ODI বিশ্বকাপের নতুন ফরম্যাট প্রকাশ করলো ICC, টুর্নামেন্টে ৩ বার মুখোমুখি হবে ভারত-পাকিস্তান!

Published on:

Published on:

Follow

বাংলা হান্ট নিউজ ডেস্কঃ আসন্ন ওডিআই বিশ্বকাপের (2027 ODI World Cup) আগে সকলকে চমকে দিলো আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিলের (ICC)। তাদের প্রকাশিত নতুন করে সাজানো ফরম্যাট মেনে আফ্রিকার মাটিতে আয়োজিত হতে চলেছে ২০২৭ সালের বিশ্বকাপ। এই ফরম্যাট সামনে আসা মাত্র জল্পনা বেড়েছে ক্রিকেটপ্রেমীদের মধ্যে। অনেকেই এই ফরম্যাটের সমর্থন করছেন, আবার অনেকে এটিকে আইসিসির ব্যবসায়িক ভাবে লাভবান হওয়ার একটি উপায় হিসেবে গণ্য করছেন। নতুন এই ফরম্যাট অনুসারে গোটা টুর্নামেন্টে তিনবার মুখোমুখি হওয়ার সম্ভবনা দেখা যাচ্ছে ভারত এবং পাকিস্তানের (India vs Pakistan) মধ্যে।

অনেকেই ফুটবল বিশ্বকাপ এবং ফিফার উদাহরণ টেনে বলছেন যেখানে ফুটবল বিশ্বকাপে আরও দলের সংখ্যা বাড়িয়ে ফুটবল বিশ্বে তুলনামূলক পিছিয়ে থাকা দেশগুলোর অংশগ্রহণের সুযোগ করে দিচ্ছে, সেখানে আইসিসি সম্পূৰ্ণ উল্টো পথে হাঁটছে। বিশ্বকাপের জন্য আইসিসি এমন একটি ফরম্যাট বেছে নিয়েছে যা খাতায় কলমে ওয়ান ডে বিশ্বকাপে দলের সংখ্যা ১০ থেকে বাড়িয়ে ১৪টি করলেও বাস্তবে নিম্নসারির দলগুলোর টুর্নামেন্টের গুরুত্বপূর্ণ পর্বে অংশগ্রহণের সুযোগকে শেষ করে দিচ্ছে।

ওডিআই বিশ্বকাপের এই নতুন ফরম্যাট অনুযায়ী টুর্নামেন্টের মূল পর্বে যোগ্যতা অর্জনকারী দলগুলোর মধ্যে র‍্যাঙ্কিংয়ের দিক থেকে একদম শেষে থাকা তিনটি দেশগুলির মধ্যে কেবলমাত্র একটি দেশ টুর্নামেন্টের মূলপর্বে স্থান পাবে। অর্থাৎ টুর্নামেন্টের মূলপর্ব শুরু হওয়ার আগেই বাকি দুটি র‍্যাঙ্কিংয়ে পিছিয়ে থাকা দেশ টুর্নামেন্ট থেকে ছিটকে যাবে।

আরও পড়ুন: গম্ভীর নয়, কোহলির সাথে কথা বলে ২০২৭ বিশ্বকাপের ভারতীয় দল গঠন করছেন শুভমান গিল!

তবে আইসিসির পরিচালনা পর্ষদ বিষয়টি এভাবে দেখছে না। তাদের তরফ থেকে জানানো হয়েছে যে নতুন এই ফরম্যাটের উদ্দেশ্য হলো যে টুর্নামেন্টে গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচের সংখ্যা বাড়ানো এবং অর্থহীন ম্যাচের সংখ্যা কমানো। এই ফরম্যাটের মধ্যে দিয়ে ক্রিকেট জগতের সবচেয়ে বড় দেশগুলির একাধিকবার একে অপরের মুখোমুখি হওয়ার সুযোগও বাড়ছে, যার অর্থ হলো ভিউয়ার সংখ্যা বৃদ্ধি। আসুন এক নজরে দেখে নেওয়া যাক এই নতুন ফরম্যাটটি ঠিক কেমন……

