বাংলা হান্ট ডেস্কঃ ২০২৩ সালের রিষড়া অশান্তির ঘটনায় এনআইএ-র হাতে গ্রেপ্তার হয়েছেন তৃণমূল নেতা সাকির আলি (Sakir Ali)। আর তারপর থেকেই হুগলির রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে জোর আলোচনা। কারণ, যাঁর বিরুদ্ধে সাম্প্রদায়িক অশান্তিতে জড়িত থাকার অভিযোগ উঠেছে, সেই সাকির আলিই বছরের পর বছর নিজের বাড়িতে দুর্গাপুজো (Durga Puja) করে আসছেন বলে দাবি স্থানীয়দের। তাঁর ব্যক্তিগত জীবন এবং রাজনৈতিক পরিচয় ঘিরে এখন নানা প্রশ্ন উঠছে।
দুর্গাপুজো থেকে রাজনীতির পরিচিত মুখ সাকির আলি (Sakir Ali)
স্থানীয় সূত্রের দাবি, আরামবাগের পারুল এলাকায় নিজের বাড়িতে নিয়ম করে দুর্গাপুজোর (Durga Puja) আয়োজন করেন সাকির আলি (Sakir Ali)। মহালয়ার দিন চণ্ডীপাঠও করেন তিনি। তাঁর স্ত্রী অপরূপা পোদ্দার হিন্দু পরিবারের মেয়ে এবং আরামবাগের প্রাক্তন সাংসদ। সাকিরের গ্রেপ্তারির পর অপরূপা পোদ্দার দাবি করেছেন, ২০২৩ সালে রামনবমীর শোভাযাত্রাকে ঘিরে যখন রিষড়ায় উত্তেজনা ছড়িয়েছিল, তখন পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা করেছিলেন তাঁর স্বামী। বরং বড় কোনও ঘটনা যাতে না ঘটে, তার জন্যই তিনি এগিয়ে এসেছিলেন বলে দাবি অপরূপার। রাজনৈতিক কারণেই তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
স্থানীয়দের একাংশও একই প্রশ্ন তুলছেন। তাঁদের বক্তব্য, যিনি বাড়িতে দুর্গাপুজো (Durga Puja) করেন এবং বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মানুষের সঙ্গে মেলামেশা করেন, তিনি কীভাবে সাম্প্রদায়িক অশান্তিতে জড়িত থাকতে পারেন, তা তাঁদের কাছে স্পষ্ট নয়।
সাকির আলির (Sakir Ali) রাজনৈতিক জীবন শুরু হয় নব্বইয়ের দশকে। সেই সময় রিষড়ার কংগ্রেস নেতা জাহিদ হাসান খানের হাত ধরে তিনি ছাত্র রাজনীতিতে আসেন। বিধানচন্দ্র কলেজে পড়ার সময় থেকেই ছাত্র আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত হয়ে পড়েন তিনি। ধীরে ধীরে রিষড়া এলাকায় তাঁর প্রভাব বাড়তে থাকে। প্রথমে কংগ্রেসে থাকলেও পরে তৃণমূল কংগ্রেসে যোগ দেন।
কলেজ জীবনেই পরিচয় হয় অপরূপা পোদ্দারের সঙ্গে। সেই পরিচয় পরে প্রেমে বদলে যায়। ভিন্ন ধর্মের হওয়ায় তাঁদের বিয়ে নিয়ে সে সময় কিছু বিতর্কও হয়েছিল। তবে সব বাধা পেরিয়ে ২০০৩-০৪ সালের দিকে তাঁরা বিয়ে করেন।২০১০ সালে রিষড়া পুরসভার ৪ নম্বর ওয়ার্ড থেকে তৃণমূলের টিকিটে কাউন্সিলর হন অপরূপা পোদ্দার। পরে তিনি ভাইস চেয়ারম্যান হন।
২০১৪ সালে আরামবাগের সাংসদ নির্বাচিত হওয়ার পর এলাকায় রাজনৈতিক দায়িত্ব আরও বেশি করে সামলাতে শুরু করেন সাকির। পরবর্তীতে তিনিও কাউন্সিলর হন এবং রিষড়া পুরসভার ভাইস চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পান। সাকির (Sakir Ali) এবং অপরূপা দু’জনেই আইন নিয়ে পড়াশোনা করেছেন। সাংসদ থাকাকালীন অপরূপার বিভিন্ন সাংগঠনিক কাজেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতেন সাকির। এবার রিষড়া অশান্তি মামলায় তাঁর গ্রেপ্তারির পর ফের আলোচনায় উঠে এসেছে তাঁর দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবন ও ব্যক্তিগত পরিচয়।

আরও পড়ুনঃ নাবালিকার মৃত্যুর পর উত্তাল বারুইপুর, ২৪ ঘণ্টায় কী কী করল শুভেন্দু সরকার?
কলকাতার বিশেষ এনআইএ আদালতে সাকিরকে (Sakir Ali) তোলা হলে সেখানে উপস্থিত ছিলেন অপরূপা পোদ্দারও। স্বামীর বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের বিরোধিতা করে তিনি প্রকাশ্যেই তাঁর পাশে দাঁড়িয়েছেন। এখন এই গ্রেপ্তারিকে ঘিরে হুগলির রাজনৈতিক মহলে বিতর্ক আরও বাড়ছে।













