আর রেহাই নেই শত্রুদের! মহাকাশ থেকে ভারতকে রক্ষা করবে Stratospheric Airship, খরচ ১৫,০০০ কোটি

Published on:

Published on:

Follow

বাংলা হান্ট ডেস্ক: বিশ্বব্যাপী দ্রুত পরিবর্তনশীল পরিস্থিতির মাধ্যমে সময়ের সঙ্গে তাল মিলিয়ে ভারত (India) ক্রমশ তার প্রতিরক্ষা সক্ষমতা বৃদ্ধি করছে। ঠিক এই আবহে এবার একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ আপডেট সামনে এসেছে। প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী জানা গিয়েছে যে, শত্রুদের ওপর নজরদারি এবং গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহের জন্য নয়াদিল্লি দেশীয় প্রযুক্তিতে একটি স্ট্র্যাটোস্ফিয়ারিক এয়ারশিপ তৈরির পরিকল্পনা (Stratospheric Airship Project) নিয়ে কাজ শুরু করেছে। এই অত্যাধুনিক প্রকল্পটির জন্য একাধিক বেসরকারি প্রতিষ্ঠানও প্রতিযোগিতা করছে। ইকোনমিক টাইমসের একটি রিপোর্ট অনুসারে, এই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্পটি ভারতীয় বিমান বাহিনীর ডিরেক্টরেট অফ অপারেশনস (রিমোট)-এর তত্ত্বাবধানে পরিচালিত হচ্ছে। রিপোর্টে বলা হয়েছে যে, একটি প্রোটোটাইপ এয়ারশিপ তৈরির জন্য নির্বাচিত অংশীদারদের সরকারি ফান্ডিং সরবরাহ করা হবে। এই প্রকল্পের উদ্দেশ্য হল এমন একটি হাই-অলটিটিউড প্ল্যাটফর্ম তৈরি করা, যা ২০ কিলোমিটারেরও বেশি উচ্চতায় নিরবিচ্ছিন্ন নজরদারি থেকে শুরু করে গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ এবং দূরপাল্লার যোগাযোগে সক্ষম হবে।

মহাকাশ থেকে ভারতকে রক্ষা করবে Stratospheric Airship (Stratospheric Airship Project):

সরকার ৭০ শতাংশ পর্যন্ত ফান্ড দেবে: এই প্রকল্পটিকে এয়ারশিপ-বেসড হাই অলটিটিউড সিউডো স্যাটেলাইট (AS-HAPS) নাম দেওয়া হয়েছে। প্রকল্পটি প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের ‘মেক ফার্স্ট’ নীতির অধীনে তৈরি করা হচ্ছে। যার আওতায় সরকার নির্বাচিত বেসরকারি সংস্থাগুলির রিচার্জ এবং ডেভলপমেন্টের ব্যয়ের ৭০ শতাংশ পর্যন্ত সাহায্য করতে পারে। ইতিমধ্যেই ডিফেন্স অ্যাকুইজিশান কাউন্সিল (Defence Acquisition Council) তথা DAC ফেব্রুয়ারিতে প্রকল্পটি অনুমোদন করেছে। এর মোট ব্যয় প্রায় ১৫,০০০ কোটি টাকা হবে বলে অনুমান করা হচ্ছে। এর মধ্যে ডেভেলপমেন্টের খরচ এবং নির্দিষ্ট সংখ্যক সিস্টেম ক্রয়ের খরচ অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

Detailed information about India's Stratospheric Airship Project.

ড্রোন ও স্যাটেলাইটের সমন্বয়ে একটি নতুন নজরদারি প্ল্যাটফর্ম তৈরি করা হবে: জানিয়ে রাখি যে, রিপোর্ট অনুসারে, AS-HAPS-কে প্রায় ১২ কিলোমিটার উচ্চতায় উড়ন্ত হাই-অলটিটিউড ড্রোন এবং ৫০০ থেকে ২,০০০ কিলোমিটার উচ্চতায় থাকা লো আর্থ অরবিট স্যাটেলাইটের মধ্যে সমন্বয় করে কাজ করার জন্য ডিজাইন করা হচ্ছে। এই আকাশযানটি একটানা কয়েক মাস ধরে একটি নির্দিষ্ট এলাকা পর্যবেক্ষণ করতে সক্ষম হবে। এটি অপটিক্যাল সেন্সর থেকে শুরু করে রাডার এবং ইলেকট্রনিক ইন্টেলিজেন্স ব্যবস্থা দিয়ে সজ্জিত থাকবে। যা শত্রুপক্ষের কার্যকলাপ পর্যবেক্ষণে সহায়তা করবে।

আরও পড়ুন: ভারত সিন্ধু জলচুক্তি স্থগিত করায় লস্কর-ই-তৈবার নতুন ষড়যন্ত্র! জলপথে হামলার প্রস্তুতি, সতর্ক তদন্ত সংস্থাগুলি

প্রতিযোগিতায় একাধিক বেসরকারি সংস্থা: উল্লেখ্য যে, প্রতিরক্ষা মন্ত্রক এই প্রকল্পের জন্য বেশ কয়েকটি ভারতীয় বেসরকারি মহাকাশ সংস্থার সঙ্গে যোগাযোগ করেছে। তাদের প্রযুক্তিগত সক্ষমতা এবং আর্থিক সামর্থ্যের ভিত্তিতে অন্তত ২ টি সংস্থাকে অংশীদার হিসাবে নির্বাচিত করা হবে। যদিও ভারতে কোনও বেসরকারি সংস্থা এখনও এই প্রযুক্তি প্রদর্শন করেনি; তবে, অনুমান করা হচ্ছে যে সরকারি ফান্ডিং এই ক্ষেত্রে সংস্থাগুলির মধ্যে প্রতিযোগিতা বাড়াবে।

আরও পড়ুন: ২০২৭-এর ODI বিশ্বকাপের প্রস্তুতি শুরু টিম ইন্ডিয়ার! রোহিত-বিরাট খেলবেন না সব ম্যাচ?

ইতিমধ্যেই পরীক্ষা চালিয়েছে DRDO: Defence Research and Development Organisation তথা DRDO ইতিমধ্যেই এই প্রযুক্তির ওপর কাজ করেছে। ২০২৫ সালের মে মাসে, DRDO মধ্যপ্রদেশে প্রায় ১৭ কিলোমিটার উচ্চতায় একটি যন্ত্রসজ্জিত পেলোড বহনকারী এয়ারশিপের উড়ান পরীক্ষা চালায়। প্রতিরক্ষা মন্ত্রণক একটি ফিক্সড উইং HAPS তৈরির পরিকল্পনা নিয়েও কাজ করছে। যেটি ভূমি থেকে উড়ান সম্পন্ন করে দূরপাল্লার অভিযান পরিচালনা করতে সক্ষম হবে। সামগ্রিকভাবে, ভারত প্রযুক্তি ব্যবহার করে মহাকাশ থেকে  একটি স্বদেশী নজরদারি নেটওয়ার্ক তৈরি করতে চায়। এযা সীমান্ত নিরাপত্তায় গোয়েন্দা কার্যক্রম ও যোগাযোগ সক্ষমতাকে নতুন শক্তি জোগাতে পারে।