বাংলা হান্ট ডেস্কঃ তৃণমূল সরকারের লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের (Lakshmir Bhandar) জায়গায় অন্নপূর্ণা যোজনা চালু করেছে বিজেপি সরকার। ইতিমধ্যেই রাজ্যের ১ কোটির বেশি মহিলার কাছে এই প্রকল্পের সুবিধা পৌঁছে গেলেও অনেকের অভিযোগ তাঁরা এখনও টাকা পাননি। এই আবহে শিক্ষক দিবসের অনুষ্ঠান থেকে বিজেপিকে বড় প্রশ্ন করলেন রাজ্যের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee)। বাংলার মহিলাদের কেন লক্ষ্মীর ভাণ্ডার থেকে বঞ্চিত করা হচ্ছে জানতে চান তিনি।
বিজেপিকে নিশানা করে ফের বিস্ফোরক মমতা | (Mamata Banerjee)
শনিবার বিকেলে দেশ বাঁচাও গণমঞ্চের শিক্ষক দিবস অনুষ্ঠানে উপস্থিত হয়েছিলেন প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী। সেখান থেকে বিজেপিকে নিশানা করে বেশ কিছু বিস্ফোরক মন্তব্য করেন তিনি। পাশাপাশি তৃণমূল আমলে বাংলার শিক্ষাব্যবস্থার পরিকাঠামো নিয়ে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর সমালোচনারও কড়া জবাব দেন।
আরও পড়ুনঃ নারী সুরক্ষায় নজিরবিহীন পদক্ষেপ! সরকারি-বেসরকারি বাসের কন্ডাক্টরদের বিরাট ঘোষণা পরিবহণমন্ত্রীর
মমতা বলেন, “শিক্ষাগুরুরা আজ অত্যন্ত লাঞ্ছিত, বঞ্চিত, অসম্মানিত, অত্যাচারিত। অথচ আমাদের যারা ছোটবেলা থেকে শিক্ষা দিয়েছেন, তাঁদের থেকে প্রাপ্ত জ্ঞানই আমাদের সবচেয়ে বড় পাওনা।“
এদিন সকালে নিউটাউনে আয়োজিত শিক্ষক দিবসের অনুষ্ঠান থেকে মুখ্যমন্ত্রী দাবি করেন, তৃণমূল জমানায় রাজ্যের শিক্ষাক্ষেত্রে দুর্নীতি ছাড়া কোনও কাজ হয়নি। বিকেলে এই মন্তব্যের পাল্টা দেন প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, “সব সাংসদ ও বিধায়কদের আমি সর্বদা অন্তত পাঁচটি করে স্কুলের ভবন তৈরি করতে নির্দেশ দিতাম। রাজ্যসভার সাংসদদের তহবিল থেকেও অনেক বিদ্যালয়ের ভবন, অ্যাম্বুলেন্স, সিসিটিভি কভারেজ পরিকাঠামো তৈরি করা হয়েছে। ইতিমধ্যেই যে কাজগুলি করা হয়েছে, সরকার শুধু সেগুলির ঠিকঠাক রক্ষণাবেক্ষণ করলেই প্রচুর উন্নয়ন সম্ভব।“
শিক্ষাব্যবস্থার পাশাপাশি এদিন লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের মতো জনকল্যাণমুখী প্রকল্প ও হকার উচ্ছেদ নিয়েও প্রশ্ন তোলেন মমতা। তিনি জানতে চান, “কোনও বিকল্প ব্যবস্থা না করে দরিদ্র মানুষের জীবন জীবিকা কেন কেড়ে নেওয়া হচ্ছে? হকারদের দোকান কেন ভেঙে দেওয়া হচ্ছে? কেনই বা রাজ্যের মহিলাদের লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের সুবিধা থেকে বঞ্চিত করা হচ্ছে?”

এদিন বিজেপিকে ‘রুচিহীন’, ‘সংস্কৃতিহীন’ দল বলে আক্রমণ করেন তৃণমূল নেত্রী। বর্তমান রাজ্য সরকারের প্রচার নীতি নিয়ে সুর চড়িয়ে তিনি বলেন, “নন্দনের ভিতর অনুষ্ঠান হচ্ছে। এদিকে গোটা চত্বরে মাইক লাগিয়ে দেওয়া হয়েছে। জীবনে কখনও এরম দেখিনি। আমি প্রত্যেক বছর আন্তর্জাতিক কলকাতা চলচ্চিত্র উৎসব করেছি। তবে কোনও দিন এই ধরণের বিষয় দেখিনি। এরা একটা রুচিহীন, ভাষাহীন, নীতিহীন, শব্দহীন, সম্প্রীতিহীন ও সংস্কৃতিহীন দল। এরা দেশটাকেও চেনে না, বাংলাটাকেও চেনে না।“
শিক্ষক দিবসের সকালে নিউটাউনে আয়োজিত অনুষ্ঠানে তৃণমূল সরকার ও তৎকালীন শিক্ষাব্যবস্থার বেহাল দশা নিয়ে সরব হয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। বেশ কিছু বিস্ফোরক অভিযোগও করেছিলেন তিনি। কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই তাঁর মন্তব্যের পাল্টা দেওয়ার পাশাপাশি আরও একাধিক বিষয়ে বিজেপিকে নিশানা করলেন তাঁর পূর্বসূরি তথা প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।













