বাংলা হান্ট ডেস্কঃ রাজ্যের ওবিসি সংরক্ষণ মামলা (OBC Case) নিয়ে বড় আপডেট মিলল কলকাতা হাইকোর্ট (Calcutta High Court) থেকে। শুভেন্দু সরকারের সিদ্ধান্তে আপাতত হস্তক্ষেপ নয়। অর্থাৎ বিগত ১৮ই মে যে বিজ্ঞপ্তি জারি করা হয়েছিল নতুন রাজ্য সরকারের তরফ থেকে সেটাই বহাল থাকল। ফলে বর্তমানে ওবিসি তালিকা থেকে বাদের খাতাতেই থাকল ৭৪টি জনগোষ্ঠী, আর অন্তর্ভুক্ত রইল ৬৬টি।
OBC Case এ বড় রায় Calcutta High Court এর
আজ হাইকোর্টের ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি তপোব্রত চক্রবর্তী ও বিচারপতি রাজশেখর মান্থার ডিভিশন বেঞ্চে উঠেছিল ওবিসি মামলাটি। আগামী ৬ সপ্তাহের মধ্যে সমস্ত পক্ষকে হলফনামা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে ডিভিশন বেঞ্চ। এই মামলায় ওবিসি তালিকা থেকে ৭৪টি সম্প্রদায়কে বাদ দেওয়ার ঘোষণা করা হয়েছিল। সেই বিজ্ঞপ্তিকে চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে জনস্বার্থ মামলা করেন মিজানুল কবির। এমনকি প্রাক্তন সরকারও সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিল ওবিসি মামলায়। কিন্তু হাইকোর্টে পুরোনো রায়কেই বহাল রাখা হল। তবে বাদ পড়া জনগোষ্ঠিতগুলি যে আর কোনোদিন নতুন করে তালিকার অন্তর্ভুক্ত হতে পারবে না এমনটা কিন্তু বলা হয়নি।
শুনানির সময় মামলাকারীদের পক্ষের আইনজীবী কিশোর দত্ত জানান, ‘রাজ্যের রাজনৈতিক ক্ষমতা বদল হওয়া মানেই আগের সরকারের প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত বাতিল করতে পারে না বর্তমান সরকার। বিগত সরকার যে সম্প্রদায়গুলিকে ওবিসি সংরক্ষণে অন্তর্ভুক্ত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল কলকাতা হাইকোর্টের নির্দেশেই নতুন করে তার তালিকা প্রস্তুত করেছিল সরকার। সেই অনুযায়ী বহু জনগোষ্ঠী ওবিসি সংরক্ষণ পেয়েছিল। এরপর সেই সংরক্ষণের ভিত্তিতেই স্কুল, কলেজে থেকে শুরু করে বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি এমনকি চাকরিতেও জয়েন করেছে নেই। কিন্তু এখন সেই সংরক্ষণ বাতিল ঘোষণা হওয়া মানে একাধিক সমস্যা তৈরি করা’।
আরও পড়ুনঃ পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া অবধি কোনও পদক্ষেপ নয়! অভিষেককে স্বস্তি দিয়ে বড় নির্দেশ হাইকোর্টের
কি জানাল কলকাতা হাইকোর্ট?
এদিন আদালত জানায়, ওবিসি মামলায় বিস্তারিত হলফনামা ছাড়া বিবেচনা করাটা বেশ কঠিন। তাই হলফনামা পাওয়ার পরেই পরবর্তী শুনানিতে সমস্ত দিক খতিয়ে দেখা হবে। এরপর অ্যাডভোকেট জেনারেল সময় চেয়ে নিলে কোর্টের তরফ থেকে ছয় সপ্তাহের সময় দেওয়া হয়েছে।
আসলে প্রাক্তন তৃণমূল সরকারের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠছিল প্রকৃত প্রাপ্যদের বঞ্চিত ধর্মের ভিত্তিতে ওবিসি সংরক্ষণের তালিকা বানানো হয়েছিল। এরপর সেই ওবিসি সার্টিফিকেটের জেরে অনেকেই চাকরিতে জয়েন করে। সম্প্রতি এই সমস্ত পদগুলিকে পুনর্বিবেচনা করা হবে বলে জানানো হয় মন্ত্রিসভার বৈঠকে।
প্রসঙ্গত, ২২শে মে ২০২৪ সালে প্রথম কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতি তপোব্রত চক্রবর্তী ও বিচারপতি রাজশেখর মান্থারের বেঁচে ওঠে মামলাটি। সেই সময়েই তৃণমূলের সংযুক্ত ৭৭টি সম্প্রদায়কে ওবিসি তালিকা থেকে বাদ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়। মামলাটি ইতিমধ্যেই সুপ্রিম করতেও গিয়েছিল। কিন্তু সেখানে মামলা প্রত্যাহার হয়ে যায়। এবার আগামী শুনানিতে কি হয় সেটাই দেখার অপেক্ষা।













