শিল্পে গতি আনতে নয়া নীতি ! জমি কিনে শিল্পপতিদের হাতে তুলে দেবে রাজ্য সরকার

Published on:

Published on:

Government of West Bengal take New policy to boost industry
Follow

বাংলা হান্ট ডেস্ক : পশ্চিমবঙ্গে শিল্পায়নকে আরও গতিশীল করতে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ নীতিগত পরিবর্তনের ঘোষণা রাজ্য সরকারের (Government of West Bengal)। জমি অধিগ্রহণ নিয়ে অতীতের বিতর্কের পুনরাবৃত্তি এড়াতে এবার শিল্পের জন্য প্রয়োজনীয় জমি সরকার নিজেই সংগ্রহ করে বিনিয়োগকারীদের হাতে তুলে দেওয়ার পরিকল্পনা নিয়েছে। পাশাপাশি, বড় শিল্পপ্রকল্পের ক্ষেত্রে স্থানীয় প্রশাসনের অনুমোদনের দীর্ঘ প্রক্রিয়া সরিয়ে কেন্দ্রীয়ভাবে ছাড়পত্র দেওয়ার ব্যবস্থাও চালু করার কথা জানানো হয়েছে।

শিল্পের জন্য বড় ঘোষণা রাজ্য সরকারের (Government of West Bengal)

এদিন এক অনুষ্ঠানে মুখ্যমন্ত্রী শিল্পবান্ধব পরিবেশ গড়ে তুলতে সরকারের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার বিস্তারিত রূপরেখাও তুলে ধরেন। ডানকুনির এই নতুন প্রকল্পে প্রায় ৬০০ কোটি টাকা বিনিয়োগ করা হচ্ছে বলেও জানানো হয়। প্রায় ১২ লক্ষ বর্গফুট জায়গাজুড়ে গড়ে উঠবে অত্যাধুনিক উৎপাদন কেন্দ্র।

রাজ্যের নতুন জমি নীতির কথা ব্যাখ্যা করতে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “আমরা ২০১৩ সালের ল্যান্ড পার্চেস পলিসি অ্যাকসেপ্ট করেছি। কোনও শিল্প জমি সরাসরি কিনে, তারপর আমরা চাই না আরেকটা নন্দীগ্রাম-সিঙ্গুর হোক। আমরা ডাইরেক্ট ল্যান্ড পার্চেস পলিসি চালু করেছি। এর মাধ্যমে আমরা বিএসএফ-কে বর্ডারের জন্য জমি দিয়েছি। রেলকে জমি দিয়েছি, জাতীয় সড়কের জন্য জমি কিনে দিয়েছি, নতুন বিমানবন্দরের জমি কিনে দিয়েছি। একইভাবে প্রাইভেট ইন্ডাস্ট্রিয়ালিস্ট, যাঁরা এই রাজ্যে বিনিয়োগ করতে চান, ল্যান্ড কোনও সমস্যা হবে না। আমরা ডাইরেক্ট ল্যান্ড পার্চেস স্কিমে, আমরা জমি কিনে আপনাদের সরাসরি হ্যান্ডওভার করব। ল্যান্ড সেলিং পলিসি একদম বদলে দেব।”

সরকারের বক্তব্য, শিল্পের জন্য জমি সংগ্রহের দায়িত্ব এবার সরাসরি প্রশাসন নেবে। ফলে জমি অধিগ্রহণকে কেন্দ্র করে দীর্ঘ আইনি জটিলতার সম্ভাবনা অনেকটাই কমবে। বিনিয়োগকারীদের জমি সংগ্রহ নিয়ে আলাদা করে সমস্যার মুখে পড়তে হবে না। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, সিঙ্গুর ও নন্দীগ্রামের জমি আন্দোলন একসময় পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে বড় প্রভাব ফেলেছিল। সেই অভিজ্ঞতা থেকেই ভবিষ্যতে শিল্প প্রকল্পের পথে জমি-সংক্রান্ত কোনও বিরোধ তৈরি না হোক, সেদিকেই নজর রেখে এই নীতিগত পরিবর্তন আনা হচ্ছে।

শুধু জমি নয়, শিল্প স্থাপনের প্রশাসনিক প্রক্রিয়াকেও সহজ করার আশ্বাস দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, “একশো কোটি টাকার বেশি যাঁরা বিনিয়োগ করবেন, কোনও পঞ্চায়েত, পুরসভা, কর্পোরেশন, জেলা পরিষদের থেকে অনুমতি নিতে হবে না। যত গণ্ডগোল ওখানে। যত দাদাগিরি ওখানে। যাঁরা ১০০ কোটি টাকার বেশি বিনিয়োগ করবেন, তাঁদের সেন্ট্রালি সিঙ্গল উইন্ডো সিস্টেমে লাইসেন্স দেওয়া হবে। আপনারা এখানে বিনিয়োগ করুন।”

Government of West Bengal take New policy to boost industry

আরও পড়ুন : বাড়ি বাড়ি পৌঁছচ্ছে আয়ুষ্মান ভারতের ফর্ম! কারা পাচ্ছেন, কারা বাদ পড়ছেন?

শিল্পে নতুন বিনিয়োগ টানার পাশাপাশি কর্মসংস্থান বৃদ্ধির লক্ষ্যেই রাজ্য সরকার জমি ও লাইসেন্স সংক্রান্ত নীতিতে এই পরিবর্তনের পথে হাঁটছে। সরকারের আশা, নতুন এই উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে পশ্চিমবঙ্গে শিল্প স্থাপনের পরিবেশ আরও সহজ ও বিনিয়োগবান্ধব হয়ে উঠবে।