বাংলা হান্ট ডেস্ক: বর্তমান সময়ে পেট্রোল পাম্পে (E20 Petrol) উপলব্ধ নতুন ই২০ জ্বালানি (৮০ শতাংশ পেট্রোল এবং ২০ শতাংশ ইথানল) রয়েছে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে। শুধু তাই নয়, সোশ্যাল মিডিয়ায় (Social Media) বিভিন্ন পোস্টে দাবি করা হচ্ছে যে এই জ্বালানি গাড়ির মাইলেজ কমিয়ে দেওয়ার পাশাপাশি ইঞ্জিনের ক্ষতি করতে পারে। এমতাবস্থায়, কেন্দ্রীয় সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক মন্ত্রী নিতিন গড়করি (Nitin Gadkari) এই সংক্রান্ত সংশয়গুলির সরাসরি উত্তর দিয়েছেন। তিনি স্পষ্ট করেছেন যে, ইঞ্জিনের ক্ষতির দাবিগুলি সম্পূর্ণ বিভ্রান্তিকর। তবে, তিনি এটা স্বীকার করেছেন যে এই জ্বালানির ফলে মাইলেজের ওপর সামান্য প্রভাব পড়তে পারে।
E20 পেট্রোলের (E20 Petrol) প্রসঙ্গে কী জানিয়েছেন নিতিন গড়করি?
মাইলেজের ওপর কতটা প্রভাব পড়বে: বৈজ্ঞানিক দিক থেকে দেখতে গেলে ইথানলের ক্যালোরিফিক ভ্যালু তথা শক্তি উৎপাদন ক্ষমতা সাধারণ পেট্রোলের চেয়ে সামান্য কম। তাই, E20 জ্বালানি ব্যবহার করলে মাইলেজ কিছুটা কমে যেতে পারে। কেন্দ্রীয় মন্ত্রীর মতে, এই হ্রাস উদ্বেগের কারণ হওয়ার মতো যথেষ্ট নয়। মূলত, মাইলেজ অনেকাংশেই নির্ভর করে কোথায় গাড়ি চালানো হচ্ছে তার ওপর। বড় বড় শহরের তীব্র যানজটে ঘন ঘন ব্রেক করলে এবং লোয়ার গিয়ারে গাড়ি চালালে মাইলেজ এমনিতেই কমে যায়। তিনি আরও জানিয়েছেন, কেবলমাত্র হাইওয়েতে না থেমে একটানা ১০০ কিমি/ঘণ্টা গতিতে গাড়ি চালালেই মাইলেজে সামান্য পার্থক্য লক্ষ্য করবেন।

ইঞ্জিন বিকল হওয়ার দাবির প্রসঙ্গে কী জানিয়েছেন: সোশ্যাল মিডিয়ায় এমন অনেক পোস্ট সামনে আসছে যেখানে, E20 জ্বালানির কারণে গাড়ির ইঞ্জিন বিকল হয়ে যেতে পারে বা এর যন্ত্রাংশ নষ্ট হয়ে যেতে পারে বলে দাবি করা হচ্ছে। নিতিন গড়করি এই দাবিগুলিকে সম্পূর্ণভাবে নাকচ করে দিয়েছেন এবং এগুলিকে ‘মিথ্যা প্রচার’ বলে অভিহিত করেছেন। দেশব্যাপী E20 জ্বালানি চালু করার আগে পুণেতে স্থিত টেস্টিং ল্যাব ARAI এবং বিভিন্ন গাড়ি প্রস্তুতকারী সংস্থা কঠোর পরীক্ষা চালিয়েছে। পুরোনো গাড়িগুলোর জন্য একটি ছোট পরিবর্তন আনা হয়েছে। পূর্বে গাড়ির ইঞ্জিনে ধাতব ওয়াশার ব্যবহার করা হতো, কিন্তু এখন সেগুলির পরিবর্তে রাবারের ওয়াশার ব্যবহার করা হচ্ছে। সরকার গাড়ি কোম্পানিগুলোকে কঠোরভাবে নির্দেশ দিয়েছে যেন তারা সার্ভিসিংয়ের সময় গ্রাহকদের কাছ থেকে কোনও অতিরিক্ত ফি না নিয়ে এই ওয়াশারগুলো বদলে দেয়। তদন্তে এটাও জানা গেছে যে, গাড়ির ইঞ্জিন বিকল হওয়ার আসল কারণ ই২০ ফুয়েল নয়, বরং ভেজাল পেট্রোল।
