বাংলা হান্ট ডেস্ক: ইতিমধ্যেই ভারত (India) সিন্ধু জলচুক্তি (Indus Waters Treaty) স্থগিত করায় রীতিমতো ঘুম উড়েছে পাকিস্তানে। শুধু তাই নয়, ভারতের উদ্দেশ্যে একের পর এক হুমকিও দিচ্ছে তারা। যদিও, এই আবহেই একটি চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে এসেছে। জানা গিয়েছে যে, সিন্ধু জল চুক্তি সংক্রান্ত ভারতের সিদ্ধান্তের পর, পাকিস্তানের জঙ্গি সংগঠন লস্কর-ই-তৈবা (Lashkar- E-Taiba) এখন জলপথে হামলার প্রস্তুতি শুরু করেছে। নিরাপত্তা সূত্র অনুযায়ী, লস্কর তার জঙ্গিদের জলপথের মাধ্যমে অভিযান চালানোর প্রশিক্ষণ দিচ্ছে এবং এর জন্য পাকিস্তান অধিকৃত জম্মু ও কাশ্মীরের (PoK) মংলা ড্যাম এলাকা ব্যবহার করা হচ্ছে।
ভারত (India) সিন্ধু জলচুক্তি স্থগিত করায় লস্কর-ই-তৈবার নতুন ষড়যন্ত্র!
গোয়েন্দা সূত্রে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, লস্করের শীর্ষ কমান্ডার হারিস দার একটি প্রশিক্ষণ শিবিরে জঙ্গিদের উদ্দেশ্যে জল-সংক্রান্ত অভিযানের প্রস্তুতি নিয়ে ভাষণ দিয়েছে। যেখানে জানানো হয়েছে, ১০ দিনের প্রাথমিক কোর্স সম্পন্ন হয়েছে এবং এখন মংলা ড্যামে পরবর্তী প্রশিক্ষণ শুরু হবে।

এদিকে, হারিস দার জঙ্গিদের আরও বলে, ‘এখন আসল কাজ শুরু হবে। আমরা জল নিয়ে প্রস্তুতি নিয়েছি। আর আমাদের জলের সমস্যা ভারতের সঙ্গে।’ সে দাবি করে যে, পাকিস্তান ২০২৬ সালে জলের সমস্যা নিয়ে কিছু একটা করতে পারে।
আরও পড়ুন: ২০২৭-এর ODI বিশ্বকাপের প্রস্তুতি শুরু টিম ইন্ডিয়ার! রোহিত-বিরাট খেলবেন না সব ম্যাচ?
জলপথ দিয়ে অনুপ্রবেশ ও আক্রমণের কৌশল: এদিকে, নিরাপত্তা সংস্থাগুলি এই বিবৃতিগুলিকে গুরুত্ব সহকারে নিচ্ছে। তারা মনে করছে যে, লস্কর-ই-তৈবা এখন প্রচলিত অনুপ্রবেশের পাশাপাশি জলপথ দিয়ে অনুপ্রবেশ ও আক্রমণের কৌশলও অবলম্বন করছে। মংলা ড্যামকে অতীতেও জঙ্গি কর্মকাণ্ডে ব্যবহার করা হয়। তদন্তকারী সংস্থাগুলির এটাও জানতে পেরেছিল যে, ২৬/১১ মুম্বাই হামলার ষড়যন্ত্রে জড়িত সন্ত্রাসবাদীরাও ওই এলাকায় প্রশিক্ষণ পেয়েছিল।
আরও পড়ুন: Reliance Jio নাকি Airtel? কোন কোম্পানির ৪৪৯ টাকার পোস্টপেইড প্ল্যান সবথেকে বেশি লাভজনক?
জঙ্গি শিবির, জলপথ এবং সন্দেহজনক কার্যকলাপের দিকে নজর: পাহেলগাঁও জঙ্গি হামলার কথিত মাস্টারমাইন্ড সাইফুল্লাহ খালিদ কাসুরিকেও এই প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে দেখা গেছে। যেটি ইঙ্গিত দেয় যে লস্কর তার পুরনো নেটওয়ার্ক পুনরায় সক্রিয় করার চেষ্টা করছে। ভারতীয় নিরাপত্তা সংস্থাগুলি এখন সীমান্তের ওপারে জঙ্গি শিবির, জলপথ এবং সন্দেহজনক কার্যকলাপের ওপর কড়া নজর রাখছে। বিশেষ করে সিন্ধু জল চুক্তি সংক্রান্ত উত্তেজনার মধ্যে, জল বিষয়ে জঙ্গি সংগঠনগুলির বিবৃতিকে নিরাপত্তার দৃষ্টিকোণ থেকেও গুরুত্বপূর্ণ বলে বিবেচনা করা হচ্ছে।













