বৈদ্যুতিক গাড়ির ইন্স্যুরেন্স কেন হয় ব্যয়বহুল? কেনার আগে মাথায় রাখুন এই বিষয়গুলি

Published on:

Published on:

Why is Electric Car Insurance Expensive? Find out the details.
Follow

বাংলা হান্ট ডেস্ক: সময়ের সঙ্গে তাল মিলিয়ে ভারতে বৈদ্যুতিক গাড়ির চাহিদা ক্রমশ বৃদ্ধি পাচ্ছে। এদিকে, পেট্রোল ও ডিজেলের লাগাতার দাম বৃদ্ধির কারণেও অনেকে খরচ বাঁচাতে এবং পরিবেশ দূষণ রোধে বৈদ্যুতিক গাড়ির প্রতি ঝুঁকছেন। তবে, বৈদ্যুতিক গাড়ির ইন্স্যুরেন্সের (Electric Car Insurance) বিষয়টি অনেকের কাছেই একটি সাধারণ পেট্রোল বা ডিজেল গাড়ির তুলনায় অনেকটাই বেশি বলে মনে হয়। বর্তমান প্রতিবেদনে এই প্রসঙ্গে বিস্তারিত তথ্য উপস্থাপিত করা হবে এবং নতুন বৈদ্যুতিক গাড়ি কেনার ক্ষেত্রে ইন্স্যুরেন্স করানোর বিষয়ে কোন কোন দিক মাথায় রাখতে হবে সেই বিষয়গুলিও তুলে ধরা হবে।

বৈদ্যুতিক গাড়ির ইন্স্যুরেন্স (Electric Car Insurance) কেন হয় ব্যয়বহুল?

জানিয়ে রাখি যে, বৈদ্যুতিক গাড়ির সবচেয়ে দামি অংশ হল এর ব্যাটারি। অনেক ক্ষেত্রে, গাড়ির মোট দামের ৩০ থেকে ৫০ শতাংশই ব্যাটারির পেছনে খরচ হতে পারে। দুর্ঘটনা থেকে শুরু করে বন্যা, আগুন বা অন্য কোনও যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে ব্যাটারি ক্ষতিগ্রস্ত হলে, তা প্রতিস্থাপন বা মেরামত করতে লক্ষ লক্ষ টাকা খরচ হতে পারে। এই কারণেই
ইন্স্যুরেন্স কোম্পানিগুলি একটি EV-র প্রিমিয়াম নির্ধারণ করার সময় ব্যাটারির খরচকে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হিসাবে বিবেচনা করে।

Why is Electric Car Insurance Expensive? Find out the details.

মেরামতও অধিক ব্যয়বহুল: এদিকে, বৈদ্যুতিক গাড়িগুলি অত্যাধুনিক ইলেকট্রনিক সিস্টেম, সেন্সর, কন্ট্রোল ইউনিট এবং সফটওয়্যার দিয়ে সজ্জিত থাকে। তাই, এগুলি মেরামত করতে বিশে প্রযুক্তি এবং ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের প্রয়োজন হয়। বর্তমানে দেশের প্রতিটি শহরে EV মেরামত কেন্দ্র না থাকায় মেরামত আরও ব্যয়বহুল হয়ে পড়ে। এই কারণেই E-র ইন্স্যুরেন্স প্রিমিয়ামও কিছুটা বেশি হতে পারে।

ব্যাটারি কভার অবশ্যই করানো প্রয়োজন: উল্লেখ্য যে, আপনি যদি একটি ইলেকট্রিক গাড়ি কেনেন, তাহলে ইন্স্যুরেন্স করার সময় ব্যাটারি প্রটেকশন কভার অন্তর্ভুক্ত করতে ভুলবেন না। দুর্ঘটনা থেকে শুরু করে বন্যা, আগুন, শর্ট সার্কিট বা অন্যান্য বৈদ্যুতিক সমস্যার কারণে ব্যাটারির ক্ষতি হলে এই কভারটি আর্থিক সহায়তা প্রদান করে। যেহেতু EV-র ব্যাটারি অত্যন্ত দামি হয়, তাই এই কভারটি ভবিষ্যতে লক্ষ লক্ষ টাকার খরচ বাঁচাতে পারে।

আরও পড়ুন: iPhone চার্জ দেওয়ার সময়ে করবেন না এই ৪ টি ভুল! নাহলেই দ্রুত নষ্ট হবে ব্যাটারি

শুধুমাত্র কম প্রিমিয়ামের ওপর ভিত্তি করে কোনও সিদ্ধান্ত নেবেন না: অনেকেই কম প্রিমিয়ামের পলিসি বেছে নেন, কিন্তু পরে বুঝতে পারেন যে তাতে প্রয়োজনীয় সুবিধার অভাব রয়েছে। তাই, ইন্স্যুরেন্স কেনার সময় শুধু দাম নয়, বরং কী কী সুবিধা দেওয়া হচ্ছে, সেটাও বিবেচনা করুন। একটি ভালো EV ইন্স্যুরেন্স পলিসিতে ব্যাটারি প্রটেকশন কভার থেকে শুরু করে, জিরো ডেপ্রিসিয়েশন, রোডসাইড অ্যাসিস্ট্যান্স, বৈদ্যুতিক ও ইলেকট্রনিক যন্ত্রাংশের কভারেজ এবং প্রাকৃতিক দুর্যোগ ও বন্যার বিরুদ্ধে সুরক্ষা অন্তর্ভুক্ত থাকা উচিত। এই সমস্ত বৈশিষ্ট্য তুলনা করার পরেই সঠিক পলিসিটি বেছে নেওয়া শ্রেয় হবে।

আরও পড়ুন: বিশ্বব্যাপী অস্থিরতার আবহেও বজায় থাকবে ভারতের অর্থনীতির গতি! GDP-র প্রসঙ্গে সামনে এল বড় রিপোর্ট

রোডসাইড অ্যাসিস্ট্যান্টও গুরুত্বপূর্ণ: জানিয়ে রাখি যে, ইলেকট্রিক গাড়ি বেশ নির্ভরযোগ্য, কিন্তু দীর্ঘ সফরে ব্যাটারি শেষ হয়ে গেলে বা চার্জিং স্টেশন না পাওয়া গেলে সমস্যা হতে পারে। এই ধরণের পরিস্থিতিতে রোডসাইড অ্যাসিস্ট্যান্ট বিশেষভাবে কার্যকর। এই সুবিধাটি টোয়িং, অন-রোড সহায়তা এবং অনেক ক্ষেত্রে, প্রয়োজনে নিকটতম চার্জিং স্টেশন বা সার্ভিস সেন্টারে পৌঁছে দেওয়ার মতো পরিষেবা প্রদান করে।