বাংলা হান্ট ডেস্ক: অবশেষে মঙ্গলবার রাজ্যজুড়ে মসজিদের মাইক খোলা নিয়ে দায়ের হওয়া জনস্বার্থ মামলা খারিজ করে দিয়েছে কলকাতা হাইকোর্ট (Calcutta High Court)। রাজ্যে নতুন সরকারের গঠনের পরপরই কোনওরকম আইনি নোটিশ ছাড়া পুলিশের পক্ষ থেকে জোর করে ধর্মস্থান থেকে লাউডস্পিকার বা মাইক খুলে নেওয়ার (Mosque Loudcpeaker Case) অভিযোগ উঠেছিল। এরপরেই মামলা গড়িয়েছিল আদালতে। কি জানালেন নগরোন্নয়ন পঞ্চায়েত ও মন্ত্রী দিলীপ ঘোষ (Dilip Ghosh)?
মঙ্গলবার কলকাতা হাইকোর্টে খারিজ হল মসজিদের মাইক খোলার মামলা!
বুধবার এপ্রসঙ্গে প্রতিক্রিয়া জনিয়েছেন রাজ্যের পঞ্চায়েত ও গ্রামোন্নয়ন মন্ত্রী দিলীপ ঘোষ। সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে এদিন তিনি বলেছেন, ‘বহু মসজিদ থেকে মাইক নামিয়ে নেওয়া হয়েছে। অনেকেই নামিয়ে নিয়েছেন। আমাদের মন্দিরেও যে আওয়াজ চলত, সেই আওয়াজ বন্ধ করা হয়েছে। কেবল নির্দিষ্ট সময় বাঁধা আছে, সেই সময় চালাচ্ছে। অন্যকে ডিস্টার্ব না করে।’
সরকারি সিদ্ধান্তের কথা উল্লেখ করে তিনি আরও বললেন, ‘সরকার নীতিগতভাবে সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিনা কারণে এই আওয়াজ, বা নয়েস পলিউশন আর হবে না। কোথাও কাওকে মাইক বাজানোর অধিকার দেওয়া হয়নি। সেটা পুলিশের সাথে কথা বলে করতে বলা হয়েছে। কোন মসজিদে পুলিশের সাথে কথা বলে অনুমতি নিয়ে করা হয়েছে? তারপরে যদি কেউ কোর্টে যায় স্বাভাবিকভাবে সে তো হারবেই। এটা একপ্রকার সরকারকে চ্যালেঞ্জ করা। যারা করছেন, তারা ঠিক করছেন না।’
আরও পড়ুনঃ দুইয়ের বেশি সন্তান নিলেই বিরাট শাস্তি? নতুন আইন আনার ভাবনা রাজ্য সরকারের!
অন্যদিকে দুর্নীতির প্রতি সরকারের জিরো টলারেন্সের নীতির প্রয়োগ হিসাবে ইদানীং দেখা যাচ্ছে পুলিশদের মধ্যেও যারা ঘুষ নিয়েছেন তাদেরকেও গ্রেফতার করা হচ্ছে। এ প্রসঙ্গে দিলীপ ঘোষ বলেছেন, ‘দেখুন দুর্নীতি তো কোনো এক জায়গায় থেমে নেই। পশ্চিমবঙ্গে যতদূর পর্যন্ত বাতাস পৌঁছে যায়, সেখানে দুর্নীতি পৌঁছে যায়।’
সরাসরি পুলিশের বিরুদ্ধে তাঁর অভিযোগ, ‘সমস্যাটা শুরু হয়েছে পুলিশ থেকে। পুলিশ সবচেয়ে বেশী দুর্নীতিগ্রস্ত। পুলিশের কাজ হয়েছে টাকা তুলে দেওয়া। সেজন্য যারা এর সাথে যুক্ত আছে, তাদের কাউকে ছাড়া হবে না। শুরু হয়েছে । যারা করাপশন ধরবে তারাই যদি করাপটেড হয় তাহলে কী করে হবে? সর্ষের মধ্যেই তো ভুত । আমরা চাই যাতে সমস্ত জায়গা থেকে করাপশন মুক্ত হয়। সমাজও চায়। সবজায়গায় শুরু হয়ে গেছে অ্যাক্টিভিটি।’
কলকাতা হাইকোর্টের অস্থায়ী সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়কেই আপাতত বিরোধী দলনেতা হিসাবে ঘোষণা করা হয়েছে। এ প্রসঙ্গে প্রতিক্রিয়ায় দিলীপ বাবু জানিয়েছেন, ‘ব্যাস! কোর্ট যেটা নির্দেশ দিয়েছে ওটাই চলবে। তারপর পরবর্তীকালে যেরকম ঠিক হবে সেই বিধান অনুযায়ী। আদালতে যখন কেস গেছে আদালত ঠিক করবে। কিন্তু স্পিকারের ক্ষমতা আছে, বিধানসভায় তিনি ডিসিশন নিতে পারেন। তথ্য ইত্যাদি তার কাছেই আছে । আর সবকিছু এক্সপোজ করা হয় না, অনেক কিছু গোপনীয়তা থাকে, অধিকার দেওয়া হয়েছে স্পিকারকে। বাকি তো বিচার চলবে।’













