বাংলা হান্ট ডেস্কঃ একটি ট্রেন দুর্ঘটনার ক্ষতিপূরণ মামলার শুনানিতে গুরুত্বপূর্ণ মন্তব্য করল সুপ্রিম কোর্ট (Supreme Court)। ২০১৫ সালের একটি দুর্ঘটনাকে ঘিরে আদালতে পৌঁছয় মামলা। সেই মামলার রায় দিতে গিয়ে রেলের নথিতে ব্যবহৃত একটি শব্দবন্ধ, যাত্রীর অধিকার এবং দুর্ঘটনার পর ক্ষতিপূরণ পাওয়ার বিষয়েও একাধিক গুরুত্বপূর্ণ মন্তব্য করেছে দেশের শীর্ষ আদালত।
কী বলল সুপ্রিম কোর্ট (Supreme Court)?
শুক্রবার বিচারপতি সঞ্জয় করোল এবং বিচারপতি এন. কোটিস্বর সিংয়ের বেঞ্চ জানায়, কোনও যাত্রীকে ‘সেকেন্ড ক্লাস প্যাসেঞ্জার’ বলে উল্লেখ করা ঠিক নয়। আদালতের (Supreme Court) মতে, ‘সেকেন্ড ক্লাস’ বলতে কোচের শ্রেণি বোঝানো যেতে পারে, কিন্তু যাত্রীর পরিচয় হিসেবে এই শব্দ ব্যবহার করা উচিত নয়। তাই রেলকে তাদের ম্যানুয়াল ও সরকারি নথিতে এই শব্দবন্ধ ব্যবহার নিয়ে নতুন করে ভাবার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আদালত আরও বলেছে, এই ধরনের শব্দ দেশের পুরনো সামাজিক শ্রেণিবিভাগের কথা মনে করিয়ে দেয় এবং সংবিধানের চেতনার সঙ্গে তা খাপ খায় না।
উল্লেখ্য, মামলার সূত্রপাত ২০১৫ সালে। চলন্ত ট্রেন থেকে পড়ে চন্দ্রকান্ত ঠাক্কর নামে এক ব্যক্তির মৃত্যু হয়। এরপর তাঁর পরিবার রেলের কাছে ক্ষতিপূরণ দাবি করে। তবে দুর্ঘটনার পর তাঁর টিকিট উদ্ধার করা যায়নি। পরিবারের দাবি ছিল, তিনি বৈধ টিকিট কেটেই ট্রেনে উঠেছিলেন। কিন্তু তাঁর ব্যাগও খুঁজে পাওয়া যায়নি, ফলে টিকিটও আর মেলেনি। এই কারণ দেখিয়ে রেলওয়ে ক্লেমস ট্রাইব্যুনাল ক্ষতিপূরণের আবেদন খারিজ করে দেয়। পরে মধ্যপ্রদেশ হাইকোর্টও সেই সিদ্ধান্ত বহাল রাখে। এরপর মৃত ব্যক্তির স্ত্রী সুপ্রিম কোর্টের (Supreme Court) দ্বারস্থ হন। তিনি ৪ লক্ষ টাকা ক্ষতিপূরণ এবং ১৮ শতাংশ সুদ দাবি করেছিলেন।
মামলার শুনানিতে সুপ্রিম কোর্ট (Supreme Court) জানায়, দুর্ঘটনার পর টিকিট না পাওয়া গেলেই কাউকে অবৈধ বা বিনা টিকিটের যাত্রী বলে ধরে নেওয়া যায় না। আদালত উল্লেখ করে, ওই ব্যক্তি ট্রেনে ছিলেন এবং ট্রেন থেকেই পড়ে তাঁর মৃত্যু হয়েছে, এ নিয়ে কোনও বিতর্ক নেই। তাই শুধু টিকিট উদ্ধার না হওয়ার ভিত্তিতে তাঁকে প্রকৃত যাত্রী হিসেবে অস্বীকার করা ঠিক নয়।
এর আগে রিনা দেবী বনাম ভারত সরকার এবং ডোলি রানি সাহা বনাম ভারত সরকার মামলায় দেওয়া রায়ের কথাও উল্লেখ করে সুপ্রিম কোর্ট (Supreme Court)। আদালত জানায়, টিকিট না মিললেও কোনও ব্যক্তির বৈধ যাত্রী হিসেবে মর্যাদা স্বয়ংক্রিয়ভাবে নষ্ট হয়ে যায় না। রায়ে যাত্রী নিরাপত্তা নিয়েও মন্তব্য করেছে শীর্ষ আদালত। আদালতের বক্তব্য, নিরাপত্তার দায় শুধু রেলের নয়, যাত্রীদেরও সতর্ক থাকতে হবে। চলন্ত ট্রেনে ওঠা-নামা বা ঝুঁকি নিয়ে যাতায়াত এড়ানো উচিত বলেও জানানো হয়েছে।

আরও পড়ুনঃ OBC মামলা থেকে সরে রাজ্য, এবার কি খুলছে নিয়োগের জট? ৭ দিনের ডেডলাইন নবান্নের
সবশেষে সুপ্রিম কোর্ট (Supreme Court) জানিয়েছে, রেলওয়ে ক্লেমস ট্রাইব্যুনাল এবং মধ্যপ্রদেশ হাইকোর্টের আগের সিদ্ধান্ত যথাযথ ছিল না। সেই সিদ্ধান্ত বাতিল করে মৃত ব্যক্তির স্ত্রীকে ৮ লক্ষ টাকা ক্ষতিপূরণ দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে শীর্ষ আদালত।













