বাংলা হান্ট ডেস্ক : কলকাতার নেতাজি ইন্ডোর স্টেডিয়ামে আয়োজিত অনুষ্ঠানে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari) মহিলাদের সুরক্ষার্থে একটি হেল্প ডেস্ক চালু করার কথা ঘোষণা করেন। এদিনের অনুষ্ঠানে নারী নিরাপত্তার ওপর বিশেষ জোর দেওয়া হয়। বিধানসভা ভোটের আগে বিজেপি বারবার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল নারী নিরাপত্তায় জোর দেওয়া হবে। এবার ক্ষমতায় আসার পর সেই পরিকল্পনা বাস্তবায়নের পথে আরও একধাপ এগিয়েছে।
নারী নিরাপত্তার জন্য ঘোষণা মুখ্যমন্ত্রীর (Suvendu Adhikari)
অনুষ্ঠানে মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন নারী ও শিশু কল্যাণ মন্ত্রী মালতি রাভা রায়, পুরমন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল এবং সরকারের আরও কয়েকজন বিশিষ্ট প্রতিনিধি। এদিনের অনুষ্ঠান থেকে জানানো হয়, আগামীকাল থেকেই রাজ্যের প্রতিটি থানায় শুধুমাত্র মহিলাদের সুবিধার জন্য পৃথক হেল্প ডেস্ক চালু করা হবে। একই সঙ্গে জানানো হয় মহালয়ার দিন থেকে প্রতিটি থানায় চালু হচ্ছে ১১২ জরুরি পরিষেবা।
এই ব্যবস্থার আওতায় প্রতিটি থানার সঙ্গে একটি করে নির্দিষ্ট গাড়ি যুক্ত থাকবে। কোনও ব্যক্তি ১১২ নম্বরে ফোন করলেই সেই গাড়ি দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে প্রয়োজনীয় সহায়তা দেবে। এই প্রসঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “বর্তমানে থানায় অভিযোগ জানালে পুলিশ পৌঁছতে গড়ে তিন ঘণ্টা সময় লাগে। ১১২ পরিষেবা চালু হলে সেই সময় উল্লেখযোগ্যভাবে কমবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।”
মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর দাবি,”ভবানীপুরে প্রচারের সময় বহু মহিলা তাঁকে জানিয়েছিলেন, ভাতার পাশাপাশি তাঁরা নিরাপত্তাও চান, যাতে সন্ধ্যার পরও নিশ্চিন্তে বাইরে বেরোতে পারেন।” মহিলাদের অভিযোগ দ্রুত শোনার জন্য একটি পৃথক নারী কমিশন গঠনের ঘোষণাও করেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, অতীতে নির্যাতনের শিকার হলেও যাঁরা ন্যায়বিচার পাননি, তাঁরাও এই কমিশনের দ্বারস্থ হতে পারবেন। মুখ্যমন্ত্রী জানান, “অভিযোগ প্রমাণিত হলে অভিযুক্তের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে, জেল এবং সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করার মতো পদক্ষেপও করা হবে।”

আরও পড়ুন :এক অ্যাপেই হোটেল থেকে গাড়ি বুকিং, বড় উদ্যোগ রাজ্য সরকারের
শিক্ষা সংক্রান্ত চলমান সরকারি প্রকল্পগুলি নিয়ে আশ্বস্ত করে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “ছাত্র-ছাত্রী ও কন্যাদের জন্য চালু থাকা কোনও প্রকল্প বন্ধ হবে না।” এদিন কর্মসংস্থান নিয়েও গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণা করা হয়। মুখ্যমন্ত্রী জানান, রাজ্যের শিক্ষিত বেকার যুবক-যুবতীদের জন্য এক লক্ষ নতুন চাকরির সুযোগ তৈরি করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে ৩০ শতাংশ পদ শুধুমাত্র মহিলাদের জন্য সংরক্ষিত থাকবে বলেও তিনি স্পষ্ট করেন। মুখ্যমন্ত্রীর এদিনের ঘোষণাগুলি থেকে স্পষ্ট, সরকারের নজর এখন আর্থিক সহায়তার পাশাপাশি নারী সুরক্ষা, দ্রুত পুলিশি পরিষেবা এবং নতুন কর্মসংস্থানের দিকেও সমানভাবে রয়েছে। আগামী দিনে এই ঘোষণাগুলির বাস্তবায়ন কতটা দ্রুততার সাথে হয়, সেটাই এখন দেখার।













