বাংলা হান্ট ডেস্ক : তৃণমূলের (Trinamool Congress) অন্দরের নেতৃত্বের লড়াই এবার পৌঁছে গেল নির্বাচন কমিশনের দরজায়। নিজেদেরই দলের বৈধ নেতৃত্ব বলে দাবি করে বৃহস্পতিবার কমিশনের ফুল বেঞ্চের সামনে হাজির হয় ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Ritabrata Banerjee) নেতৃত্বাধীন শিবির। বৈঠক শেষে তাঁরা শুধু সাংগঠনিক শক্তির দাবিই করেননি, একইসঙ্গে দলের বর্তমান নেতৃত্বের বিরুদ্ধে একাধিক বিস্ফোরক অভিযোগও সামনে আনেন।
কী বলছে ঋতব্রতর (Ritabrata Banerjee) তৃণমূল শিবির?
আজ নবগঠিত কার্যনির্বাহী কমিটির ১০ জন সদস্য নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে বৈঠকের পর ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, “আমাদের দলের চেয়ারম্যান শ্রী অরূপ রায়, একদম পরিষ্কার করে জানিয়ে দিচ্ছি।” নির্বাচন কমিশনে যাওয়ার কারণ ব্যাখ্যা করতে গিয়ে তিনি জানান, তাঁদের উদ্দেশ্য কোনও স্বীকৃতি দাবি করা নয়। প্রকৃত তৃণমূল কংগ্রেসের প্রতিনিধিত্ব তাঁরাই করছেন। দল ভাঙার অভিযোগ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “আমাদের পক্ষে দুই-তৃতীয়াংশের চেয়েও বেশি সংখ্যাগরিষ্ঠতা রয়েছে। সংখ্যাগরিষ্ঠ বিধায়ক, পুরসভার কাউন্সিলর, জেলা পরিষদের সদস্য এবং জেলা পরিষদের সভাপতিরা আমাদের সঙ্গেই আছেন।”
উল্লেখ্য, ঋতব্রতের দাবি, গত ২২ তারিখ নিয়ম মেনে বিশেষ প্রতিনিধি অধিবেশন সম্পন্ন হওয়ার পরের দিনই নির্বাচন কমিশনের কাছে সাক্ষাতের আবেদন জানানো হয়েছিল। সেই আবেদন গ্রহণ করে কমিশন বৈঠকের সময় দেয়। এরপর দলের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে সরাসরি আক্রমণ শানান ঋতব্রত। নাম না করেই দলের প্রভাবশালী যুব নেতৃত্বকে নিশানা করে তিনি আরও বলেন, “এখানে আমরা যারা আছি কেউ ব্যক্তি নই। আমাদের লড়াইটাই ব্যক্তিপুজোর বিরুদ্ধে। তৃণমূল স্তরের একটা পার্টি যেভাবে একজন ‘চার্টার্ড ব্যুরোক্র্যাট’-এর দ্বারা হাইজ্যাক হয়ে গিয়েছিল, যে পার্টি একটা পারিবারিক সম্পত্তিতে, একটা প্রাইভেট লিমিটেড কোম্পানিতে পরিণত হয়েছিল— আমরা সবাই মিলে সেই একনায়কতন্ত্রের বিরুদ্ধে লড়ছি। এটা সমষ্টির লড়াই।” ব্যক্তিনির্ভর রাজনীতির পরিবর্তে সম্মিলিত নেতৃত্বের পক্ষে সওয়াল করে তিনি বলেন, “তৃণমূলে কোনও ‘আমি’ নেই, সবাই ‘আমরা’।”

আরও পড়ুন :অরুণাচলের ‘জমি দখল’ করে একী কাণ্ড চিনের! উপগ্রহ চিত্রে ধরা পড়ল এমন ছবি, জানলে অবাক হবেন
রাজ্যের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়েও এদিন সরব হন ঋতব্রত। তাঁর বক্তব্য, সাধারণ মানুষের ক্ষোভ কোনও ব্যক্তি বা দলের বিরুদ্ধে নয়, বরং দুর্নীতির বিরুদ্ধে। সেই প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “তৃণমূলের বিরুদ্ধে রাজ্যে যে বিপুল জনমত তৈরি হয়েছে, তা আসলে দুর্নীতির বিরুদ্ধে জনমত। যারা বালি চুরি করেছে, বালির সিন্ডিকেট চালিয়েছে, কয়লা, ডলোমাইট কিংবা গোরু পাচারের সিন্ডিকেট চালিয়েছে—তাদের বিরুদ্ধে অবিলম্বে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া অত্যন্ত জরুরি।” তৃণমূলের সাংগঠনিক নিয়ন্ত্রণ নিয়ে যে সংঘাত এখন প্রকাশ্যে, নির্বাচন কমিশনের এই বৈঠক তারই নতুন অধ্যায় বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল।













