বাংলা হান্ট ডেস্কঃ একুশে জুলাই তৃণমূলের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক কর্মসূচি। প্রতি বছরের মতো এবারও এই কর্মসূচিকে ঘিরে কলকাতায় জোর প্রস্তুতি চলছিল। তবে সভা শুরুর কয়েক ঘণ্টা আগে মঞ্চে ভাঙচুর এবং প্রস্তুতিতে বাধা দেওয়ার অভিযোগ ঘিরে নতুন করে রাজনৈতিক বিতর্ক শুরু হয়েছে। সেই ঘটনাকে কেন্দ্র করে সোমবার গভীর রাত পর্যন্ত সভাস্থলেই অবস্থান করেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee) ও দলের শীর্ষ নেতৃত্ব।
একুশে জুলাইয়ের মঞ্চ ভাঙচুরের অভিযোগ মমতার (Mamata Banerjee)
একুশে জুলাইয়ের কর্মসূচি শুরু হওয়ার কথা। তার আগে সোমবার সন্ধ্যায় বিড়লা তারামণ্ডলের সামনে সভাস্থল পরিদর্শনে যান প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee)। সেখানে প্রস্তুতির কাজ খতিয়ে দেখার পর তিনি ফিরে যান। কিন্তু রাত সাড়ে ১১টা নাগাদ হঠাৎ পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। এরপর ফের সভাস্থলে পৌঁছে যান মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। তৃণমূলের তরফে সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি ভিডিও পোস্ট করে অভিযোগ করা হয়, রাতের অন্ধকারে এসে তাদের একুশে জুলাইয়ের সভার মঞ্চ ভাঙচুর করা হয়েছে।
সভাস্থলে দাঁড়িয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee) বিজেপির বিরুদ্ধে সরাসরি অভিযোগ তোলেন। তাঁর দাবি, বিভিন্ন জায়গায় তাদের মঞ্চ ভাঙার চেষ্টা চলছে। বিদ্যুতের লাইন কেটে দেওয়া হয়েছে এবং পোস্টার-ব্যানার ছিঁড়ে ফেলা হয়েছে। তাঁর অভিযোগ, ৬০ থেকে ৬৫ জন বাইকে করে এসে এই ঘটনার সঙ্গে জড়িত ছিল। মমতা আরও দাবি করেন, কর্মী-সমর্থকদের সভাস্থলে পৌঁছাতেও বাধা দেওয়া হচ্ছে। কালীঘাট তৃণমূলের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, পুরো বিষয়টি পুলিশকে জানানো হয়েছে।
এদিকে তৃণমূল সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, বিভিন্ন জায়গায় বিজেপির লোকজন জড়ো হয়েছে বলে তারা খবর পেয়েছিলেন। তাই কোনও অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে রাতভর মঞ্চ পাহারা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। তিনি জানান, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়-সহ দলের নেতারা সভাস্থলেই ছিলেন। দলের মুখপাত্র কুণাল ঘোষ বলেন, আদালতের অনুমতি মেনেই কর্মসূচির আয়োজন করা হয়েছে। তারপরও কর্মসূচিতে বাধা দেওয়ার চেষ্টা চলছে বলে তাদের অভিযোগ। কারা এই ঘটনার পিছনে রয়েছে, সে সম্পর্কেও তাদের কাছে নির্দিষ্ট তথ্য রয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।

আরও পড়ুনঃ কলকাতা পুলিশে বড় বদলের ইঙ্গিত! ‘স্মার্ট পুলিশিং’ থেকে ATS মডেল, নিরাপত্তায় শাহের নতুন রূপরেখা
রাতভর বিড়লা তারামণ্ডল চত্বরে ছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee), অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়, মহুয়া মৈত্র, কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়-সহ একাধিক নেতা। দফায় দফায় তারা সভাস্থলের পরিস্থিতি খতিয়ে দেখেন। মঙ্গলবার সকালে সেখানে দলের একটি অভ্যন্তরীণ বৈঠকও হয়। পরে বাড়ির উদ্দেশ্যে রওনা দেন মমতা। অন্যদিকে, সভার শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি চলতে থাকে এবং আজ সকাল থেকেই কর্মী-সমর্থকদের আসা শুরু হয়।