ডিজেলের একটি দেশীয় বিকল্পও সামনে এসেছে: শুধু পেট্রোলই নয়, বরং ভারী যানবাহনের জন্য ডিজেলের সস্তা ও দূষণমুক্ত বিকল্প তৈরির কাজও দ্রুতগতিতে এগিয়ে চলেছে। ইতিমধ্যেই কর্ণাটকে অশোক লেল্যান্ড ডিজেলের সঙ্গে মিথানলের ১৫ শতাংশ মিশ্রণ ব্যবহার করে সফলভাবে বাস চালিয়েছে। এখন ট্রাক ও বাসের জন্য বিশেষ মিথানল ইঞ্জিন তৈরি করা হচ্ছে। উত্তর-পূর্ব ভারতে প্রতি লিটার মিথানল ২০ থেকে ২২ টাকা খরচে উৎপাদিত হচ্ছে। যা ১১০ টাকা মূল্যের ডিজেলের তুলনায় উল্লেখযোগ্য সাশ্রয় দেবে। জাহাজ থেকে শুরু করে কৃষি সরঞ্জাম এবং ট্রাক্টর সবকিছুর জন্যই একটি চমৎকার বিকল্প হিসাবে আইসোবিউটানল তৈরি করা হয়েছে। ভারত প্রতি বছর প্রায় ২ লক্ষ কোটি টাকার জীবাশ্ম জ্বালানি আমদানি করে। এমতাবস্থায়, এই দেশীয় জ্বালানিগুলির প্রচলন কেবল এই বিপুল ব্যয়ই বাঁচাবে না, বরং দেশকে দূষণমুক্তও করবে।
আরও পড়ুন: বড় পদক্ষেপ কেন্দ্রের! একাধিক ইলেকট্রনিক্স উপকরণের ক্ষেত্রে শুল্ক মকুব, দাম কমবে মোবাইল-ল্যাপটপের?
ফ্লেক্স-ফুয়েল প্রযুক্তি একটি বড় পরিবর্তন আনবে: জানিয়ে রাখি যে, সরকার মাইলেজ সংক্রান্ত এই সামান্য উদ্বেগের একটি নিশ্চিত সমাধান খুঁজে পেয়েছে। আর তা হল ফ্লেক্স-ফুয়েল ইঞ্জিন প্রযুক্তি। ARAI-এর রিপোর্ট অনুযায়ী, ফ্লেক্স-ফুয়েলের জন্য বিশেষভাবে ডিজাইন করা ইঞ্জিনযুক্ত যানবাহনগুলিতে মাইলেজ বা পারফরম্যান্স নিয়ে কোনও সমস্যা নেই। ইতিমধ্যেই মারুতি সুজুকি প্রথম ফ্লেক্স ফুয়েল গাড়ি সামনে এনেছে। এর পাশাপাশি টাটা মোটরস থেকে শুরু করে, হুন্ডাই, মাহিন্দ্রা এবং টয়োটার মতো বড় কোম্পানিগুলি শীঘ্রই তাদের নতুন ফ্লেক্স মডেল বাজারে আনছে। উল্লেখ্য যে, ব্রাজিলে ১৯৭০ সাল থেকে ২৭ শতাংশ ইথানল-পেট্রোল ব্লেন্ড সফলভাবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। কার্যকারিতার দিক থেকে ইথানল পেট্রোলের চেয়ে উন্নত। তাছাড়া, ইথানলের দাম প্রতি লিটারে মাত্র ৭৫ টাকা। যা ভবিষ্যতে দামী পেট্রোল থেকে উল্লেখযোগ্য স্বস্তি দিতে পারে।
















