বাংলা হান্ট ডেস্ক : ৩১ অগস্টের ডেডলাইন ঘিরে ২৬ হাজার চাকরি বাতিল মামলায় তৈরি হয়েছিল নতুন করে অনিশ্চয়তা। সেই পরিস্থিতিতে সুপ্রিম কোর্টের (Supreme Court) নির্দেশে আপাতত স্বস্তি পেলেন নিয়োগ প্রক্রিয়ায় যোগ্য হিসেবে চিহ্নিত প্রার্থীরা। নতুন করে দাখিল হওয়া অন্তর্বর্তীকালীন আবেদনের শুনানি না হওয়া পর্যন্ত তাঁদের চাকরি বহাল থাকবে।
চাকরি বাতিল মামলায় স্বস্তি দিল সুপ্রিম কোর্ট (Supreme Court)
স্কুল সার্ভিস কমিশনের নিয়োগে দুর্নীতির অভিযোগের জেরে তৃণমূল সরকারের সময়ে ২৬ হাজার চাকরি বাতিলের নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। পরবর্তী সময়ে সুপ্রিম কোর্ট স্পষ্ট করে দেয়, যাঁরা নিয়োগে কোনও অনিয়মের সঙ্গে যুক্ত নন, সেই যোগ্য প্রার্থীরা ৩১ আগস্ট পর্যন্ত চাকরি করতে পারবেন। একইসঙ্গে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে নতুন নিয়োগ প্রক্রিয়া শেষ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল এসএসসিকে।
রাজ্যে সরকার বদলের পর নতুন বিজেপি সরকার সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ মেনে সম্পূর্ণ নিয়োগ প্রক্রিয়াটি নতুন করে করার উদ্যোগ নেয়। এত বড় প্রক্রিয়া শেষ করতে আরও সময় প্রয়োজন বলেই আদালতের দ্বারস্থ হয় সংশ্লিষ্ট পক্ষ। সেই কারণেই যোগ্য প্রার্থীদের চাকরি আপাতত বহাল রাখার আবেদন জানিয়ে নতুন অন্তর্বর্তীকালীন আবেদন জমা পড়ে সুপ্রিম কোর্টে।
আবেদনকারীদের হয়ে আইনজীবী আদালতে বলেন, “যেহেতু এখনও নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়নি, তাই যোগ্য প্রার্থীদের চাকরির মেয়াদ বাড়ানোর আবেদন জানিয়ে নতুন অন্তর্বর্তীকালীন আবেদন ফাইল করা হয়েছে।” এর পরই প্রধান বিচারপতির বেঞ্চ বিষয়টি স্পষ্ট করে দেয়। অন্তর্বর্তীকালীন আবেদন জমা পড়ায় এদিন আলাদা করে কোনও নতুন নির্দেশ দেওয়ার প্রয়োজন নেই বলেই জানায় আদালত। বিচারপতি জয়মাল্য বাগচির বক্তব্য, ওই আবেদনের শুনানি না হওয়া পর্যন্ত আগের নির্দেশই কার্যকর
থাকবে।
আন্দোলনকারী শিক্ষক চিন্ময় মণ্ডল বলেন, “৩১ অগস্ট আসন্ন। উৎকণ্ঠায় আছি। প্রধান বিচারপতি জানিয়েছেন মামলার যতক্ষণ না শুনানি হচ্ছে ততক্ষণ পর্যন্ত পূর্ববর্তী নির্দেশ বহাল থাকছে।” আপাতত চাকরি হারানোর আশঙ্কা থেকে রেহাই পেলেন তাঁরা।

আরও পড়ুন : অভিষেকের করা মামলায় ২০ জন NCPI সাংসদকে নোটিশ! বিরাট নির্দেশও দিল সুপ্রিম কোর্ট
সুপ্রিম কোর্টের এই অবস্থানে কিছুটা স্বস্তি এলেও পুরো বিষয়টির চূড়ান্ত নিষ্পত্তি এখনও হয়নি। নতুন অন্তর্বর্তীকালীন আবেদনের শুনানির পরই যোগ্য প্রার্থীদের চাকরি নিয়ে পরবর্তী সিদ্ধান্ত স্পষ্ট হবে। নতুন নিয়োগ প্রক্রিয়া কত দ্রুত শেষ হয় এবং তার মধ্যেই যোগ্যদের চাকরি নিয়ে সুপ্রিম কোর্ট শেষ পর্যন্ত কী নির্দেশ দেয়, সেটিই হয়ে উঠেছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।













