৮ সপ্তাহের মধ্যে নিয়োগপত্র দিতে হবে! রাজ্যকে বড় নির্দেশ হাইকোর্টের, কোন মামলায়?

Published on:

Published on:

Calcutta High Court orders state to give Government job in former police constable son case
Follow

বাংলা হান্ট ডেস্কঃ ফের মানবিক সিদ্ধান্ত নিল কলকাতা হাইকোর্ট (Calcutta High Court)। এক প্রয়াত সরকারি কর্মচারীর ছেলের মামলায় রাজ্যকে বড় নির্দেশ দিল বিচারপতি বিশ্বরূপ চৌধুরী ও বিচারপতি মধুরেশ প্রসাদের ডিভিশন বেঞ্চ। আগামী আট সপ্তাহের মধ্যে মামলাকারীকে সরকারি চাকরির (Government Job) নিয়োগপত্র দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

ডেডলাইন বেঁধে চাকরির নিয়োগপত্র দেওয়ার নির্দেশ | (Calcutta High Court)

রাজ্য পুলিশের কনস্টেবল ছিলেন বিকাশরঞ্জন রায়। ২০০৯ সালে গুড়াপে কর্মরত অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়। সেই সময় তাঁর পরিবারের কারও চাকরি পাওয়ার অধিকার ছিল। বিকাশরঞ্জনের স্ত্রীর বয়স তখন ছিল ৫২ বছর। অন্যদিকে ছেলে আকাশরঞ্জন ছিল নাবালক।

আরও পড়ুনঃ বিয়ের মরসুমে বড় টুইস্ট সোনার দামে! আজ ১ গ্ৰাম হলমার্ক হলুদ ধাতুর দর কত হল জানুন

বিকাশরঞ্জনের মৃত্যুর ৬ মাসের মধ্যে কমপ্যাশনেট গ্রাউন্ডে চাকরির জন্য আবেদন জানিয়েছিলেন তাঁর স্ত্রী। ২০১৩ সালে ছেলে সাবালক হওয়ার পর তাঁর নাম চাকরির জন্য সুপারিশ করেন বিকাশরঞ্জনের স্ত্রী। বিষয়টি তিন সদস্যের স্ক্রিনিং কমিটির কাছে যাওয়ার পর তাঁরা আকাশরঞ্জনকে বাবার চাকরি দেওয়ার সুপারিশ করে। তবে ২০২২ সালে স্বরাষ্ট্র দফতরের বিশেষ সচিব সেই সুপারিশ খারিজ করে দেন।

এরপর সেই নির্দেশ চ্যালেঞ্জ করে স্টেট অ্যাডমিনিস্ট্রেটিভ ট্রাইব্যুনাল তথা স্যাটের দ্বারস্থ হন আকাশরঞ্জন। তবে কোনও সুরাহা হয়নি। তৎকালীন রাজ্য সরকারের সিদ্ধান্ত বহাল রেখেছিল স্যাট। এরপর কলকাতা হাইকোর্টে মামলা করেন আকাশরঞ্জন। এবার সেই মামলাতেই বড় রায় দেওয়া হল।

মামলার শুনানিতে আকাশরঞ্জনের আইনজীবী সুশান্ত পাল সওয়াল করেন, কমপ্যাশনেট অ্যাপয়েন্টমেন্টের ক্লজ ১০ (এএ) অনুসারে এই আবেদনের নিষ্পত্তি হওয়ার দরকার থাকলেও বাস্তবে তা হয়নি। ধারা বলছে, বিশেষ পরিস্থিতিতে সংশ্লিষ্ট সরকারি কর্মচারীর মৃত্যুর পাঁচ বছর অবধি কমপ্যাশনেট গ্রাউন্ডে চাকরির আবেদন জানানো যায়। এক্ষেত্রে বিকাশরঞ্জনের মৃত্যুর পর তাঁর পরিবারের কোনও সদস্য চাকরিযোগ্য ছিলেন না। মামলাকারী সাবালক হওয়ার পর এই চাকরি পাওয়ার যোগ্য হয়েছিলেন।

পাল্টা জোরালো সওয়াল করে বিরোধিতা করেছিল সরকারপক্ষ। তবে শেষমেষ আকাশরঞ্জনের পক্ষেই রায় দেয় হাইকোর্ট। বিচারপতি চৌধুরী ও বিচারপতি প্রসাদের ডিভিশন বেঞ্চ জানিয়েছে, আগামী আট সপ্তাহের মধ্যে আকাশরঞ্জনকে সরকারি চাকরির নিয়োগপত্র দিতে হবে।

Calcutta High Court

কোনও সরকারি কর্মীর যদি কর্মরত অবস্থায় মৃত্যু হয় তাহলে তাঁর পরিবারের জন্য কমপ্যাশনেট গ্রাউন্ডে চাকরির ব্যবস্থা রয়েছে। তবে কোন ক্ষেত্রে মৃত সরকারি কর্মচারীর পরিবারের কোনও সদস্যকে সেই চাকরি দেওয়া হবে সেই নিয়ে নানা জটিলতা আছে।

নিয়ম বলছে, কোনও সরকারি কর্মচারীর কর্মরত অবস্থায় মৃত্যু হলে, তাঁর মৃত্যুর ছয় মাসের মধ্যে পরিবারকে কমপ্যাশনেট গ্রাউন্ডে চাকরির আবেদন করতে হয়। বিকাশরঞ্জনের স্ত্রী তা করেছিলেন। তবে তা সত্ত্বেও প্রায় ১৭ বছর ধরে নানা জটিলতায় সেই চাকরি আটকেছিল। অবশেষে কলকাতা হাইকোর্টের রায়ে সেই জটিলতা কাটল।