করাচির সেনা দফতরে ভয়াবহ বিস্ফোরণ! মৃত্যু একাধিক জওয়ানের, পাকিস্তান জুড়ে হাই-অ্যালার্ট

Published on:

Published on:

Soldiers killed in massive explosion at Karachi army facility; high alert in Pakistan.
Follow

বাংলাহান্ট ডেস্ক: পাকিস্তানের (Pakistan) করাচিতে ভয়াবহ বিস্ফোরণ। জানা যাচ্ছে, একেবারে জনবহুল এলাকায় অবস্থিত সিন্ধ রেঞ্জার্সের সদর দফতরের মূল ফটকের সামনে এই বিস্ফোরণ ঘটে। প্রাথমিকভাবে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, এই ঘটনায় অন্তত চারজনের মৃত্যু হয়েছে। মৃতদের মধ্যে তিনজন সিন্ধ রেঞ্জার্সের জওয়ান বলে জানা গিয়েছে। বিস্ফোরণের পরপরই গোটা এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। স্থানীয় সংবাদমাধ্যম সূত্রের খবর, এটি আত্মঘাতী হামলা হতে পারে। বিস্ফোরণের কিছুক্ষণের মধ্যেই লাগাতার গুলির শব্দও শোনা যায়। পরিস্থিতির গুরুত্ব বিবেচনা করে ইতিমধ্যেই পাকিস্তানজুড়ে হাই-অ্যালার্ট জারি করা হয়েছে। পুরো ঘটনাস্থল ঘিরে ফেলেছে পাকিস্তান সেনা ও নিরাপত্তা বাহিনী। গোটা এলাকা সিল করে উদ্ধার ও তল্লাশি অভিযান চালানো হচ্ছে।

করাচির সেনা দফতরে ভয়াবহ বিস্ফোরণে মৃত্যু ৪ জওয়ানের, পাকিস্তান জুড়ে হাই-অ্যালার্ট (Pakistan):

হামলার নেপথ্যে কারা রয়েছে, তা পাক (Pakistan) সরকারের পক্ষ থেকে এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করা হয়নি। তবে বিভিন্ন সূত্রের খবর অনুযায়ী, জঙ্গি সংগঠন জামাত-উল-আহরার এই হামলার দায় স্বীকার করেছে। সংগঠনের পক্ষ থেকে জানানো হয় যে, তাদের একাধিক সদস্য এই আত্মঘাতী অভিযানে অংশ নিয়েছিল। প্রাথমিক তদন্ত অনুযায়ী অনুমান করা হচ্ছে যে, প্রথমে নিরাপত্তা বলয় ভাঙার জন্য একটি জোরালো বিস্ফোরণ ঘটানো হয়। তারপর আরও কয়েকটি বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায় এবং পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে। যদিও এই দাবিগুলির সত্যতা এখনও স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। আপাতত পাকিস্তানের নিরাপত্তা সংস্থাগুলির তরফে জানানো হয় যে এই ঘটনার সমস্ত দিক পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

আরও পড়ুন: ১ জুলাই অন্নপূর্ণা যোজনার ৩০০০ টাকা ট্রান্সফার, আগেভাগেই গুরুত্বপূর্ণ আপডেট জেনে নিন

যেখানে এই বিস্ফোরণ ঘটেছে, সেই গুলিস্তান-ই-জওহর এলাকা করাচির অন্যতম ব্যস্ত ও গুরুত্বপূর্ণ অঞ্চল। এই রাস্তা দিয়ে শহরের একাধিক বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপন করা যায়। পাশাপাশি পাকিস্তানের আবহাওয়া দফতরও এই পথেই রয়েছে। ফলে দিনের বেশিরভাগ সময়ই এলাকায় সাধারণ মানুষের ভিড় থাকে। বিস্ফোরণের পর মুহূর্তের মধ্যেই চারদিকে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। প্রাণ বাঁচাতে বহু মানুষ হুড়োহুড়ি শুরু করে দেন। বিস্ফোরণের অভিঘাতে আশপাশের কয়েকটি যানবাহন ও স্থাপনারও ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে। নিরাপত্তার স্বার্থে পুরো এলাকা খালি করে দেওয়া হয়েছে এবং সাধারণ মানুষের যাতায়াত সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে।

খবর পেয়েই ঘটনাস্থলে পৌঁছে যায় পুলিশ, বোমা নিষ্ক্রিয়কারী দল, দমকল এবং উদ্ধারকারী বাহিনী। আহতদের দ্রুত নিকটবর্তী হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। তবে মৃত ও আহতের প্রকৃত সংখ্যা এখলও সঠিকভাবে জানা যায়নি। ইতিমধ্যেই সিন্ধ প্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী সৈয়দ মুরাদ আলি শাহের তরফ থেকে এই ঘটনার পূর্ণাঙ্গ রিপোর্ট তলব করেছেন। পাশাপাশি উচ্চপর্যায়ের তদন্তের নির্দেশও দেওয়া হয়েছে। নিরাপত্তা বাহিনী আশপাশে বিভিন্ন জায়গার সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখছে এবং প্রত্যক্ষদর্শীদের সঙ্গে কথা বলে ঘটনার পূর্ণ চিত্র জানার চেষ্টা করছে। বিস্ফোরণে ব্যবহৃত বিস্ফোরক ও হামলার কৌশল সম্পর্কেও ফরেন্সিক বিশেষজ্ঞরা তদন্ত শুরু করেছেন।

Soldiers killed in massive explosion at Karachi army facility; high alert in Pakistan.

আরও পড়ুন: আমেরিকার চিন্তা বাড়িয়ে এবার এই মহাসাগরে নজর চিনের! কী পরিকল্পনা লালফৌজের?

সাম্প্রতিক সময়ে পাকিস্তানে (Pakistan) নিরাপত্তা বাহিনীকে লক্ষ্য করে জঙ্গি হামলার ঘটনা ফের যথেষ্ট পরিমাণে বৃদ্ধি পেয়েছে। বিশেষ করে খাইবার পাখতুনখোয়া, বালোচিস্তান এবং সিন্ধের বিভিন্ন এলাকায় নিরাপত্তা বাহিনী ও সরকারি বিভিন্ন নিশানা করে একাধিক হামলার ঘটনা ঘটেছে। করাচির এই বিস্ফোরণ সেই উদ্বেগ আরও বাড়িয়ে দিল। সিন্ধ রেঞ্জার্সের সদর দফতরের মতো কড়া নিরাপত্তাবেষ্টিত এলাকায় হামলা হওয়ায় পাকিস্তানের নিরাপত্তা ব্যবস্থার কার্যকারিতা নিয়েও নতুন করে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত হামলার প্রকৃত উদ্দেশ্য বা নেপথ্যের চক্রান্ত সম্পর্কে নিশ্চিতভাবে কিছু বলা না গেলেও, এই ঘটনার পর গোটা দেশে নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও জোরদার করা হয়েছে এবং গুরুত্বপূর্ণ সরকারি ও সামরিক স্থাপনাগুলিতে নজরদারি বাড়ানো হয়েছে।