বাংলাহান্ট ডেস্ক: পাকিস্তানের অশান্ত প্রদেশ বালোচিস্তানে (Balochistan) ফের রক্তক্ষয়ী হামলার ঘটনা সামনে এসেছে। স্বাধীন বালোচিস্তানের দাবিকে ঘিরে দীর্ঘদিন ধরে চলা সংঘাতের আবহে এবার পাকিস্তানি (Pakistan) সেনার একটি কনভয়ের উপর বড়সড় হামলা চালানোর দাবি করেছে বিচ্ছিন্নতাবাদী সংগঠন বালোচ লিবারেশন আর্মি (BLA)। বিদ্রোহীদের বক্তব্য অনুযায়ী, মাস্তুং জেলার খদকোচা এলাকায় সেনা সদস্যদের বহনকারী একটি বাসকে লক্ষ্য করে আত্মঘাতী হামলা চালানো হয়। এরপর নিরাপত্তা বাহিনী ও বিদ্রোহীদের মধ্যে তীব্র গুলির লড়াই শুরু হয়। বিএলএ-র দাবি, এই হামলায় ৪৫ জনেরও বেশি পাকিস্তানি সেনার মৃত্যু হয়েছে এবং আরও কয়েকজন আহত হয়েছেন। যদিও পাকিস্তান সরকার এখনও পর্যন্ত এই হতাহতের সংখ্যা আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করেনি। ঘটনার পর গোটা এলাকায় উচ্চ সতর্কতা জারি করা হয়েছে এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও জোরদার করা হয়েছে।
স্বাধীন বালোচিস্তান’ (Balochistan)-এর দাবির পরেই পাক সেনার কনভয়ে ভয়াবহ হামলা বালোচদের
হামলার দায় স্বীকার করে বিএলএ-র মুখপাত্র জিয়ন্দ বালোচ একটি বিবৃতি প্রকাশ করেছেন। সেখানে দাবি করা হয়েছে, সংগঠনের বিশেষ ইউনিট ‘ফতহ স্কোয়াড’ এই অভিযান পরিচালনা করেছে। তাঁদের বক্তব্য অনুযায়ী, আত্মঘাতী বিস্ফোরণের পর কনভয়ের নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা বাহিনীর সঙ্গে দীর্ঘক্ষণ গুলির লড়াই চলে। স্থানীয় কয়েকটি সংবাদমাধ্যমেও বিস্ফোরণ ও সংঘর্ষের খবর প্রকাশিত হয়েছে। বিদ্রোহী সংগঠনটি জানিয়েছে, হামলার ছবি ও ভিডিও তারা শীঘ্রই প্রকাশ করবে বলেও দাবি করেছে। অন্যদিকে ইসলামাবাদ সেনা কনভয়ের উপর হামলার ঘটনা স্বীকার করলেও হতাহত সেনার প্রকৃত সংখ্যা বা ক্ষয়ক্ষতির বিষয়ে বিস্তারিত কিছু জানায়নি। তবে কোয়েটার একাধিক হাসপাতালে জরুরি অবস্থা জারি করা হয়েছে বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে।
আরও পড়ুন: অন্নপূর্ণা যোজনা টাকা পাননি ? ফের আবেদনকারীদের তথ্য খতিয়ে দেখছে প্রশাসন
এই হামলার আগে বিদ্রোহী গোষ্ঠীর পক্ষ থেকে ‘স্বাধীন বালোচিস্তান’ ঘোষণার দাবিও সামনে এসেছিল। তাদের বক্তব্য ছিল, প্রদেশের একটি বড় অংশ তাদের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। যদিও এই দাবির স্বাধীনভাবে কোনও আন্তর্জাতিক বা নিরপেক্ষ সূত্রে নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি। দীর্ঘদিন ধরেই বালোচিস্তানে পাকিস্তানি নিরাপত্তা বাহিনী ও বিচ্ছিন্নতাবাদী সংগঠনগুলির মধ্যে সংঘর্ষ চলছে। পাকিস্তান সরকার এই সংগঠনগুলিকে সন্ত্রাসবাদী বলে চিহ্নিত করেছে, অন্যদিকে বিদ্রোহীরা নিজেদের বালোচ জনগণের অধিকার ও স্বাধীনতার আন্দোলনের অংশ বলে দাবি করে। ফলে এই অঞ্চলে পরিস্থিতি দীর্ঘদিন ধরেই অস্থির এবং উত্তেজনাপূর্ণ।
বিশ্লেষকদের মতে, বালোচিস্তানের কৌশলগত গুরুত্ব এবং বিপুল খনিজ সম্পদ এই সংঘাতকে আরও জটিল করে তুলেছে। বিশেষ করে চিন-পাকিস্তান অর্থনৈতিক করিডর প্রকল্প চালু হওয়ার পর থেকে এই অঞ্চলে নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ অনেকটাই বেড়েছে। বিদ্রোহী সংগঠনগুলির অভিযোগ, বালোচিস্তানের প্রাকৃতিক সম্পদ ব্যবহার করা হলেও স্থানীয় মানুষের উন্নয়ন, কর্মসংস্থান ও মৌলিক সুযোগ-সুবিধার ক্ষেত্রে পর্যাপ্ত উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। অন্যদিকে পাকিস্তান সরকার বরাবরই দাবি করে এসেছে, উন্নয়ন প্রকল্পে বাধা সৃষ্টি করতেই সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলি হামলা চালিয়ে চলেছে এবং বিদেশি শক্তিরও এতে মদত রয়েছে। এই পরস্পরবিরোধী দাবির মধ্যেই সংঘাতের আগুন আরও ছড়িয়ে পড়ছে।

আরও পড়ুন: সোনমের পর এবার অভিজিৎ! অনির্দিষ্টকালের জন্য অনশনের ঘোষণা ককরোচ জনতা পার্টির প্রতিষ্ঠাতার
সাম্প্রতিক এই হামলা ফের একবার স্পষ্ট করে দিল যে, বালোচিস্তানে (Balochistan) নিরাপত্তা পরিস্থিতি এখনও অত্যন্ত উদ্বেগজনক। সেনা কনভয়ের উপর বড় ধরনের হামলার ঘটনায় পাকিস্তানের নিরাপত্তা কৌশল নিয়েও নতুন করে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে এই অঞ্চলে আরও বড় ধরনের সামরিক অভিযান বা পাল্টা পদক্ষেপের সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। তবে বিদ্রোহীদের হতাহতের দাবি এবং নিয়ন্ত্রণের পরিসংখ্যান স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। পরিস্থিতির উপর নজর রাখছে আন্তর্জাতিক মহলও। কারণ, দক্ষিণ এশিয়ার নিরাপত্তা, আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা এবং গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক করিডরের ভবিষ্যতের সঙ্গে বালোচিস্তানের পরিস্থিতি এখন ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে রয়েছে।













