বাংলা হান্ট ডেস্ক : রাজ্য সরকার পালা বদলের পর স্বাস্থ্যখাতে বিশেষ নজর রয়েছে নতুন সরকারের। জনসাধারণকে সুবিধা দিতে চালু হয়েছে আয়ুষ্মান ভারত প্রকল্প (Ayushman Bharat)। আয়ুষ্মান ভারত কার্ড করতে গেলে দরকার হচ্ছে ই-কেওয়াইসি। আর তা করতে গিয়েই চ্যালেঞ্জের মুখে পড়ছে উপভোক্তারা। এবার সেই প্রযুক্তিগত জটিলতার সমস্যা মেটাতে বড় পদক্ষেপ নিল রাজ্যের স্বাস্থ্য দপ্তর।
আয়ুষ্মান ভারতের (Ayushman Bharat) সুবিধা দিতে পদক্ষেপ সরকারের
দীর্ঘদিন ধরেই প্রযুক্তিগত জটিলতা, প্রশিক্ষণের অভাব এবং পোর্টালের সমস্যায় ধাক্কা খাচ্ছিল আয়ুষ্মান ভারত প্রকল্পের ই-কেওয়াইসি প্রক্রিয়া। উপভোক্তাদের দ্রুত পরিষেবা পৌঁছে দিতে ডাক বিভাগের সঙ্গে সমঝোতা করেছে দপ্তর। ফলে খুব শীঘ্রই রাজ্যের প্রতিটি ডাকঘর থেকেই আয়ুষ্মান ভারতের ই-কেওয়াইসি করানো যাবে।
স্বাস্থ্যদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, ইতিমধ্যেই প্রায় ১ কোটি ৪ লক্ষ উপভোক্তার ই-কেওয়াইসি সম্পন্ন হয়েছে। তবে রাজ্য সরকারের লক্ষ্য আরও অনেক বড়। ৬ কোটিরও বেশি মানুষকে আয়ুষ্মান ভারত প্রকল্পের আওতায় আনার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। সেই কারণে বিপুল সংখ্যক উপভোক্তার নথি যাচাইয়ের কাজ দ্রুত শেষ করতে ডাক বিভাগের সহযোগিতা নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে।
আয়ুষ্মান ভারত প্রকল্পে প্রত্যেক সুবিধাভোগীর জন্য একটি নির্দিষ্ট পরিচয় নম্বর বরাদ্দ থাকে। ই-কেওয়াইসি সম্পূর্ণ করতে সেই নম্বর অপরিহার্য। বর্তমানে আশাকর্মীরা বাড়ি বাড়ি গিয়ে উপভোক্তাদের কাছ থেকে প্রয়োজনীয় তথ্য সংগ্রহ করছেন। প্রশাসনের তরফে তাঁদের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে উপভোক্তাদের তালিকা এবং নির্দিষ্ট ফর্ম। সেই ফর্মেই উল্লেখ রয়েছে সংশ্লিষ্ট নম্বর।
জানা যাচ্ছে, আয়ুষ্মান ভারতের কার্ড করার সময় উপভোক্তারা মূলত ই-কেওয়াইসি সম্পন্ন করার সময় সমস্যায় পড়ছেন। অনেকেই বাস্তবে কাজটি করতে গিয়ে সমস্যায় পড়ছেন। শুধু তাই নয়, ই-কেওয়াইসির জন্য ব্যবহৃত অনলাইন পোর্টালেও বারবার প্রযুক্তিগত ত্রুটি দেখা দিচ্ছে। বহু এলাকায় নেটওয়ার্ক না থাকায় কাজ মাঝপথে আটকে যাচ্ছে। কোথাও দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হচ্ছে, আবার কোথাও ই-কেওয়াইসি সম্পূর্ণ করাই সম্ভব হচ্ছে না।

আরও পড়ুন :গাড়ি নিয়ে বেরোনোর আগে দেখে নিন! আজ আপনার শহরে পেট্রল-ডিজেলের দাম কত
নতুন ব্যবস্থায় কীভাবে কাজ হবে, তা স্পষ্ট করেছে ডাক বিভাগ। উপভোক্তাদের সঙ্গে রাখতে হবে আয়ুষ্মান ভারতের নির্দিষ্ট নম্বর, আধার কার্ড এবং মোবাইল ফোন। এরপর ওটিপি যাচাইয়ের মাধ্যমে ই-কেওয়াইসি সম্পূর্ণ করবেন ডাক বিভাগের কর্মীরা। শুধু জেলা বা শহরের প্রধান ডাকঘর নয়, গ্রামীণ এলাকার ব্রাঞ্চ পোস্ট অফিসেও এই পরিষেবা পৌঁছে দেওয়া হবে। ডাক বিভাগকে যুক্ত করার ফলে ই-কেওয়াইসি প্রক্রিয়ায় গতি আসবে বলেই আশা করছে স্বাস্থ্যদপ্তর। এর ফলে আয়ুষ্মান ভারত প্রকল্পের আওতায় থাকা লক্ষ লক্ষ উপভোক্তার নথি যাচাই দ্রুত সম্পন্ন হওয়ার পাশাপাশি স্বাস্থ্য পরিষেবা পাওয়ার পথও আরও সহজ হবে।













