বাংলাহান্ট ডেস্ক: ফর্সা ত্বকের আকাঙ্ক্ষাকে কেন্দ্র করে বহু বছর ধরেই বাজারে বিভিন্ন ধরনের স্কিন হোয়াইটনিং ক্রিম বা ফেয়ারনেস ক্রিমের (Fairness Cream) চাহিদা রয়েছে। কিন্তু সেই সৌন্দর্যের প্রতিশ্রুতিই এবার বড়সড় স্বাস্থ্যঝুঁকির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। পাকিস্তানে তৈরি ‘গোরি বিউটি ক্রিম’ ব্যবহার করে একাধিক মহিলার গুরুতর শারীরিক সমস্যা দেখা দেওয়ার অভিযোগ সামনে আসতেই কড়া পদক্ষেপ করেছে মহারাষ্ট্র সরকার। রাজ্যের খাদ্য ও ওষুধ প্রশাসন এই ক্রিমের বিক্রি, মজুত এবং ব্যবহার সম্পূর্ণভাবে নিষিদ্ধ করেছে। অভিযোগ, এই স্কিন হোয়াইটনিং ক্রিমে ক্ষতিকর মাত্রায় বিষাক্ত পারদ রয়েছে, যা দীর্ঘদিন ব্যবহারের ফলে কিডনির মারাত্মক ক্ষতি করতে পারে। ইতিমধ্যেই নাগপুর-সহ মহারাষ্ট্রের বিভিন্ন এলাকায় এই পণ্য বাজেয়াপ্ত করতে অভিযান শুরু করেছে প্রশাসন। পুলিশ ও সংশ্লিষ্ট দফতরের আধিকারিকরা বিভিন্ন গুদাম, দোকান এবং সরবরাহ কেন্দ্রেও তল্লাশি চালাচ্ছেন।
পাকিস্তানি’ফেয়ারনেস ক্রিম’ (Fairness Cream) মেখে কিডনি বিকল অনেকের, বড় পদক্ষেপ সরকারের
স্বাস্থ্য দফতরের প্রাথমিক তদন্তে উঠে এসেছে, নাগপুরের কয়েকজন মহিলা ই-কমার্স ওয়েবসাইট এবং বিভিন্ন সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে ‘গোরি বিউটি ক্রিম’ কিনেছিলেন। তাঁদের অনেকেই টানা প্রায় দু’বছর ধরে নিয়মিত এই ক্রিম ব্যবহার করছিলেন। কিছুদিন আগে তাঁদের মধ্যে কয়েকজনের শরীরে ক্রনিক কিডনি রোগের লক্ষণ দেখা দেয়। চিকিৎসকেরা পরীক্ষা-নিরীক্ষার সময় লক্ষ্য করেন, আক্রান্তদের মধ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ মিল রয়েছে, প্রত্যেকেই একই ব্র্যান্ডের এই স্কিন হোয়াইটনিং ক্রিম ব্যবহার করেছেন। এরপর বিষয়টি নিয়ে আরও বিস্তারিত তদন্ত শুরু হয়। বিশেষজ্ঞদের মতে, দীর্ঘদিন পারদযুক্ত প্রসাধনী ব্যবহার করলে তা ধীরে ধীরে শরীরে জমা হতে থাকে এবং কিডনি, স্নায়ুতন্ত্র ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গের ওপর গুরুতর প্রভাব ফেলতে পারে। সেই কারণেই প্রশাসন বিষয়টিকে অত্যন্ত গুরুত্ব দিয়ে দেখছে (Fairness Cream)।
আরও পড়ুন: প্রবল বর্ষায় ভয়াবহ বিপর্যয়! মহারাষ্ট্রে পাহাড় ধসে চাপা পড়ল গোটা গ্রাম, মৃত ৩, নিখোঁজ ৩৫
মহারাষ্ট্রের খাদ্য ও ওষুধ প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, জনস্বাস্থ্যের কথা মাথায় রেখেই এই নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। বর্তমানে নাগপুর ছাড়াও রাজ্যের একাধিক শহর ও শহরতলিতে বিশেষ অভিযান চলছে। যেখানেই ‘গোরি বিউটি ক্রিম’ পাওয়া যাচ্ছে, সেখান থেকেই তা বাজেয়াপ্ত করা হচ্ছে। প্রশাসনের আশঙ্কা, অনলাইন প্ল্যাটফর্ম এবং সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমে এই ধরনের নিষিদ্ধ বা অননুমোদিত প্রসাধনী এখনও বহু মানুষের কাছে পৌঁছে যাচ্ছে। তাই সাধারণ মানুষকে এই ধরনের পণ্য কেনার আগে সতর্ক থাকারও পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে এই পণ্য কীভাবে বাজারে প্রবেশ করল এবং কারা এর সরবরাহের সঙ্গে যুক্ত, তা নিয়েও তদন্ত চলছে।
চর্মরোগ বিশেষজ্ঞদের মতে, দ্রুত ফর্সা হওয়ার লোভে অনেকেই অজানা বা অনুমোদনহীন প্রসাধনী ব্যবহার করেন, যা ভবিষ্যতে ভয়াবহ স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি করতে পারে। বিশেষ করে পারদের মতো ভারী ধাতু মেশানো প্রসাধনী ত্বক সাময়িকভাবে উজ্জ্বল দেখাতে পারে, কিন্তু দীর্ঘমেয়াদে তা কিডনি বিকল হওয়া, স্নায়ুর সমস্যা, ত্বকের স্থায়ী ক্ষতি এবং হরমোনজনিত নানা জটিলতার কারণ হতে পারে। তাই চিকিৎসকদের পরামর্শ ছাড়া কোনও স্কিন হোয়াইটনিং পণ্য ব্যবহার না করার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি প্রসাধনী কেনার সময় পণ্যের উপাদান, উৎপাদক সংস্থা এবং সরকারি অনুমোদনের বিষয়টিও যাচাই করার কথা বলা হয়েছে।

এই ঘটনার পর আবারও সৌন্দর্যচর্চার নামে বাজারে বিক্রি হওয়া প্রসাধনীর নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, ত্বকের স্বাভাবিক রং পরিবর্তনের অবাস্তব প্রতিশ্রুতি দেওয়া পণ্যের প্রতি মানুষের আকর্ষণ কমাতে সচেতনতা বৃদ্ধি অত্যন্ত জরুরি। প্রশাসনের পক্ষ থেকেও জানানো হয়েছে, ভবিষ্যতে এমন ক্ষতিকর প্রসাধনীর বিরুদ্ধে আরও কঠোর নজরদারি চালানো হবে এবং আইন ভঙ্গকারীদের বিরুদ্ধে কঠিন ব্যবস্থা নেওয়া হবে। স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের বক্তব্য, সুস্থ ত্বকের জন্য কোনও শর্টকাট নেই। তাই বিজ্ঞাপনের প্রলোভনে না পড়ে নিরাপদ ও বৈজ্ঞানিকভাবে পরীক্ষিত প্রসাধনী ব্যবহার করাই সবচেয়ে বুদ্ধিমানের কাজ (Fairness Cream)।













