বাংলা হান্ট ডেস্ক : হুল দিবস উপলক্ষে বাঁকুড়ার মুকুটমণিপুরে আয়োজিত অনুষ্ঠানে আদিবাসী সম্প্রদায়ের সামাজিক অধিকার, সরকারি সুযোগ-সুবিধা এবং সংরক্ষণ ব্যবস্থা নিয়ে বিস্তর বক্তব্য রাখেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)। তাঁর বক্তৃতার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয় ছিল তফসিলি উপজাতি শংসাপত্রে অনিয়মের অভিযোগ। মুখ্যমন্ত্রী জানান, অতীতে বেআইনিভাবে ইস্যু হওয়া বহু জাতি শংসাপত্রের সত্যতা যাচাইয়ের কাজ চলছে। তদন্তে কোনও ব্যক্তি বা সরকারি কর্মীর বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হলে কাউকেই রেয়াত করা হবে না।
জাতি শংসাপত্র নিয়ে বড় কথা মুখ্যমন্ত্রীর (Suvendu Adhikari)
মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বলেন, সরকারের লক্ষ্য আদিবাসী যুবকদের স্থায়ী কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করা এবং সংবিধানপ্রদত্ত সংরক্ষণের সুবিধা প্রকৃত প্রাপকদের হাতে পৌঁছে দেওয়া। এই প্রসঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী বলেন,”এই সরকার আদিবাসীদের কর্মসংস্থানও দিতে চায়। এই সরকার আদিবাসীদের যে সংরক্ষণ রয়েছে, সেটা দিতে চায়। বিগত সরকার আপনাদের সংরক্ষণ দেয়নি। কেড়ে নিয়েছিল অধিকার। কারণ তাঁরা পারমানেন্ট চাকরি দিত না। কন্ট্র্যাকচুয়াল চাকরি দিত। আপনারা দেখবেন যত কন্ট্র্যাকচুয়াল চাকরি দিয়েছে, সেখানে শিডিউল কাস্ট এবং শিডিউল ট্রাইব সংরক্ষণ নীতি মানা হয়নি।”
আদিবাসী সমাজের মর্যাদা ও প্রতিনিধিত্বের প্রসঙ্গও তুলে ধরেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, কেন্দ্রে বিজেপি সরকার ক্ষমতায় আসার পর এই সম্প্রদায়ের সাংবিধানিক ও রাজনৈতিক গুরুত্ব আরও বৃদ্ধি পেয়েছে। তিনি উল্লেখ করেন, অটল বিহারী বাজপেয়ীর প্রধানমন্ত্রিত্বের সময় সাঁওতালি ভাষা এবং অলচিকি লিপি সংবিধানের অষ্টম তফসিলে স্থান পেয়েছিল, যা আদিবাসী সংস্কৃতির জন্য একটি ঐতিহাসিক স্বীকৃতি।
আজ ভুয়ো শংসাপত্র ইস্যুর প্রসঙ্গে প্রশাসনের বর্তমান অবস্থান ব্যাখ্যা করে মুখ্যমন্ত্রী বলেন,”এই রাজ্যে হাজার হাজার ভুয়ো এসটি সার্টিফিকেট দেওয়া হয়েছে। আমাদের মন্ত্রী এবং দফতর প্রত্যেকটা ভুয়ো এসটি সার্টিফিকেটের বিরুদ্ধে তদন্ত করছে। আর দোষী সাব্যস্ত হলে যিনি সার্টিফিকেট দিয়েছেন আর যিনি নিয়েছেন, দুইজনকে জেলে পাঠানো হবে।”

আরও পড়ুন :আদিবাসী উন্নয়নে বড় ঘোষণা! হুল দিবসে একাধিক প্রকল্পের কথা জানালেন মুখ্যমন্ত্রী
উল্লেখ্য, বিভিন্ন বিজেপি শাসিত রাজ্যে আদিবাসী নেতাদের মুখ্যমন্ত্রীর পদে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে বলেও দাবি করেন শুভেন্দু অধিকারী। পশ্চিমবঙ্গ সরকারের বর্তমান মন্ত্রিসভাতেও একাধিক আদিবাসী সদস্য রয়েছেন বলে উল্লেখ করে মুখ্যমন্ত্রী জানান, প্রশাসনের বিভিন্ন স্তরে তাঁদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার চেষ্টা চলছে। এদিন ভুয়ো জাতি শংসাপত্রের বিরুদ্ধে প্রশাসনের ‘জিরো টলারেন্স’ নীতিও স্পষ্ট হয়ে যায়।













