‘আসল তৃণমূল’ কারা নিয়ে লড়াই! কমিশনের কাছে কী কী যুক্তি দিল কালীঘাট তৃণমূল?

Published on:

Published on:

Kalighat Trinamool Congress submits reasons to Election Commission claims themselves as original TMC
Follow

বাংলা হান্ট ডেস্কঃ বিধানসভা ভোটের পর ভেঙে চুরমার হয়ে গিয়েছে তৃণমূল কংগ্রেস (Trinamool Congress)। বর্তমানে দলের প্রতীক ও তহবিলের রাশ কোন শিবিরের হাতে থাকবে সেই নিয়ে দড়ি টানাটানি চলছে। এই পরিস্থিতিতে নিজেদের ‘আসল তৃণমূল’ দাবি করে নির্বাচন কমিশনের (Election Commission) কাছে একগুচ্ছ যুক্তি তুলে ধরল মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়পন্থী শিবির।

কালীঘাট তৃণমূলের পক্ষে কী কী যুক্তি দিলেন কল্যাণ? | (Trinamool Congress)

‘আসল তৃণমূল’ কে? এই প্রশ্নের উত্তরে নিজেদের স্বপক্ষে দুই শিবিরকেই যুক্তি দিতে বলা হয়েছিল। সেই মতো সোমবার সকালে কমিশনে গিয়ে কালীঘাট তৃণমূলের লিখিত বক্তব্য ও যাবতীয় নথি জমা দেন সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর সঙ্গে মমতাপন্থী আরেক সাংসদ সাগরিকা ঘোষও ছিলেন। সেখানে নিজেদের ‘আসল’ ও ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়দের দাবি অবৈধ বলে উল্লেখ করে একাধিক যুক্তি দেওয়া হয়েছে বলে খবর।

আরও পড়ুনঃ স্টেশনে নোংরা দেখলেই এই নম্বরে হোয়্যাটসঅ্যাপ! মিলবে বিশেষ সার্টিফিকেট, বিরাট ঘোষণা পূর্ব রেলের

কালীঘাট তৃণমূলের তরফে বলা হয়েছে, তৃণমূল তৈরি হওয়ার পর প্রথমে ৩ বছর ও পরে ৪ বছর অন্তর সাংগঠনিক নির্বাচন হওয়ার নিয়ম ছিল। তবে ২০০৬ সালে দলের সংবিধান সংশোধন করে ৫ বছর অন্তর সাংগঠনিক নির্বাচনের নিয়ম করা হয়। ২০২২ সালে শেষ সাংগঠনিক নির্বাচন হয়েছিল। নিয়ম অনুযায়ী ২০২৭ সাল অবধি কমিটির মেয়াদ আছে। ঋতব্রতরা যে ৩ বছর মেয়াদের কথা বলছেন তা আইনত ভুল।

এছাড়া ২০২২-এর ৩ বছর পর যদি সত্যিই সংগঠনের মেয়াদ উত্তীর্ণ হয়ে গিয়ে থাকে তাহলে ছাব্বিশের ভোটে ঋতব্রত সহ বাকি বিধায়কদের জোড়াফুল প্রতীকে প্রার্থী করা আইনত বৈধ হিসেবে গণ্য হবে না। তাহলে তাঁদের ইস্তফা দেওয়া উচিত।

রাজ্য বিধানসভার অধ্যক্ষের কাছে ঋতব্রতদের তরফে জানানো হয়েছিল, তাঁরা তৃণমূলের একটি ব্লক। দলের কোনও ব্লক কখনও জাতীয় কর্মসমিতির বৈঠক ডাকতে পারে না। দলের সংবিধান বলছে, ব্লক, জেলা, রাজ্য ও যেসব রাজ্যে সংগঠন আছে, সেখানকার নির্বাচনের মধ্যে দিয়ে অল ইন্ডিয়া তৃণমূল কংগ্রেসের জাতীয় কর্মসমিতি গঠন হয়। সেখানে একটা ব্লক কীভাবে জাতীয় কর্মসমিতির বৈঠক ডাকতে পারে? এছাড়া জাতীয় কর্মসমিতির বৈঠক ডাকতে হলে দু’টি সংবাদপত্রেও বিজ্ঞাপন দিতে হয়। সেই বিজ্ঞাপনগুলি কোথায়?

Trinamool Congress

সংবিধান বলছে, দলের সব সাংসদ, বিধায়ক জাতীয় কর্মসমিতির এক্স অফিশিও মেম্বার্স। সেক্ষেত্রে ২০২২-এ যারা সাংসদ ছিলেন, ২০২৪-এ যারা সাংসদ হয়েছেন ও ২০২৬-এর বিধায়করা সবাই কমিটির সদস্য। সবার মতামত ছাড়া কী করে জাতীয় কর্মসমিতির বৈঠক ডাকা হল?

ঋতব্রতদের তরফ থেকে বহুবার দাবি করা হয়েছে, দলের সংবিধান অনুসারে তাঁরা পদক্ষেপ নিয়েছেন। এর অর্থ তাঁরা সংবিধানের অস্তিত্ব, সর্বভারতীয় তৃণমূল কংগ্রেসের অস্তিত্ব অস্বীকার করেছেন।

ছাব্বিশের বিধানসভা ভোটে পরাজয়ের পর তৃণমূল দুই শিবিরে বিভক্ত হয়ে গিয়েছে। একদিকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় পন্থী কালীঘাট তৃণমূল, অন্যদিকে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়দের নতুন তৃণমূল। এর মধ্যে ‘আসল’ কে? বর্তমানে সেই নিয়েই চলছে লড়াই।