বাংলা হান্ট ডেস্ক : পিএম বিশ্বকর্মা যোজনার (Vishwakarma Yojana) তৃতীয় বর্ষপূর্তি উপলক্ষে আজ বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ধনধান্য অডিটোরিয়ামে হবে বিশেষ অনুষ্ঠান। রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী সহ কেন্দ্রীয় মন্ত্রীদের উপস্থিতিতে অনুষ্ঠান এই প্রকল্পের সুবিধাভোগীদের সরাসরি সহায়তা দেওয়ার পাশাপাশি তাঁদের তৈরি সামগ্রীর প্রচার ও বিক্রির ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে।
আজকের অনুষ্ঠানের মঞ্চ থেকেই পিএম বিশ্বকর্মা শংসাপত্রের পাশাপাশি দক্ষতা প্রশিক্ষণ এবং ঋণ সংক্রান্ত শংসাপত্র দেওয়া হবে তাঁদের। সঙ্গে থাকবে টুলকিট। কারিগরদের উৎপাদিত সামগ্রী নিয়ে একটি প্রদর্শনীরও আয়োজন করা হয়েছে। সেখানে নিজেদের তৈরি পণ্য বিক্রির সুযোগও পাবেন তাঁরা। এদিনের অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকবেন কেন্দ্রীয় ক্ষুদ্র, ছোট ও মাঝারি শিল্পমন্ত্রী জিতন রাম মাঝি এবং রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। বাংলায় প্রকল্পটি চালু হওয়ার কয়েক মাসের মধ্যেই তৃতীয় বর্ষপূর্তির অনুষ্ঠান কলকাতায় হওয়ায় রাজ্যের ঐতিহ্যবাহী কারিগরদের সামনে কেন্দ্রীয় প্রকল্পের সুবিধাগুলি তুলে ধরার সুযোগ তৈরি হয়েছে।
পিএম বিশ্বকর্মা যোজনায় মোট ১৮ ধরনের ঐতিহ্যবাহী পেশার সঙ্গে যুক্ত মানুষকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। কাঠমিস্ত্রি, কামার, কুমোর-সহ বিভিন্ন পেশার কারিগরদের আধুনিক সরঞ্জাম ব্যবহারের সুযোগ করে দেওয়া, তাঁদের কাজের দক্ষতা বাড়ানো এবং প্রাতিষ্ঠানিক ঋণের মাধ্যমে ব্যবসা বা পেশাকে এগিয়ে নেওয়াই এই প্রকল্পের অন্যতম উদ্দেশ্য। একইসঙ্গে ডিজিটাল লেনদেন এবং পণ্য বাজারজাত করার ক্ষেত্রেও প্রশিক্ষণ ও সহায়তার ব্যবস্থা রয়েছে।
বাংলায় এই প্রকল্প কার্যকর করার প্রশাসনিক প্রক্রিয়া শুরু হয় চলতি বছরের মে মাসে। ১৪ মে রাজ্য সরকারের তরফে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের পর প্রকল্প পরিচালনার জন্য রাজ্য পর্যায়ে নজরদারি কমিটি এবং জেলাভিত্তিক বাস্তবায়ন কমিটি গঠন করা হয়। এরপর উপযুক্ত উপভোক্তা বাছাই, যাচাই এবং নথিভুক্তির কাজ বিভিন্ন ধাপে এগিয়েছে। ইতিমধ্যেই প্রশিক্ষণ দেওয়ার প্রক্রিয়াও শুরু হয়েছে।
প্রকল্পের আওতায় যোগ্য মহিলা কারিগরদেরও একাধিক সুবিধা পাওয়ার সুযোগ রয়েছে। নির্ধারিত ১৮টি ঐতিহ্যবাহী পেশার কোনও একটির সঙ্গে যুক্ত হলে তাঁরা দক্ষতা বৃদ্ধির প্রশিক্ষণ, প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম, ঋণ সহায়তা এবং বিপণন সংক্রান্ত সুবিধার জন্য বিবেচিত হতে পারেন। ডিজিটাল মাধ্যমে লেনদেনের বিষয়ে প্রশিক্ষণও এই ব্যবস্থার অংশ।
দেশের সামগ্রিক হিসাবেও গত তিন বছরে প্রকল্পটির বিস্তার ঘটেছে। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, এখনও পর্যন্ত প্রায় ৩০ লক্ষ মানুষ এই প্রকল্পে নথিভুক্ত হয়েছেন। তাঁদের মধ্যে আনুমানিক ২৪ লক্ষ ৫০ হাজার জন প্রাথমিক পর্যায়ের প্রশিক্ষণ পেয়েছেন। ফলে রাজ্যের কারিগরদের মধ্যে প্রকল্পের সুবিধা নিয়ে আগ্রহ আরও বাড়বে বলেই মনে করা হচ্ছে। তবে বাংলায় প্রকল্পটি বাস্তবায়নের পথে আরও একটি বিষয় সামনে এসেছে—ঋণ সহায়তা। ক্ষুদ্র, ছোট ও মাঝারি শিল্প প্রতিমন্ত্রী শোভা করন্দলাজের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ২০১৫ সালের ৮ এপ্রিল প্রকল্পটি চালুর পর থেকে ২০২৬ সালের ২৬ জুন পর্যন্ত পশ্চিমবঙ্গে মোট ৫.৮২ কোটি ঋণের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এই প্রকল্পের মূল লক্ষ্য কেবল কারিগরদের আর্থিক সাহায্য করা নয়; তাঁদের পেশাকে আধুনিক ব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত করে আয় ও বাজারের সুযোগ বাড়ানো।