বাংলাহান্ট ডেস্ক: একটানা প্রবল বর্ষণে ফের বিপর্যস্ত মহারাষ্ট্র (Maharashtra Rain)। প্রতি বছর বর্ষা এলেই মুম্বই (Mumbai)-সহ রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে জলজট, ভূমিধস (Landslide) ও প্রাণহানির ছবি সামনে আসে। সরকার বদলেছে, উন্নয়নের একাধিক দাবি উঠেছে, কিন্তু বর্ষাকাল এলেই যেন একই দুর্ভোগের পুনরাবৃত্তি ঘটে। সোমবার ভোরে পুণে জেলার মাভাল তহশিলের পাতান গ্রামে ভয়াবহ ভূমিধসের ঘটনায় সেই আশঙ্কাই আরও একবার বাস্তবে পরিণত হল। রাতভর অঝোর বৃষ্টির পর পাহাড়ের একাংশ ধসে পড়ে গ্রামের একাধিক বাড়ির উপর। স্থানীয় প্রশাসনের প্রাথমিক অনুমান, অন্তত পাঁচটি বা তারও বেশি বাড়ি মাটি ও পাথরের নিচে চাপা পড়েছে। ধ্বংসস্তূপের নিচে এখনও ৩০ থেকে ৩৫ জন আটকে থাকতে পারেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। ঘটনাকে কেন্দ্র করে গোটা এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, উদ্ধারকাজ চললেও মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে।
মহারাষ্ট্রে বৃষ্টিতে (Maharashtra Rain) পাহাড় ধসে চাপা পড়ল গোটা গ্রাম, মৃত ৩, নিখোঁজ ৩৫:
প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, সোমবার ভোর প্রায় সাড়ে চারটে নাগাদ এই দুর্ঘটনা ঘটে। অধিকাংশ মানুষ তখন ঘুমিয়ে ছিলেন। হঠাৎ পাহাড় ভেঙে বিশাল মাটি ও পাথরের স্রোত নেমে এসে মুহূর্তের মধ্যে একাধিক বাড়িকে গ্রাস করে। খবর পেয়েই জাতীয় বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী (NDRF)-এর প্রায় ৩০ সদস্যের একটি বিশেষ দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার অভিযান শুরু করে। প্রবল বৃষ্টি ও কাদামাটির কারণে উদ্ধারকাজ অত্যন্ত কঠিন হয়ে উঠেছে। তবুও ধ্বংসস্তূপ সরিয়ে আটকে পড়াদের খোঁজে নিরলস চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন উদ্ধারকারী দল। এখনও পর্যন্ত তিনটি মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, মৃতদের মধ্যে রয়েছেন ৬০ বছরের নন্দু তিকোনে, ৩০ বছরের মৌলি তিকোনে এবং ৫৫ বছরের অনিতা তিকোনে। আহতদের দ্রুত হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে এবং নিখোঁজদের খোঁজে উদ্ধার অভিযান অব্যাহত রয়েছে (Maharashtra Rain)।
আরও পড়ুন: ২০৩৬-এর মধ্যে ভারতের ‘গ্রোথ ইঞ্জিন’ হবেন মধ্যবিত্তরাই! পরিসংখ্যানের মাধ্যমে জানালেন নির্মলা সীতারামন
ভূমিধসের পাশাপাশি প্রবল বৃষ্টির কারণে মহারাষ্ট্রের যোগাযোগ ব্যবস্থাও মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়েছে। মুম্বই-পুণে এক্সপ্রেসওয়ে এবং পুরনো মুম্বই-পুণে জাতীয় সড়কের একাধিক অংশে ধস নামায় যান চলাচল কার্যত থমকে গিয়েছে। নিরাপত্তার স্বার্থে প্রশাসনের পক্ষ থেকে সাধারণ মানুষকে অতি প্রয়োজন ছাড়া এই পথে যাতায়াত না করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে সরকারি ট্র্যাফিক আপডেট নিয়মিত অনুসরণ করারও আবেদন জানানো হয়েছে। উদ্ধারকারী দল, পুলিশ এবং প্রশাসনের কর্মীরা ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলিতে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। তবে আবহাওয়া দপ্তরের পূর্বাভাস অনুযায়ী আগামী কয়েকদিনও ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা থাকায় নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
এদিকে শুধু পুণেই নয়, প্রবল বর্ষণে বিপর্যস্ত মুম্বই শহরও। টানা বৃষ্টিতে শহরের বহু এলাকা জলমগ্ন হয়ে পড়েছে। বিভিন্ন জায়গায় বাড়ি ভেঙে পড়া, গাছ উপড়ে যাওয়ার মতো ঘটনায় অন্তত ১০ জনের মৃত্যুর খবর মিলেছে। একাধিক রাস্তায় জল জমে যান চলাচল ব্যাহত হয়েছে, যার প্রভাব পড়েছে স্থানীয় ট্রেন ও সড়ক পরিবহণেও। সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয়, উদ্বোধনের মাত্র দু’মাসের মধ্যেই মুম্বই-পুণে এক্সপ্রেসওয়ের ২ নম্বর টানেলের একটি অংশ ধসে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। নিরাপত্তার স্বার্থে ওই রুটে যান চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ রাখা হয়েছে। প্রকৌশলীরা টানেলের ক্ষয়ক্ষতি খতিয়ে দেখছেন এবং দ্রুত মেরামতির কাজ শুরু করার প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।

আরও পড়ুন: ভারতের মিসাইল পরীক্ষায় বাড়ছে চিন্তা? নজরদারি চালাতে মায়ানমার সীমান্তে রাডার বসাল চিন
পরিস্থিতির গুরুত্ব বিবেচনা করে মহারাষ্ট্রের (Maharashtra Rain) একাধিক জেলায় রেড অ্যালার্ট জারি করেছে আবহাওয়া দপ্তর। প্রশাসনের পক্ষ থেকে নিচু এলাকায় বসবাসকারী মানুষকে সতর্ক থাকতে, প্রয়োজন হলে নিরাপদ স্থানে সরে যেতে এবং অপ্রয়োজনীয় ভ্রমণ এড়িয়ে চলার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এনডিআরএফ, দমকল, পুলিশ এবং স্থানীয় প্রশাসন যৌথভাবে উদ্ধার ও ত্রাণকাজ চালিয়ে যাচ্ছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, জলবায়ুর পরিবর্তনের ফলে চরম আবহাওয়ার ঘটনা ক্রমশ বাড়ছে। সেই কারণে শুধু উদ্ধার অভিযান নয়, পাহাড়ি এলাকা ও ভূমিধসপ্রবণ অঞ্চলে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা, উন্নত সতর্কীকরণ ব্যবস্থা এবং শক্তিশালী পরিকাঠামো গড়ে তোলাও এখন সময়ের দাবি। মহারাষ্ট্রের এই সাম্প্রতিক বিপর্যয় আবারও সেই প্রয়োজনীয়তার দিকেই আঙুল তুলেছে।













