বাংলা হান্ট ডেস্ক : কলকাতা হাইকোর্টের (Calcutta High Court) নজরে আবারও উঠে এল রাজ্যে ডিম ছোড়ার ঘটনা। সোমবার সেই মামলার শুনানিতে আইনজীবী কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় (Kalyan Banerjee) দাবি করেন, পরিস্থিতির উন্নতি তো হয়ইনি, বরং ডিম ছোড়ার প্রবণতা আরও বেড়েছে। সেই অভিযোগের প্রেক্ষিতেই নতুন ঘটনার বিস্তারিত তথ্য আদালতে জমা দেওয়ার নির্দেশ দেয় ডিভিশন বেঞ্চ।
ডিম ছোড়া মামলায় কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় (Kalyan Banerjee)
আগেই এ ধরনের ঘটনার বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপ নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছিল আদালত এবং পুলিশের জন্য পৃথক গাইডলাইন তৈরির নির্দেশও দিয়েছিল। শুনানির শুরুতেই আদালতের দৃষ্টি আকর্ষণ করে কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় জানান,”ডিম ছোড়ার ঘটনা বেড়েছে। মহিলা সাংসদকে ডিম ছোড়া হয়েছে। ডিজিপি কাছে সাহায্য চেয়েও পাননি।” কল্যাণ আদালতে অভিযোগ করেন, শুধু বিচ্ছিন্ন কোনও ঘটনা নয়, জনপ্রতিনিধিদের কাজ করাই কঠিন হয়ে উঠছে। তাঁর বক্তব্য, তৃণমূলের জনপ্রতিনিধিরা বিভিন্ন জায়গায় বাধার মুখে পড়ছেন। আদালত চত্বর থেকে থানা—কোথাও নিরাপত্তা মিলছে না। এমনকি অভিযোগ জানাতে থানায় গেলেও ১৫ থেকে ২০ জন দুষ্কৃতী ঘিরে ধরছে বলেও তিনি দাবি করেন।
এই প্রসঙ্গেই রাজনৈতিক মহলের একাংশের মন্তব্য নিয়েও আদালতে সরব হন কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি বলেন, “এক রাজ্যের মন্ত্রী বলছে, ডিম না ছুড়ে পাথর ছুড়ুন। আর এক মন্ত্রী বলছে আমি কি মঞ্চে নৃত্য করতে বলব?” এরপর ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতার কথাও বিচারপতিদের সামনে তুলে ধরেন তিনি। রবিবার মুর্শিদাবাদ যাওয়ার পথে কী ঘটেছিল, তা জানিয়ে কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন,”রবিবার আমি মুর্শিদাবাদ যাচ্ছিলাম। হরিণঘাটা চাকা পাংচার হলে দাঁড়াই। সেখানে আমাকে চোর চোর স্লোগান দেওয়া হচ্ছে। ডিম ছোড়ার কথা বলা হচ্ছে। গাইডলাইন করে কী হবে, পুলিশই তো কাজ করছে না।”
কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের বক্তব্য শোনার পর ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতির ডিভিশন বেঞ্চ জানতে চায়, ৩০ জুনের পর রাজ্যে ঠিক কতগুলি নতুন ডিম ছোড়ার ঘটনা ঘটেছে। আদালতের নির্দেশ, এই সময়ের সমস্ত ঘটনার নির্দিষ্ট তথ্য জনস্বার্থ মামলাকারীদের হলফনামার মাধ্যমে জমা দিতে হবে। একইসঙ্গে চার সপ্তাহ পরে মামলার পরবর্তী শুনানির দিনও নির্ধারণ করা হয়।
এই মামলার শুনানিতে প্রধান বিচারপতি বলেন ,”ঘটনা বেড়েছে নথি দেখান, কটা অভিযোগ দায়ের করেছেন।” রাজ্যের পক্ষ থেকে এএজি রাজদীপ মজুমদার আদালতকে জানান,”রাজ্য রিপোর্ট দাখিল করেছে। পুলিশের উদ্দেশ্যে গাইডলাইন তৈরি করা হয়েছে। যে ঘটনা বলা তা এই রিপোর্ট মে সম্ভবত উল্লেখ পেয়েছে।”

আরও পড়ুন : ২১ জুলাইয়ের আগে উত্তেজনা! মঞ্চে হামলার অভিযোগ তুলে সরাসরি বিজেপিকে নিশানা মমতার
সব পক্ষের বক্তব্য শোনার পর ডিভিশন বেঞ্চ স্পষ্ট করে জানায়, “জনস্বার্থ মামলাকারী, রাজ্য। সকলেই চাইছে ডিম ছোড়া বন্ধ করতে। তাই নতুন করে ঘটনাগুলির বিস্তারিত দিন।” আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী, আগামী শুনানির আগে ৩০ জুনের পর ঘটে যাওয়া সমস্ত ডিম ছোড়ার ঘটনার বিস্তারিত তথ্য নথিভুক্ত করে জমা দিতে হবে। সেই তথ্যের ভিত্তিতেই পরবর্তী পর্যায়ে মামলার শুনানিতে আদালত বিষয়টি নিয়ে আরও পর্যালোচনা করবে।













