্তি ও ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের প্রতি তাঁর বিশেষ আগ্রহ ছিল। সেই আগ্রহ থেকেই উচ্চমাধ্যমিকের পর আইআইটি-জেইই পরীক্ষার প্রস্তুতি শুরু করেন। পরবর্তীতে তিনি জি. নারায়ণাম্মা ইনস্টিটিউট অফ টেকনোলজি অ্যান্ড সায়েন্স থেকে বি.টেক ডিগ্রি অর্জন করেন। কলেজ জীবনে প্রযুক্তিগত শিক্ষার পাশাপাশি প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার প্রতিও তাঁর আগ্রহ বেশ বৃদ্ধি পায়। এরপর ধীরে ধীরে তিনি উপলব্ধি করেন যে, শুধু একজন ইঞ্জিনিয়ার হিসেবেই নয়, দেশের গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক ও প্রযুক্তিগত দায়িত্বেও তিনি নিজেকে দেখতে চান। সেখান থেকেই UPSC-র ইঞ্জিনিয়ারিং সার্ভিসেস পরীক্ষাকে নিজের ভবিষ্যতের লক্ষ্য হিসেবে বেছে নেন।

আরও পড়ুন: করাচির সেনা দফতরে ভয়াবহ বিস্ফোরণ! মৃত্যু একাধিক জওয়ানের, পাকিস্তান জুড়ে হাই-অ্যালার্ট

স্নাতক ডিগ্রি অর্জনের পরই তিনি আইইএস পরীক্ষার প্রস্তুতিতে সম্পূর্ণ মনোনিবেশ করেন। ২০২০ সালে প্রথমবারের জন্য পরীক্ষায় বসেন তিনি। কিন্তু সেই সময় ভাগ্য যেন ঠিক শেষ মুহূর্তে মুখ ফিরিয়ে নেয়। মাত্র এক নম্বরের জন্য প্রিলিমস পরীক্ষায় ব্যর্থ হয়ে যান তিনি। এতদিনের পরিশ্রম মাত্র এক নম্বরের ব্যবধানে এই ব্যর্থতা যেন কোনওভাবেই মেনে নিতে পারছিল না। তবে সেই হতাশা বেশিদিন তাঁকে আটকে রাখতে পারেনি। তিনি বুঝেছিলেন, ব্যর্থতাই জীবেনর শেষ নয়, বরং আরও ভালোভাবে প্রস্তুতি নেওয়ার সুযোগ তিনি পেয়েছেনম। তাই নতুন উদ্যমে আবার পড়াশোনা শুরু করেন। নিজের লক্ষ্য থেকে যাতে মনোযোগ সরে না যায়, সে জন্য মোবাইল ফোনের ব্যবহার কমিয়ে দেন এবং সোশ্যাল মিডিয়া থেকেও সম্পূর্ণ দূরে সরে যান। প্রতিটি দিনের সময়সূচি তৈরি করে নিয়মিত পড়াশোনা, রিভিশন এবং অনুশীলনে নিজেকে ব্যস্ত রাখেন।

দ্বিতীয় প্রচেষ্টায় তিনি আগের ভুলগুলো বিশ্লেষণ করে প্রস্তুতির কৌশল বদলে ফেলেন। শুধু নতুন বিষয় পড়াই নয়, আগের পড়া বারবার ঝালিয়ে নেওয়া, নিয়মিত মক টেস্ট দেওয়া এবং সময় ব্যবস্থাপনার উপর বিশেষ গুরুত্ব দেন। ধৈর্য ধরে প্রতিটি ধাপ পরিকল্পনা অনুযায়ী এগিয়ে নিয়ে যান। তাঁর এই নিয়মতান্ত্রিক প্রস্তুতির ফল মিলতে বেশি সময় লাগেনি। পরের বছর ইউপিএসসি ইঞ্জিনিয়ারিং সার্ভিসেস পরীক্ষায় অসাধারণ ফল করে সর্বভারতীয় র‍্যাঙ্ক ২১ অর্জন করেন। যে পরীক্ষায় এক বছর আগে মাত্র এক নম্বরের জন্য ব্যর্থ হয়েছিলেন, সেই পরীক্ষাতেই পরের বছর দেশের সেরাদের তালিকায় নিজের নাম তুলে ধরেন তিনি।

Success Story of Mridupani Nambi will amaze you.

আরও পড়ুন: আমেরিকার চিন্তা বাড়িয়ে এবার এই মহাসাগরে নজর চিনের! কী পরিকল্পনা লালফৌজের?

মৃদুপাণি নাম্বির এই যাত্রা প্রমাণ করে, সাফল্য সবসময় প্রথম চেষ্টাতেই আসে না। অনেক সময় একটি ছোট ব্যর্থতাই ভবিষ্যতের বড় সাফল্যের (Success Story) ভিত্তি তৈরি করে। তিনি দেখিয়ে দিয়েছেন, লক্ষ্য স্পষ্ট থাকলে এবং নিজের উপর বিশ্বাস অটুট থাকলে একটি ব্যর্থতা কখনও জীবনের শেষ কথা হতে পারে না। বরং সেই অভিজ্ঞতাকেই শক্তিতে পরিণত করে আরও বড় সাফল্য অর্জন করা সম্ভব। আজ তাঁর গল্প শুধু একজন আইইএস অফিসারের সাফল্যের কাহিনি নয়, বরং প্রতিটি স্বপ্নবাজ তরুণ-তরুণীর জন্য একটি বার্তা- এক নম্বরের জন্য হার মানতে নয়, বরং আরও একবার উঠে দাঁড়িয়ে জয়ের ইতিহাস গড়তেই হয়।