বিশ্বব্যাপী অস্থিরতার আবহেও বজায় থাকবে ভারতের অর্থনীতির গতি! GDP-র প্রসঙ্গে সামনে এল বড় রিপোর্ট

Published on:

Published on:

India economy will maintain momentum despite global uncertainty.
Follow

বাংলা হান্ট ডেস্ক: বিশ্বজুড়ে অস্থিরতার আবহেই ভারতের (India) অর্থনীতির (Economy) প্রসঙ্গে এবার একটি বড় সুসংবাদ সামনে এসেছে। মূলত, গ্লোবাল প্রফেশনাল সার্ভিস ফার্ম ডেলয়েট ইন্ডিয়ার (Deloitte India) অনুমান অনুযায়ী, ২০২৬-২৭ অর্থবর্ষে ভারতের অর্থনীতি ৬.৫ শতাংশ থেকে ৬.৮ শতাংশ হারে বৃদ্ধি পেতে পারে। সংস্থাটি মনে করে যে, বছরের দ্বিতীয়ার্ধে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড আরও গতি পাবে। এর প্রধান কারণ হতে পারে উৎসবের মরশুমে কেনাকাটা বৃদ্ধি, সুদের হারে স্বস্তি এবং বিশ্ব পরিস্থিতির সম্ভাব্য ক্রমান্বয়িক উন্নতি।

বিশ্বব্যাপী অস্থিরতার আবহেও বজায় থাকবে ভারতের (India) অর্থনীতির গতি:

ডেলয়েট তার ‘ইকোনমিক আউটলুক’ রিপোর্টে জানিয়েছে যে, ২০২৬ সালের শুরুতে ভারতের অর্থনীতি মোটামুটি স্থিতিশীল অবস্থানে ছিল। তবে, পরবর্তীকালে মধ্যপ্রাচ্যে ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনা বৃদ্ধি পাওয়ায় ওই ঘটনা বিশ্ব বাণিজ্য ও বিনিয়োগকে প্রভাবিত করে। এদিকে, হরমুজ প্রণালীর মতো গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথগুলি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় অপরিশোধিত তেল এবং অন্যান্য নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দামে অস্থিরতা বেড়ে যায়। এর প্রভাব ভারতের বাণিজ্য ঘাটতি, বৈদেশিক বিনিয়োগ এবং রুপির মূল্যের ওপরেও দেখা গিয়েছিল।

India economy will maintain momentum despite global uncertainty.

এই কারণগুলি অর্থনীতির জন্য হুমকি: জানিয়ে রাখি যে, রিজার্ভ ব্যাঙ্ক অফ ইন্ডিয়া সম্প্রতি চলতি অর্থবর্ষের জন্য তাদের GDP গ্রোথের পূর্বাভাস ৬.৯ শতাংশ থেকে কমিয়ে ৬.৬ শতাংশ করেছে। গত অর্থবর্ষে অর্থাৎ ২০২৫-২৬ সালে, ভারতের অর্থনীতি ৭.৭ শতাংশ হারে বৃদ্ধি পেয়েছিল। ডেলয়েটের অর্থনীতিবিদ রুমকি মজুমদার বলেন, বিশ্বব্যাপী পরিস্থিতি আগের চেয়ে বেশি অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে।

আরও পড়ুন: গড়লেন নতুন ইতিহাস! প্রথম ভারতীয় হিসাবে জাপান ওপেন জিতলেন পিভি সিন্ধু

তবে, রিজার্ভ ব্যাঙ্ক অফ ইন্ডিয়ার নীতি এবং সরকারি পদক্ষেপ এই চ্যালেঞ্জগুলি কিছুটা হলেও মোকাবিলা করতে পারে। যদিও, সমস্যা বাড়িয়েছে এল নিনো। মূলত, এল নিনোর কারণে দুর্বল মৌসুমী বায়ু এবং কৃষি উৎপাদন হ্রাস ও খাদ্যপণ্যের মূল্যবৃদ্ধি এখনও সবচেয়ে বড় ঝুঁকি হিসেবে রয়ে গেছে।

আরও পড়ুন: সিরিজ শুরু ২৩ জুলাই থেকে! টিম ইন্ডিয়ার সঙ্গে নতুন সফর শুরু বৈভব সূর্যবংশীর

ভারতের জন্য ইতিবাচক দিক: উল্লেখ্য যে, রিপোর্টে বলা হয়েছে, ভারতের জন্য একটি ইতিবাচক দিক হল সরকার বিভিন্ন দেশের সঙ্গে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি তথা FTA সম্পাদনের জন্য দ্রুতগতিতে কাজ করছে। এর ফলে ভারতীয় সংস্থাগুলি নতুন বিদেশি বাজার পাবে এবং রফতানি বাড়াতে সাহায্য করবে। তবে, রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়েছে যে শুধু নতুন বাজার পেলেই তা যথেষ্ট নয়। এর পাশাপাশি ভারতকে তার শিল্পগুলিকে শক্তিশালী করতে, উন্নত পরিকাঠামো নির্মাণ করতে এবং দেশীয় সাপ্লাই চেন জোরদার করার পাশাপাশি, ব্যবসা সংক্রান্ত নিয়ম সহজ করতে এবং নতুন প্রযুক্তি ও দক্ষতা উন্নয়নে বিনিয়োগ বৃদ্ধি করতে হবে।