এই প্রতিযোগিতার সবচেয়ে পিছিয়ে থাকা র‍্যাঙ্কিংয়ের তিনটি দেশকে নিয়ে আয়োজিত ‘সুপার সিরিজ’-এর মধ্যে দিয়ে টুর্নামেন্ট আরম্ভ হবে। রাউন্ড-রবিন ফরম্যাটে এই তিনটি দলের মধ্যে থেকে বিজয়ী নির্বাচন করে তাকে বড় দেশগুলির সঙ্গে পরবর্তী ধাপে খেলার সুযোগ দেওয়া হবে। এবার অবশিষ্ট ১২টি দেশকে দুটি সমান সংখ্যা বিশিষ্ট গ্রুপে ভাগ করা হবে। প্রতিটি দেশ নিজ গ্রুপের অন্য দেশগুলির বিরুদ্ধে একবার করে মাঠে নামবে। এই পর্বের খেলা শেষ হলে প্রতিটি গ্রুপের শীর্ষ তিনটি দল এবং দুই গ্রূপের মধ্যে থেকে সেরা চতুর্থ দলকে বেছে নিয়ে আয়োজন করা ‘সুপার সেভেন’ পর্ব।

আরও পড়ুন: ব্যাটে বলে দুরন্ত অক্ষর! রোহিত-বিরাট ব্যর্থ হলেও অসাধারণ জয় পেলো শুভমান গিলের ভারত

এই নির্দিষ্ট পর্বের যোগ্যতা অর্জনকারী সাতটি দল ‘রাউন্ড-রবিন’ পদ্ধতিতে একে অপরের বিরুদ্ধে একে অপরের বিরুদ্ধে মাঠে নামবে। এই পর্ব শেষে টেবিলের শীর্ষে থাকা চারটি দল নিয়ে আয়োজিত হবে সেমিফাইনাল। এই পর্যায়ে টেবিলের প্রথম স্থানে থাকা দল প্রথম সেমিতে মুখোমুখি হবে চতুর্থ স্থানে থাকা দলের। দ্বিতীয় ও তৃতীয় স্থানে থাকা দেশেদুটিকে নিয়ে আয়োজিত হবে দ্বিতীয় সেমিফাইনাল। দুই সেমিফাইনাল জয়ী দলের মধ্যে মোকাবিলা হবে ফাইনালে।

আরও পড়ুন: অপ্রতিরোধ্য ফর্মে শুভমান গিল, কোহলি বা শচীনের ঝুলিতেও নেই এমন রেকর্ড গড়লেন ভারতীয় অধিনায়ক!

যেহেতু গ্রূপ নির্বাচনের লটারি আইসিসি প্রকাশ্যে আয়োজন করে না, তাই ব্যবসায়িক স্বার্থেই সাম্প্রতিক অতীতে দেখা গিয়েছে বারংবার বিশ্বকাপের মঞ্চে একই গ্রূপে জায়গা পেয়েছে ভারত ও পাকিস্তান। আগামী বছর ওডিআই বিশ্বকাপেও এমনটা হওয়ার সম্ভবনা রয়েছে। সেক্ষেত্রে গ্রূপ পর্বের পর যদি দুই দেশ সুপার সেভেনের যোগ্যতা অর্জন করে তাহলে নিশ্চিতভাবে সুপার সেভেন পর্বে ফের দেখা হবে দুই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বীর। তারপর দুই দেশ সেই পর্বে টেবিলের শীর্ষস্থানে থাকা ৪ দলের মধ্যে জায়গা পেলে ফাইনাল বা সেমিফাইনালে ফের অপরের মুখোমুখি হতে পারে। অর্থাৎ প্রথমবারের মতো এক বিশ্বকাপে চারবার দেখা হতে পারে ভারত ও পাকিস্তানের।