যত সময়, তত খরচ! অভিনব ‘টাইম ক্যাফে’-র সূচনা করে তাক লাগালেন বন্দিতা, হচ্ছে বার্ষিক ২ কোটির আয়

Published on:

Published on:

Follow

বাংলাহান্ট ডেস্ক: মাত্র ২২ বছর বয়সে উদ্যোক্তা হওয়ার স্বপ্ন নিয়ে পথচলা শুরু করেছিলেন মহারাষ্ট্রের নাগপুরের তরুণী বন্দিতা পুরোহিত। সেই সাফল্যের পথ (Success Story) মোটেও সহজ ছিল না। একের পর এক ব্যবসায়িক চ্যালেঞ্জ, আর্থিক ক্ষতি, অংশীদারদের সঙ্গে মতবিরোধ এবং কোভিড-১৯ মহামারির মতো কঠিন পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়েও তিনি থেমে যাননি। বরং প্রতিটি ব্যর্থতাকে শিক্ষায় পরিণত করে গড়ে তুলেছেন এক অভিনব ব্যবসায়িক মডেল। ২০২০ সালে প্রতিষ্ঠা করেন ‘মৌজি’ (Mauji) নামে একটি ‘টাইম ক্যাফে’, যেখানে খাবার বা পানীয় নয়, গ্রাহকরা অর্থ দেন ক্যাফেতে কাটানো সময়ের জন্য। আজ পুনে ও নাগপুরে এই স্টার্টআপের তিনটি শাখা রয়েছে এবং সংস্থার বার্ষিক আয় প্রায় ২ কোটি টাকায় পৌঁছেছে। ভারতের স্টার্টআপ দুনিয়ায় বন্দিতা পুরোহিতের এই সাফল্যের গল্প এখন অনেক তরুণ উদ্যোক্তার কাছেই অনুপ্রেরণা হয়ে উঠেছে।

বন্দিতা পুরোহিতের অসাধারণ সাফল্যের কাহিনি (Success Story)

নাগপুর বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইলেকট্রনিক্স ও টেলিকমিউনিকেশন ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে স্নাতক ডিগ্রি অর্জনের পর থেকেই উদ্যোক্তা হওয়ার পথে হাঁটতে শুরু করেন বন্দিতা। কো-ওয়ার্কিং স্পেসে কাজ করার সময় তিনি লক্ষ্য করেন, বহু মানুষ ক্যাফেতে শুধুমাত্র কাজ করতে, পড়াশোনা করতে কিংবা নিরিবিলি কিছু সময় কাটাতে আসেন। অথচ প্রচলিত ক্যাফেগুলিতে কিছু না কিছু অর্ডার করা বাধ্যতামূলক হওয়ায় অনেকেই অস্বস্তিতে পড়েন। এই সমস্যার সমাধান করতেই তিনি তৈরি করেন ‘টাইম ক্যাফে’-র ধারণা। এখানে ঘণ্টাভিত্তিক মূল্য পরিশোধের মাধ্যমে গ্রাহকরা হাই-স্পিড ওয়াই-ফাই, আনলিমিটেড কমপ্লিমেন্টারি পানীয়, ডিআইওয়াই স্ন্যাক বার এবং নিজের খাবার বাইরে থেকে এনে খাওয়ার স্বাধীনতা পান। এই নতুন ভাবনাই খুব অল্প সময়ের মধ্যে ‘মৌজি’-কে অন্যদের থেকে আলাদা পরিচিতি এনে দেয় (Success Story)।

আরও পড়ুন: একী কাণ্ড! আমেরিকার যুদ্ধজাহাজের হুবহু নকল তৈরি করল চিন, কী পরিকল্পনা বেজিংয়ের?

