বাংলাহান্ট ডেস্ক: আজকের সাফল্যের কাহিনি (Success Story) রাজস্থানের (Rajasthan) এক প্রত্যন্ত গ্রামের সাধারণ পরিবারের ছেলে হেমন্ত পারিকের (Hemant Pareek)। ছোটবেলা থেকেই অভাব-অনটনের সঙ্গে লড়াই করেই বড় হতে হয়েছে তাঁকে। তাঁর বাবা ছিলেন পুরোহিত, আর মা ১০০ দিনের কাজ বা মনরেগায় দিনমজুর হিসেবে কাজ করতেন। সংসারে স্বচ্ছলতা ছিল না, ফলে পড়াশোনার পাশাপাশি বাস্তব জীবনের কঠিন পরিস্থিতিও খুব কাছ থেকে দেখেছেন হেমন্ত। গ্রামের স্কুলে প্রাথমিক শিক্ষা শেষ করার পর কৃষিশাস্ত্রে বিএসসি পড়েন তিনি। কৃষির প্রতি তাঁর বরাবরই আলাদা টান ছিল এবং ভবিষ্যতে এই ক্ষেত্রেই কাজ করার ইচ্ছা ছিল তাঁর।
হেমন্ত পারিকের অসাধারণ সাফল্যের কাহিনি (Success Story):
কিন্তু একটি ঘটনা তাঁর জীবনের লক্ষ্যটাই বদলে দেয়। একদিন মনরেগায় কাজ করে বাড়ি ফিরে মা জানান, নির্ধারিত প্রায় ২০০ টাকা মজুরির বদলে তাঁকে মাত্র ৭০-৮০ টাকা দেওয়া হয়েছে। মায়ের প্রাপ্য টাকা কেন দেওয়া হয়নি, তার উত্তর জানতে স্থানীয় সরকারি দফতরে যান হেমন্ত। সেখানে মায়ের ন্যায্য মজুরি দাবি করায় তাঁকে কটাক্ষ করে বলা হয়, ‘বেশি কালেক্টর হতে যেও না।’ কথাটি হয়তো সেদিন কয়েক মুহূর্তের জন্যই শোনা হয়েছিল, কিন্তু হেমন্তের মনে তার গভীর প্রভাব পড়ে। অপমানের সেই অভিজ্ঞতাই তাঁকে প্রশাসনিক ব্যবস্থার ভিতর থেকে মানুষের সমস্যার সমাধান করার স্বপ্ন দেখায় (Success Story)।
আরও পড়ুন: মার্কিন সেনাকে হত্যা বা জীবিত ধরলেই মিলবে ৩০,০০০ ডলার! মহিলা হলে পুরস্কার দ্বিগুণ, ঘোষণা ইরানের
এরপরই ইউপিএসসি সিভিল সার্ভিস পরীক্ষার প্রস্তুতি নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন হেমন্ত। অবশ্য স্বপ্ন দেখা যতটা সহজ ছিল, তা বাস্তবায়নের পথ ততটাই কঠিন। পরিবারের আর্থিক পরিস্থিতির কারণে প্রস্তুতির পাশাপাশি তাঁকে বিভিন্ন সরকারি চাকরির পরীক্ষাতেও বসতে হয়েছিল। এমনকি একটি সরকারি স্কুলে পিয়নের পদেও আবেদন করেছিলেন তিনি। কিন্তু সেখানেও সাফল্য আসেনি। একের পর এক বাধা সামনে এলেও হেমন্ত নিজের লক্ষ্য থেকে সরে যাননি। বরং প্রতিটি ব্যর্থতাকেই পরের চেষ্টার জন্য অভিজ্ঞতা হিসেবে কাজে লাগিয়েছেন।
হেমন্তের প্রস্তুতির আরেকটি উল্লেখযোগ্য দিক ছিল, তিনি কোনও নামী প্রথাগত কোচিংয়ের উপর নির্ভর করেননি। সীমিত আর্থিক সামর্থ্যের মধ্যেই প্রয়োজনীয় বই জোগাড় করে নিজে নিজে পড়াশোনা চালিয়ে যান। প্রতিদিন প্রায় ১৮ ঘণ্টা পর্যন্ত পড়তেন বলে জানা যায়। প্রিলিমস পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়ার পর মেইনসের জন্য উত্তর লেখার কৌশলও নিজের চেষ্টায় রপ্ত করেন। নিয়মিত অনুশীলন, পরিশ্রম এবং নিজের উপর বিশ্বাস—এই তিনটিকেই প্রস্তুতির মূল হাতিয়ার করেছিলেন তিনি।

আরও পড়ুন: ‘শত্রু’দেশের সংবাদমাধ্যমে কথা বললেই হতে পারে ৩০ বছরের জেল! ইরানে এবার নতুন আইন
অবশেষে দীর্ঘ অপেক্ষার পর আসে সেই সাফল্য (Success Story)। ২০২৩ সালের ইউপিএসসি সিভিল সার্ভিসেস পরীক্ষার ফল প্রকাশের পর দেখা যায়, হেমন্ত পারিক সর্বভারতীয় মেধাতালিকায় ৮৮৪ নম্বর স্থান অর্জন করেছেন। তাঁর নাম জায়গা করে নেয় ইন্ডিয়ান রেভিনিউ সার্ভিস বা IRS ক্যাডারে। একসময় মায়ের প্রাপ্য মজুরি চাওয়ার কারণে যে তরুণকে ‘কালেক্টর’ হওয়ার কটাক্ষ শুনতে হয়েছিল, শেষ পর্যন্ত সরকারি প্রশাসনেরই একজন গুরুত্বপূর্ণ আধিকারিক হিসেবে নিজের জায়গা তৈরি করলেন তিনি। হেমন্তের গল্প তাই শুধু একটি চাকরি পাওয়ার সাফল্যের কাহিনি নয়; বরং অভাব, অপমান, ব্যর্থতা এবং প্রতিকূলতার মধ্যেও লক্ষ্য স্থির রেখে এগিয়ে যাওয়ার এক অনুপ্রেরণামূলক উদাহরণ।













