বাংলা হান্ট ডেস্ক : বিধানসভা নির্বাচনের ফল ঘোষণার পর থেকেই ভাঙতে থাকে তৃণমূল শিবির। পরিস্থিতি এমন জায়গায় দাঁড়ায় যে তৃণমূল শিবির দুভাগে বিভক্ত হয়ে যায়। আসল তৃণমূল কারা এই নিয়ে প্রশ্ন উঠতেই মমতা শিবির ও ঋতব্রত শিবিরের মধ্যে ফাটল ক্রমশ স্পষ্ট হয়। এই আবহে কারা আসল তৃণমূল, তা জানালেন পঞ্চায়েতমন্ত্রী দিলীপ ঘোষ (Dilip Ghosh)। সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি তৃণমূলের অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব নিয়ে মতপ্রকাশ করেন।
আসল তৃণমূল নিয়ে কি বললেন দিলীপ ঘোষ (Dilip Ghosh) ?
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন শিবির ও ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের গোষ্ঠীর মধ্যে কে প্রকৃত তৃণমূল কংগ্রেসের প্রতিনিধিত্ব করছে, তা নিয়ে রাজনৈতিক বিতর্ক এখন তুঙ্গে। এই বিরোধের নিষ্পত্তি আদালত অথবা নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্তের উপর নির্ভর করছে। তবে এই সংঘাতকে বিজেপি গুরুত্ব দিচ্ছে না বলেই দাবি করেন দিলীপ ঘোষ।
এই প্রসঙ্গে দিলীপ ঘোষ বলেন, “তৃণমূলে কে কার সঙ্গে যাচ্ছেন, কারা নতুন কমিটি গড়ছেন বা ভাঙছেন সেগুলি আমাদের চিন্তার বিষয় নয়। স্পিকার দেখছেন। কমিশন বা হাইকোর্ট ঠিক করবে এসব। কাদের হাতে তহবিল যাবে, কার হাতে দলের রাশ- এসব নিয়ে আমরা চিন্তিত নই। এসব ওদের অভ্যন্তরীণ ব্যাপার। বিধানসভায় যাঁরা সংখ্যাগরিষ্ঠতা প্রমাণিত করবেন তাঁরাই হবেন। তবে আমরা বিরোধী চাই বিধানসভায়।”
তৃণমূলের সাংগঠনিক পরিস্থিতি প্রসঙ্গে বলতে গিয়ে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কেও নিশানা করেন তিনি। তাঁর দাবি, কালীঘাটের রাজনৈতিক প্রভাব অনেকটাই ক্ষয় হয়েছে এবং সাম্প্রতিক ঘটনাগুলি সেই ইঙ্গিতই দিচ্ছে। এই প্রসঙ্গে দিলীপ ঘোষের বক্তব্য, “কালীঘাট আগেই ফাঁকা হয়ে গেছে। সেজন্য মমতা নিরাশ। বারুইপুর কাণ্ডে প্রতিবাদে নেমে তো নিজের দলের লোককেই চড় মারলেন। এটা চরম হতাশার প্রকাশ।” দিলীপ ঘোষের এই মন্তব্য রাজনৈতিক মহলে যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ। তবুও আসল তৃণমূল কারা এর উত্তর পাওয়া যাবে নির্বাচন কমিশনের কাছেই।

আরও পড়ুন : শিল্পে গতি আনতে নয়া নীতি ! জমি কিনে শিল্পপতিদের হাতে তুলে দেবে রাজ্য সরকার
যদিও কালীঘাট শিবির ক্রমশ কোণঠাসা হচ্ছে মানতে নারাজ মমতাপন্থীরা। শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়ের কথায়, “এ ভাবে দল ভেঙে কোনও দিন কেউ শক্তিশালী হয়নি, ভবিষ্যতেও হবে না। ওদের শিবিরের অনেকেই এখন আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছেন। যাদের নিয়ে ওরা কমিটি গঠন করেছে, তাদের মধ্যে কে ওদের সঙ্গে আছে, আর কে নেই, সেটাই ওরা এখন বুঝতে পারছে না। তাই ওদের এই কৌশলে আমাদের কিছু এসে যায় না।”

