তবে এই সাফল্যের পেছনে রয়েছে দীর্ঘ সংগ্রামের ইতিহাস। মাত্র ২২ বছর বয়সে উদ্যোক্তা হিসেবে যাত্রা শুরু করা বন্দিতা এর আগে আইটি কনসাল্টিং সংস্থা, কো-ওয়ার্কিং স্পেস, ট্রাভেল স্টার্টআপ এবং টেকসই আসবাবপত্র ডিজাইনের মতো একাধিক উদ্যোগের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। কিন্তু সব উদ্যোগ সফল হয়নি। কখনও ব্যবসা বন্ধ হয়েছে, কখনও বড় আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়তে হয়েছে। এমনকি একসময় পুনের অফিস বন্ধ করে কর্মীদের ছাঁটাই করতেও বাধ্য হয়েছিলেন। তবুও তিনি হাল ছাড়েননি। বরং সেই অভিজ্ঞতাগুলোকেই মূলধন করে আরও বাস্তবসম্মত পরিকল্পনা নিয়ে এগিয়ে যান। তাঁর বিশ্বাস ছিল, ব্যর্থতা কোনও সমাপ্তি নয়, বরং আরও ভালোভাবে শুরু করার সুযোগ।

২০২০ সালের মার্চ মাসে পুনেতে ৬ হাজার বর্গফুটের একটি বাংলো ভাড়া নিয়ে ‘মৌজি’-র কাজ শুরু করেছিলেন বন্দিতা। কিন্তু কয়েক দিনের মধ্যেই দেশে কোভিড-১৯ লকডাউন ঘোষণা হওয়ায় নির্মাণকাজ পুরোপুরি থমকে যায়। এই কঠিন সময়ে বিনিয়োগকারী ও বাড়িওয়ালার সহযোগিতায় ধীরে ধীরে কাজ এগিয়ে নিয়ে যান তিনি। ক্যাফের ইন্টিরিয়র ডিজাইনও নিজেই করেন। অবশেষে সেপ্টেম্বর মাসে নির্মাণ শেষ হয় এবং ডিসেম্বর মাসে আনুষ্ঠানিকভাবে চালু হয় ‘মৌজি’। শুরুতে মুখে মুখে প্রচার এবং সোশ্যাল মিডিয়ার ইতিবাচক প্রতিক্রিয়াই এই স্টার্টআপকে জনপ্রিয় করে তোলে। অল্প সময়ের মধ্যেই এটি তরুণ প্রজন্ম, ফ্রিল্যান্সার, স্টার্টআপ উদ্যোক্তা এবং কর্মজীবী পেশাজীবীদের অন্যতম পছন্দের জায়গায় পরিণত হয়।

Success Story of Vandita Purohit will amaze you.

আরও পড়ুন: এই দেশে বেড়াতে যাওয়ার জন্য ভারতীয়দের মধ্যে হুড়োহুড়ি! ৩ বছরে ৬ গুণ বাড়ল পর্যটকের সংখ্যা

বর্তমানে ‘মৌজি’ শুধু একটি ক্যাফে নয়, বরং একটি পূর্ণাঙ্গ কমিউনিটি স্পেস হিসেবে পরিচিত। এখানে কো-ওয়ার্কিং স্পেসের পাশাপাশি রয়েছে পডকাস্ট ও ফটোগ্রাফির স্টুডিও, লাইব্রেরি, ইভেন্ট স্পেস, মেকার স্পেস এবং আর্ট স্টোর। প্রায় ৩২ জন কর্মীর দল নিয়ে সংস্থাটি বছরে ৪০০ থেকে ৫০০টি বিভিন্ন ধরনের অনুষ্ঠান আয়োজন করে। বন্দিতা পুরোহিতের লক্ষ্য এখানেই থেমে নেই। ‘থার্ড স্পেস হসপিটালিটি’ ধারণাকে সামনে রেখে তিনি ভবিষ্যতে দিল্লি, মুম্বই, বেঙ্গালুরু ও হায়দরাবাদের মতো বড় শহরেও ‘মৌজি’-র বিস্তার ঘটাতে চান। তাঁর দীর্ঘমেয়াদি লক্ষ্য, এই উদ্যোগকে এক হাজার কোটি টাকার ব্যবসায় পরিণত করা। একজন সাধারণ তরুণীর উদ্ভাবনী চিন্তা, অধ্যবসায় এবং সাহস কীভাবে একটি অভিনব ব্যবসায়িক মডেলকে সফল ব্র্যান্ডে পরিণত করতে পারে, বন্দিতা পুরোহিতের সাফল্যের গল্প (Success Story) তারই উজ্জ্বল উদাহরণ।